শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য জ্ঞান, মূল্যবোধ ও নাগরিকবোধ গড়ে তোলা। সেখানে দলীয় রাজনীতির অনুপ্রবেশ শিশুদের মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করে এবং গণতন্ত্র সম্পর্কে ভুল বার্তা দেয়।
বিশেষত ভোটাধিকারপ্রাপ্ত নয়—এমন শিশুদের দিয়ে নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে শপথ করানো আইনগতভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ এরই মধ্যে এ বিধি উপেক্ষিত হয়েছে কুড়িগ্রামে।
জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পূর্ব ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের দিয়ে রাজনৈতিক শপথ পাঠ করানো হয়েছে! মোকাদ্দেস হোসাইন নামের এক ছাত্রদল নেতা এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ছাত্রদলের এই যুগ্ম আহ্বায়ক ২২ জানুয়ারি কর্মীদের নিয়ে স্কুলটিতে অ্যাসেম্বলির সময় গিয়ে শিশুদের সঙ্গে শারীরিক শিক্ষা নিয়ে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু কথা বলার একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত স্বরে পাঠ করান, ‘আমরা যদি বড় হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম; আমরা যদি ভোটার হতাম, রানা ভাইকে (কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী) ভোট দিতাম।’
ওই ‘শপথবাক্য’ পাঠ করাতে আপত্তি জানালে হুমকিও পেয়েছেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক। এদিকে মোকাদ্দেস হোসাইনের ভাষ্য, তিনি নির্বাচনী আইন জানতেন না এবং এই ‘ভুল’ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে করেননি।
যেকোনো পূর্ণবয়স্ক বিবেকবান ব্যক্তি নিশ্চয়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিশুদের দিয়ে ‘রাজনৈতিক শপথবাক্য’ পাঠ করাবেন না। শিশুদের কোমল মস্তিষ্ক রাজনীতির মতো ভারী বিষয়কে সহজে বুঝবে না—এটিই তো স্বাভাবিক। তাই বলে তাদের মগজে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের ‘ভূত’ চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই নৈতিক আচরণ নয়। যে শিশু আজ ডাক্তার হতে চায়, বড় হয়ে সে হয়তো শিক্ষক হতে চাইবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতা বাড়ে, লক্ষ্য স্থির করা সহজ হয়। তাই তো পরিণত বয়সেই ভোটাধিকার পায় একজন নাগরিক। সেই অধিকারকে খর্ব করা হয় যদি শিশু বয়সে কাউকে শেখানো হয় কিসে ভোট দিতে হবে।
নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রচার বা কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন লঙ্ঘনে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আবার নির্বাচনী আচরণবিধিতে (ইলেকটোরাল কোড অব কন্ডাক্ট) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে ভোট বা প্রচারণা চালানোর অনুমতি নেই।
শিশুরা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির হাতিয়ার হতে পারে না—এই মৌলিক সত্যটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল কুড়িগ্রামের কাণ্ডটি। অনভিপ্রেত আচরণ করে ওই ছাত্রদল নেতা নির্বাচনী শিষ্টাচারের অবমাননা করেছেন। ‘আইন জানা নেই’ বলে তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না। আর যে রাজনৈতিক দলের পক্ষেই তিনি প্রচারণা চালান না কেন, সেই দলেরও তো একটা গুরুদায়িত্ব রয়েছে কর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামানো।
শিশুদের রাজনীতির বাইরে রাখাই সুস্থ গণতন্ত্রের চর্চা। এই চর্চা করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযম দেখাতে হবে। তাই মোকাদ্দেস হোসাইনের শাস্তি হওয়া জরুরি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের বাকি আর মাত্র ১৭ দিন। এরই মধ্যে জমে উঠেছে প্রচারযুদ্ধ। আর এই প্রচারযুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় দিক হলো, প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রার্থীদের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ।
৬ ঘণ্টা আগে
ইতিমধ্যে দেশের পাঁচটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলসমূহ। এরই মধ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
৬ ঘণ্টা আগে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের দিন নয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপির নেতৃত্বে একটি জোট এবং জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের...
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের জনগণ এখন জাতীয় নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে মানুষের মধ্যে। কারণ, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ধরনের ভূমিকার কারণে সেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
১ দিন আগে