কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সতীপুর মৌজায় প্রায় ৩০ বছর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগ বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বাঁধ নির্মাণ করে। বাঁধের ভেতরে রয়েছে চারটি গ্রাম, সড়ক ও এক হাজার একর আবাদি জমি। বাঁধের পশ্চিম পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত হয়েছিল একটি কালভার্ট। সেই কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন দুই ভাই। সোনা উল্লাহ ও আমান উল্লাহ নামের এই দুই ভাইয়ের আর কোনো জমি নেই বিধায় ছয় মাস আগে তাঁরা এখানে বাড়ি নির্মাণের কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। ফলে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক তো বটেই, বসতবাড়িসহ ফল ও সবজির বাগানও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে চার গ্রামের মানুষ। যেন ৩০ বছরের বেশি সময় আগে ফিরে যেতে হলো তাদের!
উল্লাহ ভ্রাতৃদ্বয় একবারের জন্যও জনস্বার্থের কথা ভাবেননি। তাঁরা হয়তো ধারণা করতে পারেননি কালভার্টের মুখ ভরাট করে দিলে এর পরিণতি কী হতে পারে। হয়তো প্রতিবেশীরা তাঁদের সঙ্গে গোসসা করে থাকবেন, কিন্তু দুই ভাই ও তাঁদের পরিবারও নিশ্চয়ই এই জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী। ডুবে যাওয়া সড়ক দিয়ে হয়তো তাঁরাও চলাচল করতে পারছেন না। যেমনটা পারছে না চার গ্রামের শিশুরা—নিয়মিত স্কুলে যেতে—ওই একটাই পথ তাদের। প্রাইমারি স্কুলটিও ডুবে আছে পানিতে। শুধু দুটি বাড়ির নির্মাণ সবাইকে ফেলে দিয়েছে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে।
কালভার্টটি তৈরির উদ্দেশ্য ছিল অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা। অর্থাৎ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপরিকাঠামো। সেই কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের ব্যাপার কি না, তা স্থানীয় মোড়লেরা ভেবে দেখতে পারেন। আর কোনো জায়গা না থাকায় ‘বাধ্য’ হয়ে কালভার্টের মুখে বাড়ি নির্মাণ কি কোনো যুক্তিতে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটাও ভেবে দেখতে পারেন। একজনের আবাসনের অধিকার অন্য সবার নিরাপদ জীবন ও জীবিকার অধিকারকে গ্রাস করতে পারে না। সংকটটা দুই দিকে—আবাসন এবং জলাবদ্ধতা। দুটোরই সহজ সমাধান হওয়া উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন কালভার্টের মুখ খুলে দিতে। কিন্তু এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্ষা মৌসুমে প্রতিটি দিন বিলম্ব মানেই কৃষকের আরও ক্ষতি, শিক্ষার্থীদের আরও ভোগান্তি এবং মানুষের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি। এ ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।
বাংলাদেশে জলাবদ্ধতার একটি বড় কারণ প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ দখল ও বাধাগ্রস্ত করা। খাল, ড্রেন, কালভার্ট কিংবা নদীর সংযোগপথ বন্ধ করে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। এসব ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ হবে। এই চিত্র শুধু ভূরুঙ্গামারীর নয়, পুরো দেশেরই। সম্ভবত রাজধানী ঢাকাতে এর উদাহরণ বেশি। তাই রাষ্ট্র পরিচালকদের এমন দৃশ্য অচেনা হওয়ার কথা নয়। তাহলে সংকট সমাধানে দেরি কেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। একসময় ‘লোকায়ত’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তিনি সমাজবিশ্লেষক, সাহিত্য সমালোচক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ হিসেবে বেশি পরিচিত। ৫ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
মুশকিল হলো, যেকোনো পেশার লোক কাজে গাফিলতি করতে পারেন। নিজের কাজের ভার চাপিয়ে দিতে পারেন অন্যের ওপর। ফলে যেকোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে। এই তো সেদিন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
১ দিন আগে
জুলাইয়ের আন্দোলনের শুরুতে যে স্লোগানগুলো মানুষের হৃদয়ে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল, সেগুলো ছিল—‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’/ ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’/‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’।
১ দিন আগে
বানভাসি, দারিদ্র্য, অভাব-অনটন, রাজনৈতিক উত্থান-পতন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি—এসবকে ছাপিয়ে গত এক মাস দেশের মানুষ একটানা ফুটবলের ঘোর ও স্বপ্নের মধ্যে দিন-রাত কাটিয়েছে। এর মধ্যে তাদের জীবনে এসেছে কখনো আনন্দ, কখনো বিষাদ। শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই সংক্রমিত হয়েছে এই ফুটবল-জ্বর।
১ দিন আগে