
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহ পার হতে চলেছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। যদিও ইরান বলছে, এমন কোনো আলোচনা হচ্ছে না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা জড়ো করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা দিয়ে যে অভিযান শুরু হয়েছিল, মার্চের শেষ সপ্তাহে এসে তা ইরানের সামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আকারের সেনা মোতায়েনে রূপ নিয়েছে, যা ইরাক যুদ্ধের পর এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ সামরিক উপস্থিতি। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্ট্রাইক গ্রুপ যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয়। অন্যদিকে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড সাময়িকভাবে মেরামতের জন্য ভূমধ্যসাগরে অচল অবস্থায় আছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বিমান হামলায় ইরানজুড়ে ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদর দপ্তর, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর সম্পদ।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ১৪০টির বেশি ইরানি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। জবাবে ইরান প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েল, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কার্যত অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বে প্রতিদিন বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। ফলে এটি এখন সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এখন স্থলবাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। প্রথম দফা হামলার আগের কয়েক সপ্তাহেই ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনা গোপন রাখেননি। জানুয়ারির শেষ দিকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইরানের দিকে বড় বাহিনী যাচ্ছে। অনেক জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে। প্রয়োজন হলে ব্যবহারের জন্য আমরা বড় বহর পাঠাচ্ছি। দেখা যাক কী হয়।’
এই মাসের শুরুতে মার্কিন যুদ্ধবিমান খারগ দ্বীপে হামলা চালানোর পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, মার্কিন বাহিনী সেখানে সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে। তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান যদি প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয়, তবে দ্বীপটির তেল অবকাঠামো পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে। গত মঙ্গলবার পেন্টাগন মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সৈন্যকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেয় বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এই মোতায়েনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের দুই দিক থেকে আসা দুটি মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন, সেন্টকম আরও সামরিক বিকল্প বাড়ানোর জন্য এই অতিরিক্ত বাহিনী চেয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ইরানের ভেতরে থাকা পারমাণবিক উপাদান সরাসরি নিরাপত্তার আওতায় নিতে হতে পারে। তিনি বলেন, ‘কাউকে সেখানে গিয়ে এগুলো সংগ্রহ করতে হবে।’ তবে কে যাবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
যদিও এখনো কোনো স্থল অভিযান অনুমোদিত হয়নি, তবু মার্কিন মেরিনদের উভচর বাহিনী, সেনাবাহিনীর এলিট প্যারাট্রুপার এবং ডিভিশন পর্যায়ের কমান্ড কাঠামোর একত্র উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্পকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিন বাহিনী, এক যুদ্ধক্ষেত্র
উপসাগরের দিকে পাঠানো শক্তি বৃদ্ধি তিনটি আলাদা বাহিনী নিয়ে গঠিত। প্রতিটির উৎস, যাত্রাপথ ও সময়সূচি ভিন্ন। প্রথমটি হলো ত্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ, যার কেন্দ্র ইউএসএস ত্রিপোলি (আমেরিকা-ক্লাস অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট জাহাজ) এবং ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট (এমইইউ)। গত ১৩ মার্চ জাপানের সাসেবো থেকে যাত্রা করা এই বাহিনী মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করে ২৩ মার্চ ব্রিটিশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিয়েগো গার্সিয়ায় পৌঁছায়। মার্চের শেষ বা এপ্রিলের শুরুতে এটি সেন্টকম এলাকায় প্রবেশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়টি হলো বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ, যার কেন্দ্র ইউএসএস বক্সার (ওয়াস্প-ক্লাস অ্যাসল্ট জাহাজ) এবং ১১তম এমইইউ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থান করছিল। ১৯-২০ মার্চের মধ্যে সান দিয়েগো থেকে যাত্রা করা এই বাহিনী প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের আগে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই।
তৃতীয়টি হলো নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে পাঠানো ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্সের প্রায় ২ হাজার সৈন্য, যা সর্বশেষ শক্তিবৃদ্ধি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এই দুই মেরিন গ্রুপ একত্রে অঞ্চলে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বাড়তি মেরিন ও নাবিক সরবরাহ করবে। এর সঙ্গে ৮২তম এয়ারবোর্ন বাহিনী যুক্ত হলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ইউএসএস ত্রিপোলি ও ৩১তম এমইইউ
গালফ অঞ্চলের দিকে যাওয়া দুই জাহাজের মধ্যে ইউএসএস ত্রিপোলি আকারে বড়। সাসেবোতে ইউএসএস নিউ অরলিন্সের সঙ্গে অবস্থানরত এই গ্রুপটি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অগ্রবর্তী উপস্থিতির অংশ। ৩১তম এমইইউতে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন ও নাবিক রয়েছে। এতে শক্তিশালী একটি ব্যাটালিয়ন, আর্টিলারি, উভচর যান এবং বিশেষায়িত ইউনিট অন্তর্ভুক্ত। ২৬১ মিটার দীর্ঘ এবং ৪৫ হাজার টন ওজনের ইউএসএস ত্রিপোলি একদিকে এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান পরিচালনা করতে পারে, অন্যদিকে একই সঙ্গে আকাশ ও সমুদ্রপথে মেরিন মোতায়েন করতে সক্ষম, যেন একটি হালকা বিমানবাহী রণতরি।
আবার ৩১তম এমইইউ হলো মেরিন কোরের একমাত্র স্থায়ীভাবে অগ্রবর্তী মোতায়েনকৃত অভিযাত্রী ইউনিট। ১৯৯৮ সালে ইরাকের অস্ত্র পরিদর্শন সংকটের সময় কুয়েত উপকূলে টহল দেওয়া ‘অপারেশন ডেজার্ট ফক্স’-এও এটি অংশ নিয়েছিল। অপারেশন ডেজার্ট ফক্স ছিল ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ইরাকের বিরুদ্ধে চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন যৌথ বোমা হামলা অভিযান। এটি পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
ইউএসএস বক্সার এবং ১১তম এমইইউ
দ্বিতীয় উভচর নৌদলটি কেন্দ্রীভূত ইউএসএস বক্সারকে ঘিরে। এটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোভিত্তিক ওয়াস্প-শ্রেণির আক্রমণ জাহাজ। বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপে আরও রয়েছে ইউএসএস কমস্টক এবং ইউএসএস পোর্টল্যান্ড। এ দলটি বহন করছে ১১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট (১১তম এমইইউ), যার ঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাম্প পেন্ডলেটনে।
ইউএসএস বক্সার ১৯ মার্চ সান দিয়েগো ত্যাগ করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর মোতায়েন পূর্বনির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় প্রায় তিন সপ্তাহ এগিয়ে আনা হয়েছে। ওমান উপসাগর থেকে প্রায় ২২ হাজার ২০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করায়, এই নৌদলটির যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছাতে কমপক্ষে তিন সপ্তাহ লাগবে। এপ্রিলের মাঝামাঝির আগে তাদের পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই। ইউএসএস ত্রিপোলির মতো ইউএসএস বক্সারও এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য সহায়ক প্ল্যাটফর্ম মোতায়েন করতে সক্ষম।
এদিকে ১১তম এমইইউতে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন ও নাবিক রয়েছে। তিনটি জাহাজে অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার নাবিকও রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে এই ইউনিটের দীর্ঘ যুদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৯০-৯১ সালে এটি কুয়েত উপকূলে ইরাকি বাহিনীকে আটকে রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত এক উভচর বিভ্রান্তিমূলক পরিকল্পনার অংশ ছিল। এই অভিযানটি ইরাকের কুয়েত আক্রমণের পর শুরু হয় এবং এতে ৩৫টি দেশের ৭ লক্ষাধিক সেনা অংশ নেয়।
২০০৪ সালের আগস্টে ১১তম এমইইউ ইরাকের নাজাফ প্রদেশে অভিযান পরিচালনার নেতৃত্ব দেয় এবং ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে।
৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন
ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থিত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অষ্টাদশ এয়ারবোর্ন কোরের মূল শক্তি। এর ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স থেকে প্রায় ২ হাজার সৈন্যকে এখন মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার সৈন্যের এই ব্রিগেড-সমতুল্য বাহিনী মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে মোতায়েন হতে পারে। ৮২তম ডিভিশন সেনাবাহিনীর প্রধান ‘ফোর্সড-এন্ট্রি’ ইউনিট। তারা প্যারাস্যুট আক্রমণ চালানো, বিমানবন্দর দখল করা এবং পরবর্তী বাহিনীর জন্য এলাকা নিরাপদ করার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ভারী সাঁজোয়া সরঞ্জাম ছাড়া মোতায়েন হওয়ায় পাল্টা আক্রমণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় এলাকা ধরে রাখার ক্ষমতা সীমিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নরম্যান্ডি ও নেদারল্যান্ডসে অভিযানসহ তাদের দীর্ঘ যুদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। পরে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ, ২০০১ সালে আফগানিস্তান এবং ২০০৩ সালে ইরাকেও তাদের মোতায়েন করা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানের শীর্ষ আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে যুক্তরাষ্ট্র হত্যার পরও এই ডিভিশনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছিল।
এই বাহিনীগুলো কী করতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সেনা সমাবেশ কোনো স্থলযুদ্ধের ইঙ্গিত নয়, বরং সীমিত সংখ্যক সম্ভাব্য মিশনের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) স্থলযুদ্ধবিষয়ক সিনিয়র ফেলো রুবেন স্টুয়ার্ট আল জাজিরাকে বলেন, এই মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান সম্ভাব্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার সেনা প্রয়োজন হয়েছিল, অথচ ইরান আয়তনে তার চার গুণ। বর্তমানে মোতায়েন হওয়া যুদ্ধশক্তি, সহায়ক বাহিনী বাদ দিয়ে, মাত্র দুটি মেরিন ব্যাটালিয়ন এবং দুটি প্যারাট্রুপার ব্যাটালিয়ন নিয়ে গঠিত। প্রতিটি ব্যাটালিয়নে প্রায় ৮০০ জন করে সৈন্য রয়েছে। মোট সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৬০০।
স্টুয়ার্ট বলেন, ‘এই বাহিনীর আকার ও প্রকৃতি সীমিত সময়ের বিচ্ছিন্ন অভিযানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধের সঙ্গে নয়। উভয়ই দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল, মডুলার বাহিনী। হানা, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল এবং স্বল্পমেয়াদি মিশনের জন্য এগুলো তৈরি, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি প্রয়োজন হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধ চালাতে যে ভারী সাঁজোয়া ইউনিট, পর্যাপ্ত লজিস্টিক সহায়তা এবং কমান্ড কাঠামো দরকার, সেগুলো এখানে নেই। বাস্তবে এটি এমন একটি বাহিনী, যা দ্রুত ও নির্বাচিতভাবে আঘাত হানতে পারে, কিন্তু ইরানের গভীরে বা দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালাতে পারবে না।’
যদিও কোনো স্থল অভিযান অনুমোদিত হয়নি, বাহিনীর আকার ও গঠন এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে অন্তত তিনটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে খারগ দ্বীপ দখল বা অবরোধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরানের উপকূল পরিষ্কার করা, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কঠিন পরিকল্পনা হিসেবে ইরানের পারমাণবিক উপাদান নিরাপদ করা।
খারগ দ্বীপটি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার (১৬ মাইল) দূরে অবস্থিত পাঁচ মাইল (৮ কিলোমিটার) দীর্ঘ একটি প্রবাল দ্বীপ। এখান দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সেখানে সামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খারগের বাইরে, মার্কিন মেরিন বাহিনী হেলিকপ্টার থেকে নেমে হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, মাইনভান্ডার এবং দ্রুত আক্রমণকারী নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারে।
স্টুয়ার্টের মতে, তিনটি বিকল্পের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করা সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সামরিক পরিকল্পনা। তিনি বলেন, এটি সম্ভবত ‘হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকা নিয়ন্ত্রণ বা জাহাজ চলাচলের হুমকি দমন করার মতো সীমিত অভিযানের’ রূপ নেবে। সমুদ্রভিত্তিক ও আঞ্চলিক ঘাঁটি থেকে পরিচালিত উভচর ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতার সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, খারগ দ্বীপ দখল প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হলেও এটি বেশি উসকানিমূলক হবে। কারণ, দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্রে অবস্থিত। তাঁর ভাষায়, ‘অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক উপাদান নিরাপদ করা এই বাহিনী দিয়ে সবচেয়ে কম বাস্তবসম্মত। কারণ, এর জন্য অনেক বড় ও দীর্ঘস্থায়ী স্থল উপস্থিতি দরকার।’
সার্বিকভাবে তিনি সতর্ক করেন, ‘খারগ দ্বীপ বা পারমাণবিক স্থাপনার মতো কৌশলগত অবকাঠামোতে হামলা সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা সৃষ্টি করবে এবং সম্ভবত ইরানের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে।’ তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন বাহিনী মোতায়েন হলে বিশ্বের অন্য কোথাও মার্কিন উপস্থিতি বা মনোযোগ কমে যেতে পারে, যা অন্য শক্তিগুলো কাজে লাগাতে পারে। তাই উত্তেজনার গতিপ্রকৃতি শুধু ওই অঞ্চলে নয়, বৈশ্বিক পরিসরেও মূল্যায়ন করতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পারমাণবিক উপাদান নিরাপদ করার মন্তব্য ইরানের প্রধান স্থাপনাগুলোর ওপর অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে নাতাঞ্জ, ফোর্দো এবং ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টার রয়েছে। এসব স্থাপনায় ইতিমধ্যে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
ন্যাটো বাহিনীর সাবেক সর্বাধিনায়ক অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল জেমস স্টাভরিডিস ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে সতর্ক করে বলেছেন, খারগ দ্বীপে হামলা চালাতে হলে প্রণালি পার হওয়ার সময় ‘বিপুল ড্রোন হামলা, বিস্ফোরক বোঝাই ছোট নৌকা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের’ মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, দ্বীপে অবস্থানরত ইরানি বাহিনীকে মার্কিন বাহিনীর প্রথম ঢেউ সহজেই পরাস্ত করতে পারে, তবে দ্বীপটি ব্যাপকভাবে ফাঁদ পাতা থাকতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে ইরানি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে এটিকে তেলের দাম কমানো এবং বিশ্লেষকেরা এটিকে ‘সময়ক্ষেপণের’ উদ্দেশ্যে ছড়ানো ভুয়া খবর বলে অভিহিত করেছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত রুশ বিমানশক্তি, গোয়েন্দা ও যুদ্ধকৌশল এখন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের কাজে লাগছে। এর ফলে ৬ বছরে পড়া গৃহযুদ্ধে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দিতে পারছে। মিয়ানমারের জেনারেলদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব চীনের। চীন–মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে থাকা শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপরও...
১ দিন আগে
ইরানে মার্কিন হামলার প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত হতে চললেও যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে খোদ হোয়াইট হাউসের ভেতরেই চরম বিভ্রান্তি লক্ষ করা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান কখনো ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’, আবার কখনো ‘সমঝোতার আভাস’—এই দুই মেরুর মধ্যে দুলছে।
১ দিন আগে
কার্ল ভন ক্লজউৎস বলেছিলেন, যুদ্ধ রাজনীতির সমাপ্তি নয়, বরং অন্য উপায়ে তারই ধারাবাহিকতা। তেহরান ও ওয়াশিংটন যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছিল এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী শান্তি চুক্তি ‘একেবারেই নাগালের মধ্যে’ ছিল...
১ দিন আগে