
গ্রাহককে টাকা দিতে না পারার মতো পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সুদের ভিত্তিতে ১ হাজার কোটি টাকা বিশেষ ধার নিয়েছে শরীয়াহ্ভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক। এমন তারল্যসংকটেও বড় ঋণ বিতরণ থেকে বিরত থাকছে না ব্যাংকটি। সম্প্রতি পুরোনো গ্রাহক নিপা এন্টারপ্রাইজকে ৪৮০ কোটি টাকা ঋণ ছাড়ের যাবতীয় আয়োজন চূড়ান্ত করে এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নজরে এলে একক গ্রাহককে এত বড় ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একক গ্রাহককে এত বড় ঋণ বিতরণ আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে নির্ধারিত সীমার বাইরে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে ব্যাংকটি গ্রাহকের জন্য যে ঝুঁকি সৃষ্টি করছে, এ নিয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
এক্সিম ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডভান্স ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) বা ইনভেস্টমেন্ট ডিপোজিট রেশিও (আইডিআর) সীমার অতিরিক্ত ঋণ দিয়ে আসছে। কিন্তু সেই হারে ঋণ আদায় করতে পারছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক্সিম ব্যাংকের বর্তমান আইডিআর সীমা ১০২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকটি ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ইতিমধ্যে ১০২ টাকা বিনিয়োগ করেছে। এটি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি, যাকে ব্যাংকিংয়ের পরিভাষায় আগ্রাসী বিনিয়োগ বলা হয়। ঝুঁকি বিবেচনায় শরিয়াহ ব্যাংক ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৯২ টাকা বা ৯২% ঋণ বিতরণ করতে পারে।
আগ্রাসী ঋণ বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন আজকের পত্রিকা’কে বলেন, ‘শরিয়াহ ব্যাংকিং হিসাবে আমরা বিনিয়োগে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করি। বড় ঋণ বিতরণে নীতিমালার বিভিন্ন দিক সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়। নিপা এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকের স্বার্থে আগ্রাসী ঋণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাই শেষ পর্যন্ত এই গ্রাহকের অনুকূলে ঋণ বিতরণ করা হয়নি।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তারল্যসংকটের চাপ সামলাতে এক্সিম ব্যাংককে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটির প্রচলিত পদ্ধতিতে ঋণের সব টুল (বন্ড, সুকুক প্রভৃতি) ব্যবহারের মাধ্যমে আগেই ধার নেওয়ার সীমা শেষ হয়েছে। এ জন্য ব্যাংকটিকে ডিমান্ড প্রমিসরি (ডিপি) নোটের বিপরীতে নতুন করে ১ হাজার টাকা ছাপিয়ে ধার দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ১৬ (৪) (ডি) ধারা ও ১৭ (১) (বি) ধারা অনুযায়ী, ৯০ দিন মেয়াদে এ বিশেষ ধার দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, সাধারণভাবে এ ধরনের ব্যাংক প্রচলিত সুদভিত্তিক রীতিতে টাকা ধার নিতে পারে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদ্যমান নিয়মে ‘লেন্ডার অব দ্য লাস্ট রিসোর্ট’ হিসেবে সুদভিত্তিক বিশেষ ধার দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটিতে (এসএলএফ) সাড়ে ১০ শতাংশ সুদহার প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ১৬ (৪) (ডি) ধারা ও ১৭ (১) (বি) ধারা অনুযায়ী, ৯০ দিন মেয়াদে এ অর্থ দেওয়া হয়। ব্যাংকিং পরিভাষায় যা ওভারনাইট ঋণসুবিধা হিসেবে বিবেচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, এক্সিম ব্যাংকের আগ্রসী ঋণ আটকে দেওয়া হয়েছে। কারণ, এ ধরনের ঋণ গ্রাহকের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। আর বিশেষ ব্যবস্থায় ১ হাজার কোটি টাকার ঋণের পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে। কিন্তু ঋণ করার পরেও বড় ঋণ অনুমোদন কাম্য নয়।
উল্লেখ্য, নিয়মনীতি, ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি, পরিচালনা দক্ষতা, তারল্য এবং খেলাপি প্রভৃতি অবস্থা বিবেচনায় ইয়েলো জোনে রয়েছে এক্সিম ব্যাংক। আর ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের মান, ব্যবস্থাপনা, উপার্জন ক্ষমতা, তারল্যপ্রবাহ, বাজার ঝুঁকির প্রতি সংবেদনশীলতাসহ ছয়টি সূচকের ভিত্তিতে ক্যামেলস রেটিং-২ অবস্থান করছে ব্যাংকটি। এ অবস্থায় গত ২৯ আগস্ট এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে সরিয়ে ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আরও খবর পড়ুন:

বন্ধ ও লোকসানে থাকা ৪৪টি সরকারি কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওই সব কারখানার জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে সেখানে নতুন করে বিনিয়োগ করবেন বেসরকারি উদ্যোক্তারা। সরকারের আশা, এতে অর্থনীতি গতিশীল হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে।
৯ ঘণ্টা আগে
দেশের কৃষিতে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে ফসল নির্বাচনের চিত্র। উৎপাদন খরচ, বাজারদর এবং লাভ-লোকসানের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে কৃষকেরা ঐতিহ্যগত ধান ও পাটের পরিবর্তে সরিষা, আদা, হলুদ, বিভিন্ন শীতকালীন সবজি এমনকি তামাকের মতো তুলনামূলক বেশি লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। এর প্রভাব পড়েছে উৎপাদনেও।
১০ ঘণ্টা আগে
সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাজেটে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে সরকার। মূল বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা তো বটেই, পরে সংশোধিত বাজেটে বাড়ানো ব্যাংকঋণের সীমাও ছাড়িয়ে গেছে।
১০ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে নজিরবিহীন বিপর্যয় ডেকে এনেছে। দৈনিক তেল উৎপাদন হ্রাসের দিক থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা বা সাপ্লাই শক তৈরি করেছে বর্তমান এই ইরান সংকট। তবে সামগ্রিক তেল সরবরাহের মোট ঘাটতির দিক থেকে ১৯৭৯...
১৭ ঘণ্টা আগে