Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা সবচেয়ে বড় অর্জন’

‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা সবচেয়ে বড় অর্জন’

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে এর আগেও বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার দ্যুতি ছড়িয়েছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ২০১৪ বিশ্বকাপ খেলা মাইকেল বাবাতুন্দে। নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডারের নতুন ঠিকানা এখন আবাহনী। বিশ্বকাপ, লিওনেল মেসি এবং নিজের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ

প্রশ্ন: বাংলাদেশে আসা এবং এখানকার নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কী ভাবছেন?

মাইকেল বাবাতুন্দে: বাংলাদেশে আসা আমার জন্য চমৎকার এক অভিজ্ঞতা এবং নতুন সিদ্ধান্ত। আমি এমন একজন খেলোয়াড়, যে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। যেসব দেশে গেছি, নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করেছি। আবাহনীতে যোগ দিয়ে বাংলাদেশে আসতে পেরে সত্যিই আনন্দিত।

প্রশ্ন: আফ্রিকা ও ইউরোপে খেলার বিশাল অভিজ্ঞতা নিয়ে আবাহনীতে এলেন। ক্লাবটি সম্পর্কে কি আগে থেকেই জানতেন?

বাবাতুন্দে: হ্যাঁ, আবাহনী যে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ও বড় ক্লাব, জানা ছিল। প্রায় তিন বছর আগে উজবেকিস্তানে যাওয়ার আগেও আবাহনী থেকে খেলার একটি প্রস্তাব পেয়েছিলাম। এবার এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে। নিজেকে উজাড় করে দিয়ে দলকে এই মৌসুমে ট্রফি জেতাতে সহায়তা করতে চাই।

প্রশ্ন: ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলেছিলেন। লিওনেল মেসি ও তাঁর দলের বিপক্ষে খেলার কোন মুহূর্ত বেশি মনে পড়ে?

বাবাতুন্দে: আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ খেলা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন। লিওনেল মেসি, আনহেল দি মারিয়ার মতো খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলা। তখন আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা দল ছিল। আমাদের নাইজেরিয়া দলেও আহমেদ মুসা, মিকেল ওবি, জোসেফ ইয়োবোদের মতো অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড় ছিল। মেসির বিপক্ষে খেলতে পেরে দারুণ খুশি, সে আমার রোল মডেল। তার খেলা নিয়মিত দেখি, তার বিপক্ষে খেলা অনেক আনন্দের। বিশ্বকাপ এমন একটা মঞ্চ, বিশ্বের সব খেলোয়াড়ই খেলতে চায়। আমার স্মৃতিতে বিশ্বকাপের ঘটনাটি এমন এক ভালো লাগা, যা কখনো ভুলতে পারব না।

প্রশ্ন: ওই ম্যাচে আহমেদ মুসাকে করা আপনার দারুণ অ্যাসিস্ট ছিল

বাবাতুন্দে: মুসাকে দেওয়া অ্যাসিস্টটি খুবই চমৎকার ছিল। মাঝে মাঝে ইউটিউবে সেই ভিডিও দেখি। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে আহমেদ মুসাকে ওই অ্যাসিস্ট করতে পারাটা আমার সেরা অর্জন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে চোটে পড়া আমার ও দলের জন্য খুব খারাপ ছিল। আমার ছিটকে যাওয়াটা দলকেও প্রভাবিত করেছিল। আমরা শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়ে হেরে গিয়েছিলাম, তবে চোটে না পড়লে জাতীয় দলের হয়ে আরও কিছু অবদান রাখতে পারতাম বলে বিশ্বাস করি।

প্রশ্ন: মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে যাচ্ছেন। তাঁকে কতটা মিস করবেন?

বাবাতুন্দে: মেসিকে অনেক ভালোবাসি। আমার রোল মডেল। তার খেলা থেকে অনেক কিছু শিখি। মেসি যখন অবসর যাবে, সবাই মিস করবে। ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। মেসি ও রোনালদো—দুজনেই ফুটবলের ইতিহাসের দুর্দান্ত খেলোয়াড়।

প্রশ্ন: মেসি মাঠে কেমন আচরণ করেন?

বাবাতুন্দে: মেসি মাঠে খুব বেশি কথা বলেন না। ম্যাচ চলাকালে তাকে একবার ফাউল করেছিলাম, লাথি লেগেছিল তার গায়ে। তবে ফুটবলে এসব সাধারণ ঘটনা, সে স্বাভাবিকভাবেই খেলা চালিয়ে যায়। কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে আপনার ধারণা কেমন?

বাবাতুন্দে: মাঝেমধ্যেই ইউটিউবে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ দেখি। এখানকার ফুটবলের মান ভালো। মানসম্পন্ন বিদেশি খেলোয়াড়েরা আসায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের লিগ এশিয়ায় আরও ভালো অবস্থান তৈরি করবে আশা করি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত