যশোরে এ বছর ৫৯০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হলেও উৎপাদন নেই। যশোরের স্থানীয় কৃষকদের খেতের মরিচ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দাম বাড়ছে হু হু করে। যশোরের বাজারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে ফরিদপুরের মরিচ দিয়ে।
কৃষকেরা বলছেন, তীব্র দাবদাহ ও খরার কারণে উৎপাদন নেই বললেই চলে। এ কারণেই সরবরাহ নেই। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন গুণ।
যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বৃহৎ সবজির হাট যশোরের সাতমাইল বারিনগর। এসব হাট থেকে ব্যাপারীরা পাইকারি দামে সবজি কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন। যশোর শহরের বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, রেল বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের বেশির ভাগ সবজি আসে এ হাট থেকে।
বারিনগরের এই হাটে সব ধরনের গ্রীষ্মকালীন সবজি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কাঁচা মরিচের তীব্র সংকট চলছে। স্থানীয় কৃষকদের খেতে মরিচ উৎপাদন না হওয়াতে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। গেল দুই সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বৃহৎ সবজির এই বাজারে মরিচ সরবরাহ কমেছে কয়েক গুণ।
হাটের ইজারাদার আব্দুস সুবহান আজকের পত্রিকাকে বলের, ‘মাস দু-এক আগে বাজারে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি মরিচ উঠত। এখন সেই মরিচ উঠছে ২০-২৫ কেজি। তীব্র দাবদাহে উৎপাদন কমে গেছে। মরিচ ছাড়া বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। একসময় যশোরের মরিচ সারা দেশে সরবরাহ করা হতো। আর এখন ফরিদপুরের মধুখালী এলাকার মরিচ দিয়ে যশোরে বাজারের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মনজুরুল আলম বলেন, ‘এ বছর যশোর জেলায় ৫৯০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। গত বছর ছিল ৫৭০ হেক্টর। এ বছর ২০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হলেও তীব্র খরার কারণে মরিচখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উৎপাদন এমনিতেই কম হয়। তার ওপর খরা। দুই মিলে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আশা করছি, মাসখানেক সময়ের মধ্যে উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
বড়হৈবতপুর গ্রামের চাষি আলাউদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘সম্প্রতি যশোরে দীর্ঘ সময় ধরে রেকর্ড তাপমাত্রা বিরাজ করেছে। এতে তীব্র খরার সৃষ্টি হয়েছে। খরায় পুড়ে কৃষকের মরিচের খেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতির প্রভাব পড়েছে। কৃষকের খেতে এই মুহূর্তে মরিচ নেই। দু-এক মাস পর থেকে মরিচের ফলন পাওয়া যাবে।’
সদর উপজেলার তীরের হাট গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘১০ শতক জমিতে এ বছর মরিচের আবাদ করেছি। এই মুহূর্তে খেতে মরিচ নেই বললেই চলে। অল্প যা হচ্ছে তা দিয়ে নিজেদের খাওয়াটা চলছে।’ রহমতপুর গ্রামের আইনাল মণ্ডল বলেন, ‘নয় শতক জমিতে চাষ করেছি। মাঝে তীব্র খরায় খেত পুড়ে নষ্ট হয়েছে। পরিচর্যা করে আবার ঠিক করা হয়েছে। আরও কিছুদিন পরে ফলন পাওয়া যাবে।’
আজ রোববার যশোর শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচের কেজি মানভেদে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে। তবে আড়তে পাইকারি ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা। বড় বাজারের সবজির আড়ত মা ভান্ডারের প্রতিনিধি বিধান সাহা বলেন, ‘যশোরের স্থানীয় কৃষকদের মরিচ বাজারে নেই। ফরিদপুরের মধুখালীর মরিচ যশোরে আসছে। আজ ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি দরে পাইকারি কেনাবেচা হয়েছে। এলসির মাধ্যমে আমদানি করা মরিচ বাজারে ঢুকলে দাম অর্ধেকে নেমে যাবে। সেটা করা এখন খুব জরুরি।’
ঈদের কয়েক দিন আগেই থেকে মরিচের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে দাম। রেকর্ড দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। বলছেন, তদারকি বিহীন বাজারে আধিপত্য বাড়ছে সিন্ডিকেটের।
শওকত হোসেন নামে এক কলেজশিক্ষক বলেন, ‘নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতায় যখন নাভিশ্বাস ভোক্তার, তখনই আগুন কাঁচা মরিচের বাজারে। মাসখানেক আগেও মাত্র ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া মরিচ এখন খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধিতে নাজেহাল অবস্থা ভোক্তাদের।’
শহিদুজ্জামান নামে এক চাকরিজীবী বলেন, ‘কাঁচা মরিচের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে মরিচ কিনতে এসে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বেশি কেনাও সম্ভব না; আবার পরিমাণে অল্পও বিক্রি করতে চাইছেন না দোকানিরা। বেশ কিছুদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী কাঁচা মরিচের দাম। অন্যান্য সবজি না হলেও চলে; তবে মরিচ ছাড়া তরকারির স্বাদ হয় না। বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে।’

নরসিংদীর রায়পুরায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলী ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রকৌশলীসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
১৬ মিনিট আগে
খুলনা শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির (২২) দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন। আজ সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরীর টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলির সামনে অ্যাড. আইয়ুব আলীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাব্বির টুটপাড়া মুজাহিদ সড়কের বাসিন্দা শাহ আলমের ছেলে।
২১ মিনিট আগে
সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়াকে উপজেলা কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি করা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিতর্কের মধ্যে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন চন্দ্র দে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে।
৩২ মিনিট আগে
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজে এসেছিলেন এই চৌক্কার খালে। তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সবাইকে একত্র করে নিজে কোদাল হাতে খাল খনন শুরু করেন। মাটি কেটেছেন। তাঁর তখন চিন্তা-ধারণার মধ্যে ছিল যে—এই খাল যখন খনন হবে, খালের দুই পাড়ে গাছ থাকবে।
৪৪ মিনিট আগে