
ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তারা যুদ্ধের শুরুর দিকেই নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, ইরানের ক্ষমতা যদি ‘ভেতরের কেউ’ গ্রহণ করত, তাহলে সেটাই সবচেয়ে ভালো হতো। পরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর সময় এক নির্দিষ্ট ও বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করেছিল। তিনি আর কেউই নন—ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। তিনি কঠোর ইসরায়েলবিরোধী ও আমেরিকাবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইসরায়েলিদের তৈরি সেই সাহসী পরিকল্পনা খুব দ্রুতই ভেঙে পড়ে। কর্মকর্তারা বলেন, পরিকল্পনা সম্পর্কে আহমাদিনেজাদকেও অবহিত করা হয়েছিল। তবে তিনি কী সাড়া দিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আহমাদিনেজাদের এক সহযোগী জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম দিন তেহরানে তাঁর বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিনি আহত হন। ওই হামলার উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে তথাকথিত ‘গৃহবন্দিত্ব’ থেকে মুক্ত করা। তাঁরা বলেন, তিনি হামলা থেকে বেঁচে যান, কিন্তু মৃত্যুর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার পর শাসন পরিবর্তনের সেই পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর ভেতরে হতাশা তৈরি হয়। এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন বা তাঁর শারীরিক অবস্থা কী, সেটিও অজানা।
আহমাদিনেজাদকে ‘অস্বাভাবিক পছন্দ’ বলা হলেও সেটি হয়তো কমই বলা হবে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছিলেন এবং দেশটির কর্তৃপক্ষ তাঁর ওপর কড়া নজরদারি রাখছিল। তবে, তার আগে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি ‘ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কড়া সমর্থক ও যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচক।
কীভাবে আহমাদিনেজাদকে এই পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল, তা এখনো অজানা। এর আগে কখনো প্রকাশ না পাওয়া এই পরিকল্পনা ছিল ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের জন্য ইসরায়েলের তৈরি বহুস্তরীয় কৌশলের অংশ। এটি স্পষ্ট করে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধ শুরু করেছিলেন এমন এক ধারণা নিয়ে, যেখানে তাঁরা শুধু নিজেদের লক্ষ্য দ্রুত অর্জনের সক্ষমতা নিয়েই ভুল হিসাব করেননি, বরং ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনার ওপরও অনেকটাই বাজি ধরেছিলেন। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাও এই পরিকল্পনাকে অবাস্তব বলে মনে করেছিলেন। বিশেষ করে আহমাদিনেজাদকে আবার ক্ষমতায় বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই সন্দেহ ছিল।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরির লক্ষ্য সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিলেন—ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা, তাদের উৎপাদন কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া, নৌবাহিনী ডুবিয়ে দেওয়া এবং তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল করা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের সব লক্ষ্য পূরণ করেছে, বরং কিছু ক্ষেত্রে ছাড়িয়েও গেছে। এখন আমাদের আলোচকরা এমন একটি চুক্তির দিকে কাজ করছেন, যা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে শেষ করবে।’
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলের সঙ্গে তৈরি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, যেখানে এমন একজন ‘বাস্তববাদী’ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার কথা ছিল, যিনি ইরানের ক্ষমতা নিতে পারবেন। কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, তাঁদের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে ইরানি শাসনব্যবস্থার ভেতরের কিছু ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে রাজি হতে পারেন, যদিও তাঁদের ‘মধ্যপন্থী’ বলা যাবে না।
সে সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার জন্য মার্কিন অভিযানের সাফল্যে সন্তুষ্ট ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর অন্তর্বর্তী বিকল্প নেতৃত্বের হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও ট্রাম্পকে উৎসাহিত করেছিল। ট্রাম্প মনে করেছিলেন, একই মডেল অন্য জায়গাতেও প্রয়োগ করা সম্ভব।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আহমাদিনেজাদ ইরানের শাসকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর আনুগত্য নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তাঁকে একাধিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়, তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তেহরানের পূর্বাঞ্চলের নারমাক এলাকায় তাঁর বাড়ির মধ্যেই তাঁর চলাফেরা ক্রমশ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আহমাদিনেজাদকে নতুন ইরানি সরকারের সম্ভাব্য নেতা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন, সেটি আরও একটি ইঙ্গিত দেয় যে—ফেব্রুয়ারির যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তেহরানে আরও নমনীয় নেতৃত্ব বসানোর আশা নিয়ে। যদিও ট্রাম্প ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা বারবার বলেছেন, যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল শুধু ইরানের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।
তবে এখনো বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কীভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল, কিংবা তাঁকে আহত করা বিমান হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ওই হামলার উদ্দেশ্য ছিল আহমাদিনেজাদের ওপর নজর রাখা প্রহরীদের হত্যা করা, যাতে তাঁকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা যায়।
যুদ্ধের প্রথম দিন ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তাঁর কম্পাউন্ডে চালানো হামলায় এমন কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হন, যাঁদের হোয়াইট হাউস সরকার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় তুলনামূলক বেশি আগ্রহী বলে মনে করত। প্রথম দিকে ইরানের সংবাদমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছিল যে আহমাদিনেজাদ তাঁর বাড়িতে হামলায় নিহত হয়েছেন।
তবে হামলায় তাঁর বাড়িটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি। বাড়িটি ছিল একটি কানাগলির শেষ প্রান্তে। কিন্তু গলির প্রবেশমুখে থাকা নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা হয়। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
পরবর্তী দিনগুলোতে সরকারি সংবাদ সংস্থাগুলো পরিষ্কার করে জানায়, তিনি বেঁচে আছেন। তবে তাঁর ‘দেহরক্ষীরা’ নিহত হয়েছেন। গত মার্চে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, তাঁর বাড়িতে হামলার পর সাবেক এই প্রেসিডেন্ট কার্যত সরকারি বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে যান। প্রতিবেদনে হামলাটিকে ‘এক ধরনের কারাগার ভাঙার অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আহমাদিনেজাদের এক সহযোগী দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে নিশ্চিত করেন যে, আহমাদিনেজাদ হামলাটিকে তাঁকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখেছিলেন। ওই সহযোগী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আহমাদিনেজাদকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখেছিল, যিনি ইরানের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এবং ‘ইরানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক পরিস্থিতি’ সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
মাহমুদ আহমাদিনেজাদ অদূর ভবিষ্যতে ইরানে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রাখতে পারতেন বলে দাবি করেন ওই সহযোগী। তাঁর ইঙ্গিত ছিল, যুক্তরাষ্ট্র আহমাদিনেজাদকে অনেকটা ভেনেজুয়েলার দেলসি রদ্রিগেজের মতো চরিত্র হিসেবে দেখছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা নেন এবং এরপর থেকে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছেন বলে ওই ব্যক্তি জানান।
প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আহমাদিনেজাদ একদিকে তাঁর কট্টর নীতির জন্য পরিচিত ছিলেন, অন্যদিকে প্রায়ই তিনি এমন সব মৌলবাদী ও বিতর্কিত বক্তব্য দিতেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্ময় সৃষ্টি করত। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানে একজন সমকামী মানুষও নেই। পশ্চিমারা এসব বক্তব্য নিয়ে তাঁকে বিদ্রূপ করতেন। ধীরে ধীরে আহমাদিনেজাদ এক ধরনের অনিচ্ছাকৃত পপ-সংস্কৃতির কৌতূহল হয়ে ওঠেন। এমনকি মার্কিন টিভি অনুষ্ঠান ‘স্যাটারডে নাইট লাইভে’ও তাঁকে নিয়ে প্যারোডি তৈরি হয়েছিল।
তাঁর শাসনামলেই ইরান দ্রুত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়। ভবিষ্যতে চাইলে সেটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারত। ২০০৭ সালের একটি মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরান কয়েক বছর আগেই পারমাণবিক ডিভাইস তৈরির কাজ স্থগিত করেছে, তবে তারা পারমাণবিক জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সেটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ক্ষমতা ছাড়ার পর ধীরে ধীরে আহমাদিনেজাদ ইরান সরকারের প্রকাশ্য সমালোচকে পরিণত হন, অথবা অন্তত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। ২০১৭,২০২১ ও ২০২৪ সালে তিনবার তিনি আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিবারই ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল—যেখানে বেসামরিক ও ইসলামি আইনজ্ঞরা রয়েছেন—তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়। আহমাদিনেজাদ ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ব্যর্থ শাসনের অভিযোগ তোলেন এবং তেহরানের সরকারের সমালোচক হয়ে ওঠেন। যদিও তিনি কখনো সরাসরি ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে আবির্ভূত হননি, তবু শাসকগোষ্ঠী তাঁকে সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতাকারী উপাদান হিসেবে দেখতে শুরু করে।
পশ্চিমের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের সম্পর্ক আরও অনেক বেশি ধোঁয়াশাপূর্ণ। ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করেন এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দেন। আহমাদিনেজাদ বলেছিলেন, ‘ট্রাম্প একজন কার্যকর মানুষ। তিনি একজন ব্যবসায়ী। ফলে তিনি লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে পারেন এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আমরা তাঁকে বলছি, আসুন আমাদের দুই জাতির দীর্ঘমেয়াদি লাভ-ক্ষতির হিসাব করি, স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন না হই।’
আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পশ্চিমের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠে। এমনকি ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও করা হয়। তাঁর সাবেক চিফ অব স্টাফ এসফানদিয়ার রহিম মাশাইয়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচারক প্রকাশ্যে ব্রিটিশ ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।
গত কয়েক বছরে আহমাদিনেজাদের বিদেশ সফরও নানা জল্পনা বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩ সালে তিনি গুয়াতেমালা সফর করেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যান হাঙ্গেরিতে। নিউ লাইনস ম্যাগাজিন এসব সফরের বিবরণ প্রকাশ করেছিল। দুই দেশই ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র। সে সময় হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। হাঙ্গেরি সফরের সময় আহমাদিনেজাদ এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেন, যেটি অরবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
গত জুনে ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার কয়েক দিন আগেই তিনি বুদাপেস্ট থেকে দেশে ফেরেন। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি খুব সংগোপনে থাকেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র কয়েকটি বিবৃতি দেন। ইসরায়েলকে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের প্রধান শত্রু হিসেবে দেখানো একজন নেতার এই অস্বাভাবিক নীরবতা ইরানের সামাজিক মাধ্যমে অনেকের নজর কাড়ে।
ফিল্টারল্যাবস নামে জনমত বিশ্লেষণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, আহমাদিনেজাদের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ইরানের সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে আলোচনা বেড়ে যায়। তবে কয়েক সপ্তাহ পর সেই আলোচনা কমে আসে এবং মূলত তাঁর অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে।
যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল কয়েক ধাপে পুরো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানান পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত দুই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাদের হত্যা এবং কুর্দিদের সংগঠিত করে ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামানো।
এরপর ইসরায়েলের পরিকল্পনা ছিল, প্রভাব বিস্তারমূলক প্রচারণা এবং কুর্দি আক্রমণের সমন্বয়ে ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করা যে সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। তৃতীয় ধাপে অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি ও তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে সরকার ভেঙে পড়বে। তখন ইসরায়েল যাঁকে ‘বিকল্প সরকার’ বলছিল, সেটি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।
কিন্তু সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার চেষ্টা ও বিমান হামলা ছাড়া পরিকল্পনার খুব কম অংশই ইসরায়েলের প্রত্যাশামতো বাস্তবায়িত হয়। পরবর্তীতে অনেক বিশ্লেষকের কাছে পরিষ্কার হয়ে ওঠে, ইরানের স্থিতিস্থাপকতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ন ছিল গুরুতরভাবে ভুল। তবু যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাস পার হওয়ার পরও, যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকার টিকে গেছে, তখনও কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা তেহরানে সরকার পরিবর্তনের স্বপ্নে বিশ্বাস ধরে রেখেছিলেন।
মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া বিভিন্ন আলোচনায় তাঁর ঘনিষ্ঠদের বলেছিলেন, ইরানে কয়েক দশকের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অপারেশনাল কার্যক্রমের ভিত্তিতে তৈরি সংস্থাটির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অনুমোদন পেলে সফল হওয়ার ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আতিথ্য দিচ্ছেন ‘পুরোনো বন্ধু’ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। বেইজিং এমন এক সময়ে নিজেকে স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যখন বিশ্ব বাণিজ্য উত্তেজনা, যুদ্ধ....
১ ঘণ্টা আগে
লেবাননে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এই ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। দেশটিতে গত মার্চে ইসরায়েল আগ্রাসন শুরুর পর এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত...
২ ঘণ্টা আগে
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের আলোচনার অংশ হিসেবে রাশিয়ার কাছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেই। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি এই কথা জানান।
৯ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি বরাবরই ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র। এত দিন এই জলপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবর শোনা যেত। তবে চলমান সংঘাতের জেরে এবার বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে