Ajker Patrika

ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদন

বিএনপির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বিএনপির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে বড় ধরনের প্রত্যাশার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে এমন মত দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও সামনে রয়েছে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ।

আরও বলা হয়—ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক ভোটারের অংশগ্রহণ এবং তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রায় আঠারো মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় প্রতিযোগিতার পরিসর কিছুটা সীমিত ছিল, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ পরিস্থিতিকে নাজুক করে রেখেছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে এবং শিল্প-বাণিজ্য খাতও চাপের মুখে পড়ছে।

এ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার, পুলিশ বাহিনীকে পেশাদার করা এবং বিচারব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা—এসব ক্ষেত্রেও দ্রুত অগ্রগতি জরুরি।

রাজনৈতিক দিক থেকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সংস্কার প্যাকেজ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার পথ খুঁজতে হবে সরকারকে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ দীর্ঘ মেয়াদে দলটিকে রাজনীতির বাইরে রাখা কঠিন হতে পারে।

পররাষ্ট্রনীতিতেও ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র–এর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা ও উন্নয়ন কৌশলগতভাবে জরুরি, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

সবশেষে, প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে—নির্বাচনের পরের স্বল্প সময়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যদি সরকার দ্রুত সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রগতি দেখাতে না পারে, তবে জন অসন্তোষ বাড়তে পারে এবং দেশে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত