Ajker Patrika

বেনাপোল বন্দর: এক বছরে যাত্রীসংখ্যা কমেছে সাড়ে ১৩ লাখ

  • ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধই মূল কারণ
  • ভিসা পেতে একাধিকবার আবেদন করেও অনিশ্চয়তা
  • ২০২৪ সালে যাত্রী ছিল ২০ লাখের বেশি
আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর) 
বেনাপোল বন্দর: এক বছরে যাত্রীসংখ্যা কমেছে সাড়ে ১৩ লাখ
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ থেকে ভারত ভ্রমণে বিধিনিষেধ, ভিসায় কড়াকড়ি, নানা শর্ত আরোপ আর ভ্রমণ কর বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরে। এক বছরের ব্যবধানে এই বন্দর দিয়ে ভারতগামী ও প্রত্যাবর্তনকারী পাসপোর্টধারী যাত্রীর সংখ্যা কমেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। চিকিৎসা, ব্যবসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতমুখী বাংলাদেশিদের যাতায়াত হঠাৎ কমে যাওয়ায় ভ্রমণ খাতের পাশাপাশি দুই দেশের রাজস্ব আয়েও ধাক্কা লেগেছে।

স্বাভাবিক সময়ে প্রতিবছর এই বন্দর দিয়ে ২০ থেকে ২২ লাখ পাসপোর্টধারী যাতায়াত করতেন। চিকিৎসা, ব্যবসা, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া-আসা করেন তাঁরা। এ থেকে ভ্রমণ কর বাবদ বাংলাদেশ সরকারের বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা এবং ভারতের প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় হতো। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা দেওয়া সীমিত করে ভারত। নতুন নতুন শর্ত আরোপের পাশাপাশি বাড়ানো হয় ভ্রমণ কর। এতে করে আকস্মিকভাবে যাত্রীসংখ্যা কমে যায়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই বন্দর দিয়ে মোট ২০ লাখ ১৪ হাজার ১২ জন পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। তাঁদের মধ্যে ভারতে গেছেন ১০ লাখ ১৮ হাজার ৭৫ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৭ জন। তবে পরের বছর এই চিত্র আমূল বদলে যায়। ২০২৫ সালে মোট যাত্রী নেমে আসে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯২৮ জনে। তাঁদের মধ্যে ভারতে গেছেন ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৮ জন, আর ফিরেছেন ৩ লাখ ২২ হাজার ২২০ জন। এক বছরের ব্যবধানে যাত্রী কমেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৪ জন।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়ে। যাত্রী কমে যাওয়ায় ভারত সরকারের ভ্রমণ খাতে রাজস্ব কমেছে প্রায় ১২১ কোটি টাকা, আর বাংলাদেশ সরকারের আয় কমেছে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ভিসা পেতেই এখন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি। মেডিকেল ভিসার জন্য একাধিকবার আবেদন করতে হচ্ছে, তাতেও নিশ্চয়তা নেই। আবির হোসেন নামের একজন জানালেন, তিনবার আবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি মেডিকেল ভিসা পেয়েছেন। এর মধ্যে ভিসার স্লট কিনতে পাসপোর্টপ্রতি খরচ হয়েছে সাত হাজার টাকা। তাঁর মতে, ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করা না হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে ভারতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ভ্রমণ ব্যয় বেড়ে যাওয়াও যাত্রী কমার বড় কারণ। টাইম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম নামে বেনাপোলের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আজিজুল হক জানান, বর্তমানে একজন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীকে ভারত ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ১ হাজার ৬১ টাকা ভ্রমণ কর, ভারতীয় দূতাবাসকে ১ হাজার ৫০০ টাকা ভিসা ফি দিতে হয়। এর বাইরে ভিসার স্লট কিনতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা, ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে প্রায় ৬০০ টাকা ভ্রমণ কর দিতে হচ্ছে। পাসপোর্ট জমা দিতে ঢাকায় যাতায়াতসহ বাড়তি খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন জানান, স্বাভাবিক সময়ে দিনে ৫ থেকে ৭ হাজার পাসপোর্টধারী এই বন্দর দিয়ে যাতায়াত করেন। তবে এখন এটি কয়েক শতে নেমে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতে গেছেন মাত্র ৫৩৯ জন বাংলাদেশি। তাঁদের সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক ছিলেন ১৯৯ জন এবং অন্যান্য দেশের ছিলেন ৫ জন। মূলত নানা বিধিনিষেধের কারণে যাত্রী কমে যাচ্ছে।

এদিকে ব্যবসা, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার জন্য প্রতিবছর প্রায় আড়াই লাখ ভারতীয় পাসপোর্টধারী বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভিসাপ্রক্রিয়ায় তেমন জটিলতা না থাকায় তাঁদের যাতায়াত তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত