Ajker Patrika

কৃষকের কান্না

সম্পাদকীয়
কৃষকের কান্না

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে তলিয়ে গেছে আউশ ধান, বীজতলা, মৌসুমি সবজি, ফল, মরিচ, পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষকের ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির শঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

হাতিয়া উপজেলা ধান চাষের পাশাপাশি এর বেশ কয়েকটি গ্রাম বারোমাসি সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানকার কৃষকেরা শুধু সবজি চাষ করে সংসার চালান। তাই এ সময়ে বিপুল পরিমাণ সবজির গাছ পচে যাওয়া, আউশ ধান ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে পুরো বছরের খাদ্য উৎপাদনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়া। যাঁরা কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বেন। সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং নতুনভাবে চাষ করতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন। এসব সর্বস্বান্ত কৃষকের কষ্ট লাঘবে সরকারের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে, নতুবা তাঁরা উঠে দাঁড়াতে পারবেন না।

এই অসহায় কৃষকদের রক্ষা করতে হলে এখনই প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগে একটি সমন্বিত ও তাৎক্ষণিক বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন। যেসব প্রান্তিক কৃষক তাঁদের আউশ ধান ও শাকসবজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, তাঁদের তালিকা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রণয়ন করতে হবে, যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সরকারি সহায়তার আওতায় আসেন। কৃষি বিভাগের উচিত জরুরি ভিত্তিতে বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে কৃষকদের দ্রুত বর্ধনশীল আমন ধান ও সবজির বীজ প্রদান করা, যাতে তাঁরা এই মৌসুমে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।

একই সঙ্গে পানের বরজ, মরিচ ও ফলচাষিদের জন্য সহজ শর্তে বা সম্পূর্ণ সুদমুক্ত দীর্ঘমেয়াদি কৃষিঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকদের যেহেতু পুনরায় চাষ শুরু করতে হবে, তাই বিপুল পরিমাণ পুঁজির প্রয়োজন। এর সঙ্গে বীজ, সার ও কীটনাশকের মতো প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের জোগান দিতে হবে। কৃষকেরা যেন কৃষি উপকরণ ন্যায্যমূল্যে পান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

সাময়িক আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে হাতিয়ার এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, যদি জলাবদ্ধতার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়।

উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলোর ভাঙা অংশ সংস্কার এবং জোয়ারের পানি প্রবেশ রোধে স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিক স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে। সেগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভাটার সময় পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে, আবার জোয়ারের লোনাপানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করতে না পারে।

আমাদের প্রত্যাশা, সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকের কান্না মুছে দেওয়া হবে এবং পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার মাধ্যমে হাতিয়ার উর্বর কৃষিজমিকে স্থায়ী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা হবে। এ জন্য সরকারকে দূরদর্শী ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত