Ajker Patrika

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ৩১
২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের (এমপি) গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে হবে। সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন ১৭ ফেব্রুয়ারি।

সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন হলেও পুরোনো সংসদের মেয়াদ শেষে নতুন সংসদের অধিবেশন বসে। বিগত তিনটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেটি দেখা গেছে। দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি শপথ নিলেও প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৩০ জানুয়ারি। কারণ, একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি। এবার সংসদ না থাকায় অধিবেশন শুরু করতে বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।

সংসদ সচিবালয় সূত্র বলেছে, প্রথম অধিবেশন বসা নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ২৫ কিংবা ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে আজ বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অধিবেশন বসার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’ ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিবেশন বসা নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো শুনিনি। তবে শপথ গ্রহণের এক মাসের মধ্যে সংসদ অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’

১২ ফেব্রুয়ারি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হয়েছে। ফলাফল ঘোষণা হয়েছে ২৯৭টির। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯ এবং তাদের জোটের তিন শরিক দল তিনটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ফলাফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, তাদের ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্ররা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিএনপির বিদ্রোহী।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে ভাষণটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়। প্রথম অধিবেশনজুড়ে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। এর আগে আগস্টে গ্রেপ্তার হন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। তাঁদের অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো ও সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য রাষ্ট্রপতিও কাউকে মনোনীত করেননি। ফলে এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

শুধু সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য রাষ্ট্রপতি আলাদা করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে পারবেন কি না, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে সে বিষয়ে কিছু বলা নেই। এমন পরিস্থিতিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও স্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না।

১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ একজন সদস্যকে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব দিয়ে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার নজির রয়েছে। সূত্র জানায়, এবারও তেমন হতে পারে। এমন কোনো সদস্যের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশনের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন ও শোকপ্রস্তাব আনা হবে। এরপর ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠক মুলতবি হবে।

ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করেছে। তবে দলটি এখনো স্পিকার, উপনেতা ও চিফ হুইপ নির্ধারণ করেনি। অন্যদিকে বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদীয় দল জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরকে উপনেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নির্বাচিত করেছে। জুলাই জাতীয় সনদ ও ক্ষমতাসীন বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী, এবার বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার হওয়ার কথা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত