Ajker Patrika

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: ফয়সাল, আলমগীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু আগামী সপ্তাহে

  • ভারতের চাহিদামতো সব নথিপত্র ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে।
  • নথি যাচাই শেষে ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছে ভারতীয় পক্ষ।
  • সব প্রক্রিয়া শেষে ফেরাতে এক থেকে দেড় মাস লাগবে।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ওসমান হাদি হত্যা মামলা: ফয়সাল, আলমগীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু আগামী সপ্তাহে
শরিফ ওসমান হাদি। ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ও আলমগীর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহে শুরু হতে পারে। ভারত সরকারের চাহিদামতো পাঠানো প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই শেষে আসামিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে।

স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গত সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গেও বৈঠক করেন হাইকমিশনার। এসব বৈঠকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে ফেরানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় ও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারতে অবস্থানরত চিহ্নিত পলাতক অপরাধীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। বিশেষ করে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত ফেরত দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় হাইকমিশনার আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত তাঁদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত এর আগেই সে দেশে গ্রেপ্তার হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছিল বাংলাদেশের কাছে। সেসব নথিপত্র ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের পাঠানো নথিপত্র ঠিক আছে। আগামী সপ্তাহ থেকে মূল প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও সোমবার ব্রিফিংয়ে বলেন, হাদি হত্যার সন্দেহভাজন আসামিরা ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ভারত যে নথিপত্র চেয়েছিল, সেগুলো বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে নদীয়ার শান্তিপুর থেকে এ মামলার আরেক আসামি ফিলিপ সাংমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার প্রধান দুই আসামিকে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে ফিলিপের বিরুদ্ধে। এই তিনজনই হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের আন্দোলনে পরিচিতি পাওয়া ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পল্টনের কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আরোহী হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর রাতেই তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। হাদি মারা যাওয়ার পর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীরসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। আদালত আবেদন গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পর থেকে তদন্ত করছে সিআইডি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত