Ajker Patrika

বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন হাসান মাহমুদ

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ১৬
বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন হাসান মাহমুদ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান মাহমুদ। ছবি: ক্রিকইনফো

হাসান মাহমুদের স্বপ্ন এখন আকাশ ছোঁয়া। অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে এবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার।

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওয়াসিম আকরাম, ইয়ান বিশপের মতো কিংবদন্তিরা। গতকাল রাতে স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান জানিয়েছেন তাঁর স্বপ্নের কথা। ২৬ বছর বয়সী বাংলাদেশের পেসার বলেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে যেকোনো সংস্করণে বিশ্বকাপ জেতা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে আলো ছড়ানোর আগে হাসান লাল বলের ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো করে আসছেন। জুন মাসে ইংল্যান্ডে কাঁপিয়ে এসেছেন হাসান মাহমুদ। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন টুতে কেন্টের জার্সিতে ২ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১২ উইকেট। যার মধ্যে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে পেয়েছেন ৬ উইকেট। আর ডারউইন টেস্টের আগে এই ভেন্যুতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে পেয়েছেন ৪ উইকেট।

ছন্দে থাকা হাসান ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছেন। ১১১ রানে ৯ উইকেট নিয়ে টেস্টে এক ম্যাচে সেরা বোলিং করেছেন তিনি। ৯ উইকেটের চারটিই করেছেন বোল্ড। তাঁর অপর ৫ উইকেটের চারটিতেই ক্যাচ ধরেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। একটিতে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ ধরেন তানজিদ হাসান তামিম। ট্রাভিস হেড, জেক ওয়েদারাল্ড—দুই ওপেনারকে দুই ইনিংসেই ফিরিয়েছেন।

গতির চেয়েও নিখুঁত লাইন-লেংথে হেড-স্টিভ স্মিথ-ক্যামেরন গ্রিনদের বোকা বানিয়েছেন হাসান। গুড লেংথের পাশাপাশি শর্ট লেংথেও নিয়মিত বোলিং করে গেছেন ২৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি পেসার। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৪ রান করা গ্রিনকে যেভাবে শর্ট লেংথে বোলিং করে বোল্ড করেছেন, তাতে অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডার হতভম্ব হয়ে যান। ব্যাটারদের ঘায়েল করার কৌশল সম্পর্কে হাসান বলেন,‘ব্যাটারদের পরাস্ত করার দুইটা উপায় আছে। প্রথমত ব্যাটারের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলে তাঁকে ফাঁদে ফেলা। দ্বিতীয়ত সঠিক লাইন লেংথে বোলিং করে ব্যাটারের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া। ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে এই দুটি কৌশলই কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।’


২০০৩ সালে সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশ দুই টেস্ট খেলে দুটিতেই ইনিংসে হেরেছে। দুটির কোনোটিই পাঁচ দিনে গড়ায়নি। নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হক-মুশফিকুর রহিমদের ২৩ বছর আগে খেলা তো দূরে থাক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই অভিষেক হয়নি। তাঁরাই এবার সাড়ে তিন দিনে ডারউইনে জয় ছিনিয়ে আনলেন। গত পরশু ৯ উইকেটে জয়ের পর ম্যারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ড এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়। গ্যালারি থেকে ভেসে আসে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান। প্রবাসীদের সঙ্গে মিরাজের ছবি তোলার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল।

শুধু অস্ট্রেলিয়াই নয়, বিশ্বের যে প্রান্তেই বাংলাদেশের ম্যাচ হয়, সেখানেই ক্রিকেটপ্রেমীরা গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে দলকে সমর্থন জানান। স্টেডিয়ামে দর্শকদের এমন উপস্থিতি ভালো খেলার অনুপ্রেরণা জোগায় বলে জানিয়েছেন হাসান। স্টার স্পোর্টসকে বাংলাদেশের তারকা পেসার বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেট নিয়ে অনেক আবেগী। তাঁরা সব সময় আমাদের সমর্থন করেন। ক্রিকেটার হিসেবে কীভাবে আমরা উন্নতি করতে পারি, সেটা নিয়েও তাঁরা ভাবেন। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারতে যখন খেলতে যাই, মাঠে এসে আমাদের সমর্থন দেন। তখন আমরা অনুপ্রাণিত হই এটা ভেবে, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই দেশের জন্য খেলছি এবং কিছু করা উচিত তাদের জন্য।’’

ডারউইনে ৯ উইকেট নেওয়ার পথে হাসান প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। যেটা টেস্টে তাঁর এক ইনিংসে সেরা বোলিং। তিনটি ফাইফারের তিনটিই নিয়েছেন বিদেশে। ঘরের দেশে বিদেশেই বরং হাসান বেশি সফল। ৪৫ টেস্ট উইকেটের ৩৩টিই ২৬ বছর বয়সী বাংলাদেশের পেসার পেয়েছেন দেশের বাইরে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত