
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে সর্বশেষ গত রোববার পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের পাল্টা প্রস্তাব পাঠায় তেহরান। কিন্তু এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরান ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের সঙ্গে খেলা করে এসেছে। এবার তারা আর হাসতে পারবে না।’ কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আরও বলেন, ‘আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়েছি। এটা আমার মোটেও পছন্দ হয়নি—পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’
এপ্রিলের শুরুতে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় অগ্রগতি খুব কম। ইরান চাইছে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সবার আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মধ্য দিয়ে যায়। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
সোমবার (১১ মে) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবের মূল বিষয় হচ্ছে—পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করা। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে তেহরান। ইরান চায়, আলোচনার প্রথম ধাপে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। এরপর দ্বিতীয় ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থনের মতো বৃহত্তর ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে।
প্রস্তাবটির বিষয়ে আল-জাজিরাকে এক ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমাদের জবাব বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক। এখন সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের হাতে।’
তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরান নিজেদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ হালকা মাত্রায় নামিয়ে আনতে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠাতে রাজি হতে পারে। একই সঙ্গে তারা অল্প সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে ৩.৬৭ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প ২০১৮ সালে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। বর্তমানে ওয়াশিংটন চাইছে ইরান সম্পূর্ণভাবে সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করুক।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি তুলেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং অবৈধভাবে জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া—এগুলো ইরানের বৈধ দাবি।’
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব ‘দায়িত্বশীল ও উদার উদ্যোগ’।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে। ওয়াশিংটন চায়, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা পুরোপুরি ত্যাগ করুক এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করুক। অন্যদিকে ইরান ওই ইস্যুগুলো সমাধানের আগে প্রথমেই যুদ্ধ ও অবরোধ বন্ধের নিশ্চয়তা চাইছে।
যুক্তরাজ্যের ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্রিস ফেদারস্টোন বলেছেন, ‘ইরান এখনো নিজেদের শর্ত থেকে সরে আসেনি। এতে ট্রাম্প চাপের মধ্যে পড়েছেন। তিনি যেমন আর ছাড় দিতে চাইছেন না, তেমনি ইরানকেও ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারছেন না।’
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভায়েজের মতে, অর্থনৈতিক চাপ বা সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প এখন দুটি কঠিন বিকল্পের সামনে—একটি এমন যুদ্ধ বাড়ানো, যা জেতা কঠিন; অথবা এমন একটি সমঝোতা মেনে নেওয়া, যা রাজনৈতিকভাবে বিক্রি করা কঠিন।’
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প আপাতত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু করতে না চাইলেও ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ, নৌ অবরোধ এবং সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াতে পারেন। তবে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

২০২৪ সালের দমবন্ধ করা গরমে অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির হোঁচট খাওয়া অনেকের কাছেই ইঙ্গিত ছিল যে তাঁর এক দশকের শাসনের অবসান হয়তো সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তিনি আগা আরও এক দশক পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ চীনের সামনে এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা কীভাবে কাজ করে, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছে বেইজিং। একই সঙ্গে এটি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেকোনো যুদ্ধে প্রতিপক্ষও ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
৬ ঘণ্টা আগে
ভ্লাদিমির পুতিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ হয়তো ‘শেষের দিকে’ এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আবারও পশ্চিমা দেশগুলোকেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার জন্য দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কিয়েভকে সামরিক সহায়তা দিয়ে পশ্চিমারা সংঘাতকে টিকিয়ে রেখেছে।
১২ ঘণ্টা আগে
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করতে বামদের ওপর তীব্র দমন-পীড়ন চালান। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ রিয়াজ ইন্ডিয়া টুডেকে বলেন, ‘২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মমতা বিরোধীদের কার্যত নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিলেন।
১ দিন আগে