কাউকে এখন আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে যেকোনো হীন আচরণ করা যেন ন্যায্যতা পেয়ে গেছে! আওয়ামী দোসর বলে যেমন কোনো ব্যক্তিকে মব সৃষ্টি করে মারধর করা যেতে পারে, তেমন তাকে লুটও করা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেখা যাবে, একদিন দোসর বলে কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হাল ফ্যাশনে পরিণত হবে! যারা কাউকে এই আখ্যা দেয়, তারা কি মনে করে, সাত খুন করেও মাফ পাওয়া যায়?
যে কারণে এসব কথার অবতারণা করতে হলো—রাজধানীর দিয়াবাড়িতে র্যাব পরিচয়ে সালমান মাহবুব জয় নামের এক কসমেটিক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মারধর এবং তাঁর কাছে থাকা ৩২ লাখ টাকা এবং প্রায় ৯ লাখ থাই বাথ লুট করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে মতিঝিল ও পল্টনের মানি এক্সচেঞ্জে যান, পরে উত্তরায় যাওয়ার জন্য মেট্রোরেল ব্যবহার করেন। সেখান থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ারে আজমপুর যেতে অটোরিকশায় ওঠেন। পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, সালমান সাহেব কতটা সরল বিশ্বাসে অচেনা, অজানা একজনের সঙ্গে রিকশায় চড়ে বসেছেন, তা-ও আবার এত টাকা নিয়ে! পথিমধ্যে রিকশা থামিয়ে অজ্ঞাত সাত ব্যক্তি নিজেদের র্যাব পরিচয়ে তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করতে চায়। সন্দেহ হলে তিনি দৌড়ে পালাতে চান। কিন্তু তাঁকে আওয়ামী দোসর তকমা দিয়ে ধাওয়া করে অপহরণ করা হয়। এরপর মারধর এবং লুট। ঘটনাটি ঘটে ২৫ এপ্রিল বিকেলে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ভাঙিয়ে এমন সংঘবদ্ধ অপরাধ সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বটে। র্যাব পরিচয়ে অপরাধ করার ঘটনা যদিও নতুন কিছু নয়। কিন্তু উদ্বেগ বাড়ে এই জন্য যে ভুয়া পুলিশ বা র্যাবের নাটক সাজিয়ে অপরাধপ্রবণতা কমছেই না। এমন পরিস্থিতিতে সত্যিকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর জনসাধারণের আস্থা থাকবে না। ফলে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারাও যে কেন এসব ঘটনা বন্ধ করতে পারছে না, সেটাও একটা বিরাট প্রশ্ন।
ভুক্তভোগী মামলা করেছেন। লুটেরা চক্রকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে শুধু অপরাধীকে গ্রেপ্তার আর শাস্তি দিয়ে দিলেই কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে। তাদের নাম ভাঙিয়ে যেন আর কোনো অপরাধ সংঘটিত না হয়, সেই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, সিসিটিভি মনিটরিং কার্যকর করা এবং ভুয়া পরিচয়ে অভিযান চালানো চক্রগুলো শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো জরুরি।
একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পরিচয় যাচাইয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো উচিত। যেমন ডিজিটাল আইডি যাচাই, হটলাইন নম্বর এবং তাৎক্ষণিক যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের প্রতারণা কমানো সম্ভব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোই হতে পারে এই সংকট মোকাবিলার প্রধান উপায়।

পরাধীনতার যুগে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ভাঙচুর ঘটবে, এটা স্বাভাবিক; কিন্তু স্বাধীনতার যুগেও তা যে বৃহত্তর জনগণের পক্ষে যাবে না, বিপদটা সেখানেই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজনীতি পূর্ববঙ্গের সব বাঙালিকে একত্র করেছিল (গোলাম আযমদের বাদ দিয়ে)। যে জন্য তখন জাতীয় লক্ষ্য যে সমাজতন্ত্র হবে...
২ ঘণ্টা আগে
আধুনিক মানব সভ্যতার ইতিহাসে জেনারেশন জেড (১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম) এক অনন্য অথচ চ্যালেঞ্জিং সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে একটি বিতর্কিত দাবি জোরালো হচ্ছে—জেনারেশন জেডই ইতিহাসের প্রথম প্রজন্ম...
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব পুলিশের ওপর। মানুষের নিরাপত্তা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে এই বাহিনীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গত দুই বছরে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে, পুলিশকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়—এটি আস্থার সংকট,
১ দিন আগে
বর্তমান সময়ে যখন পৃথিবী জ্ঞান-বিজ্ঞানে, তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রসরমাণ, তখন সমাজকে বা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। আজ থেকে ২৫ বছর বা ৩০ বছর পর কী হবে, সেই চিন্তা এখনই করতে হবে। আজকের সমস্যার জন্য আজকে চিন্তা করলে সমস্যা দূর তো হবেই না, সমস্যায় জট পাকিয়ে যাবে।
১ দিন আগে