Ajker Patrika

৫০ বার চেষ্টা করেও মেলেনি সরকারি চাকরি, স্বর্ণপদকজয়ী তরুণের আত্মহত্যা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৪২
৫০ বার চেষ্টা করেও মেলেনি সরকারি চাকরি, স্বর্ণপদকজয়ী তরুণের আত্মহত্যা
সরকারি চাকরি না পেয়ে মেধাবী তরুণের আত্মহত্যা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে সরকারি চাকরি পাওয়ার প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হওয়ায় মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহত্যা করেছেন ২৩ বছর বয়সী এক বিটেক (প্রযুক্তি ব্যবসায়) স্বর্ণপদকজয়ী তরুণ। মৃত্যুর আগে তিনি একটি সুইসাইড নোট রেখে গেছেন, যেখানে সরকারি চাকরি না পাওয়ার জন্য বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তরুণের নাম আনন্দ কুমার। তিনি কানপুরের একটি বেসরকারি প্রকৌশল কলেজ ‘প্রাণবীর সিং ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ (পিএসআইটি) থেকে ২০২৪ সালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক সম্পন্ন করেন। তিনি তাঁর ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন এবং পুরো উত্তর প্রদেশ রাজ্যে তৃতীয় হয়েছিলেন। কলেজের এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল তাঁর হাতে এই স্বর্ণপদক তুলে দিয়েছিলেন।

পুলিশ জানায়, কানপুরের গোবিন্দ নগরে নিজেদের তিন তলা বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আনন্দের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যার আগে একটি চিরকুটে তিনি ইংরেজিতে লিখেছেন, ‘দুঃখিত বাবা, আমি সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য প্রায় ৫০ বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।’

নিহত তরুণের বাবা রাজকুমার জানান, স্নাতক শেষ করার পর আনন্দ ভারতের জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা ‘পাওয়ার গ্রিড’-এ এক বছরের একটি শিক্ষানবিশি (অ্যাপ্রেনটিসশিপ) সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর থেকেই তিনি পুরোদমে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

একটি বেসরকারি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী রাজকুমার বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘ও রেলওয়ে, এসএসসি (স্টাফ সিলেকশন কমিশন), ব্যাংক এবং শিক্ষা বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু কোনোটিতেই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে পারেনি। এই কারণে গত কয়েক মাস ধরে ও প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিল।’

পুলিশ জানায়, আনন্দের বড় ভাইয়ের বিয়ের কথা পাকা করতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিহারে নিজেদের দেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে আনন্দ একাই ছিলেন। আজ সোমবার সকালে বাড়ির গৃহকর্মী এসে বারবার কলিং বেল বাজানো ও দরজা ধাক্কাধাক্কির পরও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। ভারতে তরুণদের মধ্যে সরকারি চাকরির তীব্র প্রতিযোগিতা এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত