
পেনাল্টি থেকে গোলটা করতে পারলেই কিলিয়ান এমবাপ্পে বসে যেতেন লিওনেল মেসির পাশে। কিন্তু এমবাপ্পে সোজা বলটা তুলে দিলেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর হাতে। এমন ঘটনার পর চলছে নানা আলোচনা। ম্যাচ শেষে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
বোস্টনে গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালে ২৮ মিনিটের সময় পেনাল্টি পেয়েছিল ফ্রান্স। স্পটকিকটা এমবাপ্পে নিলেও তিনি লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। অথচ কদিন আগে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে পেনাল্টি থেকেই গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। মরক্কো ম্যাচ শেষে যখন পেনাল্টি মিসের প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তখন আত্মসমালোচনা করেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। এমবাপ্পে বলেন, ‘রেফারি আমাকে বলেছিলেন যে সেখানে পেনাল্টি হয়েছে। তাই আমি তাকে জিজ্ঞেস করি যে ভিএআরের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে কি না। তিনি (রেফারি) বলেন হ্যাঁ। সেই মুহূর্ত থেকে পেনাল্টির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। উসমান আমাকে বলটি এনে দেয়।’
তবে পেনাল্টির নাটকীয়তা যে তখনো শেষ হয়নি। সে মুহূর্তে কী ঘটেছিল, সেই ব্যাপারে এমবাপ্পে বলেন, ‘‘আমি যখন পেনাল্টির জন্য মনোযোগ দিচ্ছিলাম, তখন রেফারি আমার কাছে এসে বলেন যে কোনো পেনাল্টি হয়নি। আমি ফের বলটি হাতে তুলে নিই। এরপর তিনি যখন আমাকে আবার বলেন যে পেনাল্টি হয়েছে, তখন আমি বলটি আবার মাটিতে রাখি। তখন তিনি বলেন, ‘না, দাঁড়াও, ২ মিনিট আগের একটি ঘটনা চেক করতে হবে।’’
২৫ মিনিটে মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই বক্সের মধ্যে এমবাপ্পেকে ফেলে দেন। এটা পেনাল্টি হয়েছে কি হয়নি, সেটা খতিয়ে দেখতেই ৩ মিনিট লেগে যায়। তাতে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেছিল বলে জানান এমবাপ্পে। ফরাসি ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি কিছুটা মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম। এটা নিশ্চিত যে পেনাল্টি নেওয়ার সময় কীভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, তা নিয়ে অনেক রকম পরিস্থিতির কথা ভেবেছি। তবে এই ধরনের পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।’
ভিএআরের কারণে চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে বারবার কাঠগড়ায় উঠছে রেফারিং। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচনা চলছে। আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর জয়ও সেখানে গৌণ হয়ে উঠেছে। গত রাতে পেনাল্টির ব্যাপারে রেফারি দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন, তখন এমবাপ্পে কথা বলেছেন ভিএআর ইস্যুতেও। ফরাসি ফরোয়ার্ড বলেন,‘এটা এমন একটি পরিস্থিতি যা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এটি আধুনিক ফুটবলেরই একটি অংশ। ভিএআর আসার পর থেকে ফুটবল এখন এমনই হয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’
২৮ মিনিটে পেনাল্টি পেলেও এমবাপ্পে গোল আদায় করে নিতে পারেননি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ পুরোটা নিজের করে নিলেন ফরাসি অধিনায়ক। ৬০ মিনিটে নিজে গোল করেছেন। এরপর ৬৬ মিনিটে তিনি গোল করিয়েছেন উসমান দেম্বেলেকে দিয়ে।
কোচ দিদিয়ের দেশমের চোখে এমবাপ্পে ‘ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারানোর পর ফ্রান্স কোচ বলেন, ‘আজকের ম্যাচটি কঠিন ছিল। পেনাল্টি মিস করেছি। অনেক সুযোগও কাজে লাগাতে পারিনি। কিন্তু যখন কিলিয়ান আছে, তখন কোনো সমস্যা হয় না। এমনকি আগে একটি সুযোগ নষ্ট করার পরও সে দ্বিধায় ভোগে না। অনেকে বলেন কিলিয়ান স্বার্থপর। সে শুধু নিজের কথাই ভাবে। কিন্তু সে দলের অধিনায়ক এবং একজন আদর্শ নেতা।’
দেশমের আস্থার দারুণ প্রতিদান দিচ্ছেন শিষ্যরা। এমবাপ্পে ৮ গোল করে চলতি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে। লিওনেল মেসিও ৮ গোল করেছেন। কিন্তু মেসির অ্যাসিস্ট একটি। এমবাপ্পে করেছেন ৩ অ্যাসিস্ট। উসমান দেম্বেলে করেছেন ৫ গোল। এমনকি তাঁর একটি হ্যাটট্রিকও রয়েছে। ফ্রান্সের ১৬ গোলের ১১ গোল তো এমবাপ্পে-দেম্বেলে মিলে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্মটা তাঁরা ধরে রেখেছেন বিশ্বকাপেও।

বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের মতো কোচদেরও লড়াই চলে ইতিহাসের সঙ্গে। আর সেই ইতিহাস বলছে, নিজের দেশের বাইরে অন্য কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি কোনো কোচ। ৯৬ বছরের এই অপেক্ষা এবার ঘোচানোর সুযোগ আছে মাত্র দুজনের সামনে। আর তাঁরা হলেন ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ টমাস টুখেল এবং বেলজিয়ামে
৬ মিনিট আগে
ইংল্যান্ড-নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের এখনো এক দিন সময় বাকি। অনুশীলনের পাশাপাশি অবসরে তাই বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচেও নজর রাখছে নরওয়ে ফুটবল দল। কোন দল কী কৌশলে খেলে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, সেগুলো তো খেয়াল রাখতে হবে। তবে গত রাতে ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালের একটি ঘটনা নজর কেড়েছে ফুটবল ভক্
১ ঘণ্টা আগে
বোস্টনে গত রাতে মরক্কোকে ২-০ গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়েছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের এক গোল ও এক অ্যাসিস্টে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে ফরাসিরা। আজ রাতে নিশ্চিত হবে ফ্রান্সের সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন-বেলজিয়াম। এক নজ
২ ঘণ্টা আগে
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিওনেল মেসি। গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করে রেকর্ড বই তছনছ করছেন তিনি। তবে আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেললে বিপাকে পড়তে পারেন তারকা ফরোয়ার্ড। এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে