Ajker Patrika

আপনার জিজ্ঞাসা

ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে?

মুফতি শাব্বির আহমদ
ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: রমজান মাসে অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে গোসল ফরজ হয়। কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে বা সেহরির শেষ মুহূর্তে ঘুম থেকে ওঠার ফলে অনেক সময় গোসল করা কঠিন হয়ে যায়। এ অবস্থায় গোসল না করে সেহরি খেলে কি রোজা হবে?

নাবিল আহরার, ঢাকা

উত্তর: সেহরি খেয়ে রোজা রাখা সুন্নত। হাদিসের ভাষায়, সেহরিতে রয়েছে অসংখ্য বরকত ও কল্যাণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম)

ইহুদি-খ্রিষ্টানরাও রোজা পালন করত কিন্তু তারা ভোররাতে সেহরি খেত না। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) ভোররাতে সেহরি খাওয়ার বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া। (অর্থাৎ মুসলিমরা সেহরি খায় আর ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা সেহরি খায় না)।’ (সহিহ মুসলিম, সুনানে নাসায়ি)

যেহেতু সেহরি খাওয়া বরকতের কাজ, তাই ক্ষুধা লাগুক আর না লাগুক; খেতে ইচ্ছা হোক আর না হোক; সামান্য পরিমাণ হলেও শেষ রাতে খাবার খেয়ে নেওয়া বরকতের কাজ। এ ক্ষেত্রে পেট ভরে খাওয়া আবশ্যক নয়। যদি কেউ শুধু পানি পান করে, কিংবা একটি খেজুর খায়—তবুও সেহরির বরকত পেয়ে যাবে।

ফরজ গোসল অবস্থায় সেহরি খাওয়ার বিধান

কারও ওপর গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় সেহরি খেলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না এবং রোজা শুদ্ধ হয়ে যায়। সেহরি খাওয়ার জন্য পবিত্রতা শর্ত বা আবশ্যক নয়।

যদি হাতে সময় কম থাকে বা গোসল করতে গেলে সেহরির সময় শেষ হয়ে যাবে, এমতাবস্থায় কুলি করে এবং হাত-মুখ ধুয়ে আগে সেহরি খেয়ে নেওয়া উত্তম। সেহরি শেষ করে সুবহে সাদিকের পর গোসল করলেও রোজার কোনো সমস্যা হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবন থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজান মাসে সহবাসের ফলে ফরজ গোসল অবস্থায় রাসুল (সা.) সুবহে সাদিক অতিবাহিত করতেন। এরপর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন। (সহিহ বুখারি: ১৮২৯)

উম্মুল মুমিনিন হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে যে গোসল ফরজ অবস্থায় আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং রোজা পালন করতেন। (সহিহ বুখারি: ১৯২৬)

ফরজ গোসলে বিলম্ব করা বিষয়ে সতর্কতা

গোসল না করে সেহরি খাওয়া জায়েজ হলেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি:

  • সেহরি নাপাক অবস্থায় খাওয়া গেলেও ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য গোসল করা ফরজ। বিনা ওজরে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত করা কবিরা গুনাহ। এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেওয়ার ফলে পরকালে ভয়াবহ আজাবের মুখোমুখি হতে হবে। (সহিহ মুসলিম)
  • ফরজ গোসলের আগে কিছু খেতে চাইলে বা ঘুমানোর ইচ্ছা করলে অন্তত অজু করে নেওয়া বা হাত-মুখ ধুয়ে নেওয়া উত্তম।

সতর্কতার বিষয় হলো, দীর্ঘক্ষণ নাপাক অবস্থায় থাকলে রহমতের ফেরেশতারা অসন্তুষ্ট হন। তাই দ্রুত পবিত্রতা অর্জন করা বাঞ্ছনীয়। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি)

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত