Ajker Patrika

ইশতেহারে কি প্রবীণ ভোটারদের কণ্ঠস্বর থাকবে

হাসান আলী 
ইশতেহারে কি প্রবীণ ভোটারদের কণ্ঠস্বর থাকবে
হাসান আলী

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের দিন নয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপির নেতৃত্বে একটি জোট এবং জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের আরেকটি জোট নির্বাচনী মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ভিড়ে একটি বাস্তবতা প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়—বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি প্রবীণ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের জীবন-অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও অবদান ছাড়া এই রাষ্ট্র কল্পনাই করা যায় না।

প্রবীণেরা শুধু ভোটার নন; তাঁরা ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্রগঠন, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প—সবখানেই তাঁদের শ্রম ও মেধার ছাপ রয়েছে। অথচ দুঃখজনক সত্য হলো, নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবীণদের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়গুলো খুব কমই গুরুত্ব পায়। এবার সময় এসেছে এই অবহেলার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার।

১. শারীরিক সুরক্ষা: বয়সের সঙ্গে যুদ্ধ বার্ধক্য মানেই রোগের সঙ্গবাস। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, বাত, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তির সমস্যা প্রবীণদের নিত্যসঙ্গী। অথচ অধিকাংশ প্রবীণ নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারেন না। নির্বাচনী ইশতেহারে থাকতে হবে—

  • প্রবীণদের জন্য বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা
  • ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে জেরিয়াট্রিক (প্রবীণ চিকিৎসা) সেবা
  • ওষুধে বিশেষ ভর্তুকি ও মোবাইল মেডিকেল টিম

২. মানসিক স্বাস্থ্য: নীরব কষ্টের স্বীকৃতি—একাকিত্ব, অবহেলা, সন্তানদের ব্যস্ততা—প্রবীণদের মানসিক কষ্ট বাড়াচ্ছে। বিষণ্নতা ও স্মৃতিভ্রংশ (আলঝেইমারস) এখন বড় সামাজিক সমস্যা। ইশতেহারে থাকতে হবে—

  • মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং সেবা
  • ডে-কেয়ার ও প্রবীণ মিলনকেন্দ্র
  • আলঝেইমারস ও ডিমেনশিয়া বিষয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা

৩. আর্থিক নিরাপত্তা: সম্মানজনকভাবে বাঁচার অধিকার সবার রয়েছে। বয়স বাড়লে আয় কমে যায়, অথচ খরচ বাড়ে। প্রবীণ ভাতা অনেকের জন্য আশার আলো হলেও তা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন—

  • প্রবীণ ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি ও সহজ প্রাপ্তি
  • আজীবন শ্রমজীবী প্রবীণদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা
  • বেসরকারি খাতে কাজ করা প্রবীণদের

সামাজিক নিরাপত্তা জাল

৪. সামাজিক মর্যাদা: প্রবীণেরা বোঝা নন, সম্পদ। আজ অনেক প্রবীণ পরিবার ও সমাজে নিজেকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ মনে করেন। এটি রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। রাজনৈতিক অঙ্গীকার হতে হবে—

  • পরিবারে প্রবীণ নির্যাতন রোধে কঠোর আইন
  • সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি
  • স্থানীয় সরকারে প্রবীণদের পরামর্শমূলক ভূমিকা

৫. বিনোদন ও অংশগ্রহণ: প্রবীণদের জীবনের আনন্দ ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রবীণ জীবন মানেই নিঃসঙ্গতা নয়। তাঁদের আনন্দ, হাসি ও সৃজনশীলতার অধিকার আছে। দরকার—

  • পার্ক, হাঁটার পথ ও প্রবীণবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ।
  • সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পাঠচক্র, প্রবীণ ক্লাব, প্রবীণ আড্ডার আয়োজন করা।
  • প্রবীণদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করা।

শেষ কথা হলো, ২ কোটি প্রবীণ ভোটার কোনো ছোট সংখ্যা নয়। তাঁরা বিবেক-বিবেচনা করে ভোট দেন। যে রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবীণদের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, সামাজিক ও বিনোদনের বিষয়গুলো আন্তরিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে, তারাই প্রকৃত অর্থে মানবিক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার দাবি রাখতে পারে।

এই নির্বাচন হোক প্রবীণদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। কারণ, প্রবীণদের সম্মান মানেই জাতির সম্মান।

হাসান আলী, প্রবীণবিষয়ক সংগঠক ও লেখক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পোস্টারবিহীন নির্বাচনে প্রচারের ধরনে বদল

ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষা দিয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

‘পাকিস্তান সরকার যদি ক্রিকেট বোর্ডকে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াতে বলে, তখন’

আজকের রাশিফল: প্রাক্তনের ছবিতে লাইক দেবেন না, গিন্নির হাতে আজ খুন্তি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত