Ajker Patrika

‘অধিনায়কত্ব আমাকে পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিয়েছিল’

ক্রীড়া ডেস্ক    
‘অধিনায়কত্ব আমাকে পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিয়েছিল’
২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্ব ছাড়েন বিরাট কোহলি। ছবি: সংগৃহীত

২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্ব ছাড়েন বিরাট কোহলি। তাঁর এই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে পড়েছিলেন ভক্তরা। প্রায় সাড়ে চার বছর পর এই ব্যাটার জানালেন, অধিনায়কত্ব ধীরে ধীরে তাঁকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছিল। শুরুতে সেটা তিনি বুঝতে পারেননি তিনি।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মহেন্দ্র সিং ধোনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর স্থায়ীভাবে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক হন কোহলি। তাঁর নেতৃত্বে ৬৮ টেস্ট খেলেছে ভারত। এর মধ্যে ৪০টিতেই দেখেছে জয়ের মুখ। দেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল টেস্ট অধিনায়ক মনে করা হয় কোহলিকে। এর আগে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কোহলিকে।

সম্প্রতি আরসিবি ইনোভেশন ল্যাবের ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিটের তৃতীয় আসরে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নিজের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন কোহলি। তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলাম, যেখানে ব্যাটিং ইউনিট ও নেতৃত্ব—দুই ক্ষেত্রেই আমিই হয়ে উঠেছিলাম মূল কেন্দ্রবিন্দু। ভারতীয় ক্রিকেটকে শীর্ষে রাখার ব্যাপারে আমি এতটাই তাড়িত ও অনুপ্রাণিত ছিলাম যে বুঝতেই পারিনি, এই দুই দায়িত্ব আমার দৈনন্দিন জীবনে কতটা চাপ তৈরি করছে। আর এ কারণেই অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময় আমি পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিলাম। এটা আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করেছিল। সময়টা ছিল ভীষণ কঠিন। প্রত্যাশার চাপ সামলানোও ছিল খুব কঠিন।’

নিজের নেতৃত্বে দলের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সাবেক কোচ রবি শাস্ত্রী ও টিম ম্যানেজমেন্টের অবদানের কথা স্বীকার করলেন কোহলি, ‘আমার সেরা সময়টায় মূল লক্ষ্য ছিল দলকে নিরাপদ অনুভব করানো। যেন ড্রেসিংরুমে কোনো অনিরাপত্তা না ঢুকে পড়ে। এ জন্য টিম ম্যানেজমেন্ট—রবি শাস্ত্রী এবং পুরো সাপোর্ট স্টাফকে অনেক কৃতিত্ব দিতে হবে। কিন্তু যখন পারফরম্যান্স দীর্ঘ সময় একই রকম থাকে না, তখন এই দুই দায়িত্বের চাপ আরও বেশি অনুভূত হতে শুরু করে। তাই সময়টা সত্যিই কঠিন ছিল।’

অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করলেও পরে আবার ক্রিকেটের আনন্দ ফিরে পেয়েছিলেন কোহলি। এ জন্য ভারতের সাবেক কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘অধিনায়কত্ব ছাড়ার পরই আমি নিজেকে আরও খুলে দিতে শুরু করি। রাহুল ভাই ও বিক্রম রাঠৌরের মতো মানুষের সঙ্গে অনেক বেশি কথা বলেছি। ২০২৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে আমার দারুণ সময় কেটেছে। এখন তাঁদের যখনই দেখি, হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

কোহলি আরও যোগ করেন, ‘তাঁরা (দ্রাবিড় এবং রাঠোর) আমাকে এমনভাবে আগলে রেখেছিলেন, যাতে আমার মনে হয়েছে আমি তাঁদের জন্য খেলতে চাই। ভালো করতে চাই। মাঠে নেমে লড়াই করতে চাই। তাঁরা ছিলেন ভীষণ যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল। তাঁরা আমাকে বুঝতে সাহায্য করেছেন, আমি এখন পর্যন্ত কী অর্জন করেছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত