
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জমজমাট প্রচার শুরু হলেও অধিকাংশ ছাপাখানায় নেই কর্মচাঞ্চল্য। কারণ, এবারই প্রথম নির্বাচনী আচরণবিধিতে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে বদলে গেছে প্রচারের ধরনও। ব্যানার, ডিজিটাল ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, স্টিকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই হয়ে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচারের ভরসা।
প্রার্থীদের পোস্টার নিষিদ্ধ থাকায় রাজধানীর বেশির ভাগ ছাপাখানাতেই কর্মচাঞ্চল্য নেই। গতকাল রোববার রাজধানীর ছাপাখানা পাড়া হিসেবে পরিচিত ফকিরাপুল ও আরামবাগ ঘুরে এবং মুদ্রণশিল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। একই অবস্থা নগরীর নীলক্ষেত, কাঁটাবন ও মিরপুর এলাকার ছাপাখানাগুলোতেও। সারা দেশে প্রায় একই চিত্র।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, এবার নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীদের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রার্থীরা শুধু লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এগুলো কোনো দালান, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ বা টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনা কিংবা যানবাহনে লাগানো যাবে না। এ ছাড়া প্রচারসামগ্রীতে রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসি।
পোস্টার নিষিদ্ধ থাকায় এবার আর পাড়া-মহল্লা, অলিগলির আকাশ ঢাকা পড়েনি দড়িতে টানানো সারি সারি পোস্টারে।
ফকিরাপুল ও আরামবাগে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকটি প্রেসে লিফলেট ছাপার কাজে ব্যস্ত মুদ্রণশ্রমিকেরা। কেউ নকশা করছেন, কেউ ছাপানোর, কেউ কাটিং ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যস্ত।
মুদ্রণশিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় ডিজিটাল ব্যানার ও ছোট আকারের লিফলেট ছাপার চাহিদা কিছু বেড়েছে। তবে তা-ও আশানুরূপ নয়। কারণ, লিফলেট আকারে ছোট হওয়ায় ঢাকায় না দিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই অধিকাংশ কাজ করা হচ্ছে। ঢাকায় সীমিত কয়েকটি নির্বাচনী আসনের কাজ আসছে।
জানতে চাইলে ফকিরাপুলের একটি ছাপাখানার স্বত্বাধিকারী মকবুল মিয়া বলেন, আগে নির্বাচন এলে পোস্টারের কাজ বেশি ছিল। এবার পোস্টার নেই, তবে কিছু ডিজিটাল ব্যানার, স্টিকার ও লিফলেটের কাজ পাওয়া গেছে।
এক মুদ্রণশ্রমিক বলেন, আগে নির্বাচন এলে কাজের চাপ অনেক বাড়ত। দিনরাত কাজ করতে হতো। এবার সে অবস্থা নেই।
এদিকে কাগজ ও কালির মূল্যবৃদ্ধিও নির্বাচনী ছাপার কাজের চাহিদা কমার একটি কারণ বলে মনে করেন একাধিক মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তাঁরা বলেন, বর্তমানে ৮×১১ ইঞ্চি আকারের একটি সাদা-কালো লিফলেট ছাপাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ২ টাকা; আগে যা ১ থেকে দেড় টাকায় ছাপানো যেত। এ ছাড়া ছোট সাইজের সাদা-কালো রঙে লিফলেট ছাপার বাধ্যবাধকতার কারণেও রাজধানীর অধিকাংশ ছাপাখানা লিফলেট ছাপায় আগ্রহী নয়।
আরামবাগের রিয়েল প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী আকতার হোসেন বলেন, রাজধানীর বেশির ভাগ ছাপাখানার মেশিন বড় আকারের কাগজে ছাপার জন্য উপযুক্ত। এ কারণে বেশির ভাগ প্রেসমালিক ছোট আকারের লিফলেট ছাপানোর কাজ নিতে আগ্রহী নন। এ ছাড়া বর্তমানে বই ছাপারও কিছু চাপ রয়েছে। এর বাইরে কাগজ ও কালির বাড়তি দাম তো আছেই।
ডিজিটাল ব্যানার ও স্টিকার ছাপার চাহিদাও এবার তুলনামূলক কম বলে জানান একাধিক ডিজিটাল ব্যানার ছাপার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। ফকিরাপুলের মা ডিজিটাল প্রিন্টার্সের আওলাদ মিয়া বলেন, আগের তুলনায় এবার ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুনের চাহিদা কম। কাজ আসছে হাতে গোনা। তাঁর ধারণা, এবার বেশির ভাগ কাজ স্থানীয় পর্যায়ে করা হচ্ছে।
মুদ্রণকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, বড় আকারের পোস্টার ছাপা নিষিদ্ধ হওয়ায় ছোট আকারের অধিকাংশ লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এখন স্থানীয় পর্যায়ে ছাপা হচ্ছে। কাগজ-কালির বাড়তি দামের কারণেও অনেক ছাপাখানা এ ধরনের কাজে উৎসাহ পাচ্ছে না।

যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ১২০ একর জমি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নীতিমালা সংশোধন, সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ...
৪২ মিনিট আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কেউ ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকেও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ.....
১ ঘণ্টা আগে
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম আবারও কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ১০৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন...
১ ঘণ্টা আগে
প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেরত আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উন্নত জীবনের আশায় বিপুল অর্থ ব্যয় করেও শেষ...
২ ঘণ্টা আগে