Ajker Patrika

খুলনায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া বস্তাবন্দী মরদেহের পরিচয় মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৩: ১৯
খুলনায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া বস্তাবন্দী মরদেহের পরিচয় মিলেছে
আরফানা হোসেন নির্জনা। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা শহরতলীর নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) খুলনা ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে। আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংবাদ দেখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নির্জনাকে শনাক্ত করেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডের একটি ৭ তলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দী কিছু পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। কেননা, সেই বস্তা থেকে তাজা রক্ত বের হচ্ছিল। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

সুরতহালকারী পুলিশের এসআই লাভলী পাল বলেন, নির্জনার মাথার ডান ও বাম পাশে আঘাত এবং গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় কালো একটি দাগও রয়েছে।

নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন মীম বলেন, গতকাল দুপুরে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে সবার অজান্তে নির্জনা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার আগে নির্জনা একটি চিঠি লিখে যায়। তাতে লেখা ছিল, ‘আমার কোনো খোঁজ খবর তোমরা নিওনা।' আজ দুপুরে প্রতিবেশীর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের মরদেহের ছবি দেখে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শনাক্ত করেন।

নির্জনার মা বলেন, গত ২১ এপ্রিল নির্জনা বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ছেলেটির চরিত্র ভালো নয়। ১৭ দিন পর নির্জনাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু ওই ছেলে নির্জনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।

আরিফা ইয়াসমিন মীমের সন্দেহ, ‘রনি তার মেয়েকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে হত্যা করে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে গেছে।'

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, একজন পুরুষ মোটরসাইকেল চালিয়ে এসে একটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে রেখে যায়। নির্জনার মাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

খুলনা সদর থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি নিরালা ও প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা বা এর আশপাশে ঘটতে পারে। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত