Ajker Patrika

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষা দিয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৫২
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষা দিয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি
ফাইল ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা এবং দায়মুক্তি দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। এই অধ্যাদেশের ফলে অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত কোনো মামলা করা যাবে না।

গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই ঐতিহাসিক অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

কেন এই সুরক্ষা অধ্যাদেশ?

অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতা এক সর্বাত্মক অভ্যুত্থানে অংশ নেয়। সেই সময় তৎকালীন সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রতিরোধে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দেওয়া এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মামলা প্রত্যাহার ও অব্যাহতির নিয়ম

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো গণ-অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে যদি অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে কোনো মামলা বা আইনি কার্যধারা চালু থাকে, তবে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারের নিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করতে হবে। আবেদন দাখিলের সাথে সাথেই আদালত উক্ত মামলার সকল কার্যক্রম স্থগিত করবেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।

হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত অভিযোগ ও মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা

যদি কোনো অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা সরাসরি আদালতে না গিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশন এই অভিযোগ তদন্ত করবে। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্তারোপ করা হয়েছে—যদি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি পুলিশ বা অন্য কোনো বাহিনীর সদস্য হন, তবে সেই বাহিনীর কোনো বর্তমান বা সাবেক কর্মকর্তা এই তদন্তের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।

তদন্তের ফল ও প্রতিকার

১. রাজনৈতিক প্রতিরোধ: যদি কমিশনের তদন্তে প্রমাণিত হয় যে অভিযুক্ত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা করা যাবে না।

২. অপরাধমূলক অপব্যবহার: যদি দেখা যায় যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ অপরাধমূলক কাজ করেছে, তবে কমিশন আদালতে প্রতিবেদন দেবে এবং আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে বিচারিক ব্যবস্থা নেবে।

এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বিধি প্রণয়ন করতে পারবে। এই আইনের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের বীরদের আইনি হয়রানি থেকে চিরস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পোস্টারবিহীন নির্বাচনে প্রচারের ধরনে বদল

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষা দিয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে

‘পাকিস্তান সরকার যদি ক্রিকেট বোর্ডকে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াতে বলে, তখন’

সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, এসআইকে কান ধরিয়ে রাখল বিক্ষুব্ধ জনতা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত