
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা পর্ষদের হাতে দেওয়ার আলোচনায় উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাঁরা বলছেন, এটা হলে নিয়োগে দুর্নীতি হবে এবং তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই প্রতিবাদ জানিয়ে গত সোমবার এবং গতকাল মঙ্গলবার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।
এমন প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকেরা এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়ে একে আরও কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়ে এ বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।
৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বা এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে—মিডিয়ায় এ রকম খবর ছড়িয়ে পড়লে চাকরিপ্রত্যাশীসহ বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে। সোমবার রাত এবং গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এর প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রত্যাশী অনেকে।
গতকাল বিকেলে এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র জমায়েত কর্মসূচি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘কমিটি না মেধা, মেধা, মেধা’; ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’; ‘কোটা গেলো যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’ এবং ‘বাণিজ্য না শিক্ষা, শিক্ষা, শিক্ষা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘হাসিনা যেমন মেধার সামনে এক কোটার দেয়াল দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, আপনারা আবার দুই বছরের মাথায় শিক্ষার্থীদের মেধার সামনে পুনরায় কমিটি নামক দুর্নীতির দেয়াল দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন।’
ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘একজন অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ হলে একজন যোগ্য প্রার্থী অধিকারবঞ্চিত হন। একই সঙ্গে ওই শিক্ষকের কাছে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
একই দাবিতে গতকাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীদের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে মানবাধিকার সংগঠন সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্কের ইবি শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট, ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশিদুল ইসলাম রাফি, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহমিদ হাসান, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত এবং জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি এস এম শামীম। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সোমবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। পরে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন তাঁরা। সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘আজকে শিক্ষামন্ত্রী অতীতের মতো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির নতুন অধ্যায় চালুর পাঁয়তারা করছেন। চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে মেধাকে অবমূল্যায়ন করে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান দেওয়া হবে না।’
এর আগে একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ডিসকাশন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন চাকরিপ্রার্থীরা। এ ছাড়া রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে মানববন্ধন করেন একদল শিক্ষার্থী। সেখানে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, ‘এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রচলিত মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা বহাল রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাবসহ যেকোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।’
সোমবার রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা ‘দুর্নীতির আমদানি, নাম তার কমিটি’; ‘নিয়োগে চাই স্বচ্ছতা’; ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন মানি না, মানব না’ এবং ‘কোটা গেছে যে পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’—এসব স্লোগান দেন।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গতকাল বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে ‘এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ—ইআরআই’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একটি মিটিংয়ের রেজল্যুশনের আলোচনার জায়গাটুকু কেটে কোনো গুপ্ত এক লোক মন্ত্রণালয় থেকে আলোচনায় যতটুকু হয়েছে, অতটুকু কেটে দিয়েছে। আর সেটাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনের ছাত্ররা মিছিল শুরু করল।...একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে এটা আলোচনা হবে...সেখান থেকে রেজল্যুশন হয়ে আমার কাছে আসবে। সেই রেজল্যুশনের সিদ্ধান্ত কি মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটা কি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত? এটা কি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটা কি দলীয় সিদ্ধান্ত? একবারও ভাবে না।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘চিলে কান নিয়ে গেছে শুনেছে আর চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে। একবারও কানে হাত দিয়ে দেখে না, আমার কানটা রয়েছে কি না।
এর আগে চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিবাদের খবর প্রচারিত হলে সোমবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, ‘এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ , দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদানসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’
অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভার বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন থেকে এনটিআরসিএ শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হলেই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদের বিপরীতে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিবন্ধন সনদ নিতে হয়। পরীক্ষা নিয়ে এই সনদ দেয় এনটিআরসিএ। এরপর নিয়োগের জন্য সংস্থাটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নিয়ে শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে।
২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পরিচালনা করছে এনটিআরসিএ। তবে শুরুতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ছিল। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরকার এনটিআরসিএকে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্বও দেয়। এর পর থেকে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করে আসছে সংস্থাটি।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক শিক্ষাবিদ মনজুর আহমেদ বলেন, ‘আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ শিক্ষক নিয়োগ দিত। এ ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কথা শোনা যেত। এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ ব্যবস্থা চালুর পর তা অনেকটা দূর হয়েছে। সরকারের উচিত, এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা, যাতে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক বাছাই করা যায়।’
মনজুর আহমেদ আরও বলেন, যোগ্য শিক্ষক পেতে হলে বাছাইপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার সিলেবাসও যুগোপযোগী করতে হবে।
[এই প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন আজকের পত্রিকার সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা]

সাধারণত শহরের তুলনায় বরাবরই গ্রামে লোডশেডিং বেশি হয়। গরমের তীব্রতা আবার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষকে এখন ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকা সইতে হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা শহরের বাসিন্দারাও লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে রয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ও আলমগীর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহে শুরু হতে পারে। ভারত সরকারের চাহিদামতো পাঠানো প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই শেষে আসামিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতীয়...
২ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সহায়তায় গবেষণা সহযোগী নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের বেঞ্চ এ আদেশ দেন...
৫ ঘণ্টা আগে
কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন মো. সেলিম খান। তিনি এর আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়...
৫ ঘণ্টা আগে