Ajker Patrika

চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের মৃত্যু: ‘কল দিয়ে ডাক্তার আশীষ স্যারের পা ধরেছি, তাও তিনি আসবেন না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের মৃত্যু: ‘কল দিয়ে ডাক্তার আশীষ স্যারের পা ধরেছি, তাও তিনি আসবেন না’
চিকিৎসক আশীষ কুমার হালদার। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল নগরের বেসরকারি ক্লিনিক বেলভিউ হসপিটাল অ্যান্ড মেডিকেল সার্ভিসে ভুল চিকিৎসায় ২১ দিনের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা-মা চিকিৎসক দম্পতি। তাঁদের সন্তান ওই ক্লিনিকে শিশু বিশেষজ্ঞ আশীষ হালদারের তত্ত্বাবধানে ছিল। ২১ দিনের শিশুটির মৃত্যুর পর তার বাবা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ রিফাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসকের অবহেলার কারণে প্রথম সন্তানের মৃত্যুর করুণ বর্ণনা দেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হইচই পড়লে বেলভিউ হসপিটাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

২১ দিন বয়সেই বাবা-মা শিশুটির নাম রেখেছিলেন নুজাইফা আহমেদ ইজান। বাবা ইশতিয়াক আহমেদ রিফাত ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার ইজান আল্লাহর কাছে চলে গেছে। বিনিময়ে আমাকে দেখিয়ে গেছে বরিশালে শিশু চিকিৎসার করুণ অবস্থা। গত ২১ এপ্রিল রাত এগারটায় জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান এর মাধ্যমে মমতা হাসপাতালে ইজানের জন্ম হয়। শিশু চিকিৎসক ডা. আশীষ স্যার প্রাইমারি রিসাসিটেশন করেন। ইজান হালকা করে কাঁদলো। আশীষ স্যার প্রেস্ক্রিবশন (প্রেসক্রিপশন) করলেন। কিন্তু তিনি হাসপাতালে ভর্তি বা ইনকিউবেটরে রাখার কথা বললেন না। শুধু বললেন শেবাচিমে নিতে পারি, সেকেন্ড অপশন বেলভিউ। আমি ডাক্তার, কিন্তু আমি তো শিশু বিশেষজ্ঞ নই। সিদ্ধান্ত তো স্যার দিবেন। জোর দিয়ে বলবেন এই বাচ্চাকে অবশ্যই ইনকিউবেটরে রাখতে হবে।’

ইশতিয়াক আরও বলেন, ‘সিজারের এক ঘণ্টা পর, রাত বারোটার দিকে বেলভিউতে নিয়ে গেলাম। ডাক্তার পরিচয় দেওয়ার পরেও তাদের জঘন্য ব্যবহারের কথা আর নাই বলি। সারা রাত একবার তারা খোঁজ নিতে আসল না।’

ইশতিয়াক লেখেন, ‘পরের দিন হঠাৎ সন্ধ্যার পরে ইজান অসুস্থ হয়ে যায়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আশীষ স্যারকে ডিউটি ডাক্তার কল দেয়। সে রুডলি বলে শেবাচিম বা ঢাকা নিতে। কল দিয়ে ডা. আশীষ স্যারের পা ধরছি, তারপরও তিনি আসবেন না। এরপর আমরা ঢাকায় চলে গেলাম।’

ইশতিয়াক আরও বলেন, ‘চিকিৎসক দম্পতির সঙ্গে যদি বেলভিউ এরকম করতে পারে, অন্যান্য মানুষের সঙ্গে কি করবে?

‘আর প্রিয় আশীষ স্যার, ঢাকা শিশু হাসপাতালের দেশ সেরা শিশু বিশেষজ্ঞদের একটু দেখে আসুন। তাদের মানবিকতাবোধ, তাদের কাউন্সিলিং, একটু শিখে আসুন। একটু মানুষ হোন, স্যার। প্লিজ।’

জানা গেছে, অভিযুক্ত চিকিৎসক আশীষ কুমার হালদার শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বেলভিউতে তিনি একটি এনআইসিইউ গড়ে তুলেছেন। কিন্তু সেখানে আসলে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী ও ব্যবস্থাপনা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশীষ কুমার হালদার জানান, বাচ্চাটি তাঁর তত্ত্বাবধানে বেলভিউতে ভর্তি ছিল। সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি রাউন্ড ফি পর্যন্ত নেননি। তা ছাড়া কোনো চিকিৎসক ইচ্ছা করে কোনো রোগীকে ভুল চিকিৎসা করেন না।

বেলভিউ হসপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ হাসান বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আসল তথ্য পাওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, তিনি দুই চিকিৎসকের সঙ্গেই কথা বলে বিষয়টা জানবেন।

এ ব‌্যাপা‌রে ব‌রিশালের সি‌ভিল সার্জন মঞ্জুর ইলাহী জানান, বিষয়‌টি তাঁর নজ‌রে এসে‌ছে। দুই চি‌কিৎসকই শেবা‌চিম হাসপাতা‌লের আওতাধীন। তারপরও‌ তি‌নি বিষয়‌টি শেবাচিম হাসপাতাল প‌রিচালক ও বিভাগীয় স্বাস্থ‌্য অধিদপ্ত‌রের প‌রিচালককে অব‌হিত কর‌বেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে হত্যা করে পুলিশে খবর দিলেন বাংলাদেশি

শিক্ষার্থীর বাসায় মিলল গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ

চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের মৃত্যু: ‘কল দিয়ে ডাক্তার আশীষ স্যারের পা ধরেছি, তাও তিনি আসবেন না’

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি: প্রধানমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত