Ajker Patrika

চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত বিমান শক্তি থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হতো না: সেনাপ্রধান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত বিমান শক্তি থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হতো না: সেনাপ্রধান

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিমানবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি থাকলে রোহিঙ্গা সংকটের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি না-ও হতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সামরিক সক্ষমতার ঘাটতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, যুদ্ধ এড়াতে হলে আগেভাগেই যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকতে হয়।

আজ বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘সামরিক বাহিনীগুলোর সক্ষমতা সম্পর্কে দেশের বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের জানা প্রয়োজন। কারণ, এগুলো জাতীয় প্রতিষ্ঠান। তিনি নৌবাহিনীর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানিনির্ভর দেশ হওয়ায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নৌবাহিনীর সীমাবদ্ধতার কারণে পর্যাপ্ত অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল (ওপিভি) না থাকায় ছোট করভেট দিয়ে টহল দিতে হচ্ছে, যা অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নয়।’

বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কেনা হয়নি। কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে যদি পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকত, তাহলে রোহিঙ্গা সংকটের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।’

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সামরিক অভিযানের মুখে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েক দফায় অনুপ্রবেশে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে। এতে ওই এলাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থীশিবিরে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে এই উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নানা চাপ তৈরি করছে।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘সময়মতো বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। আজ আপনি যদি ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন, ভবিষ্যতে হয়তো ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি এড়ানো যাবে। আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য।’ শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি পরস্পর পরিপূরক।’

একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নেই, সেটি কখনোই এগোতে পারে না।’

সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে সেনাপ্রধান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে পর্যাপ্ত তেল শোধন সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল শোধন করতে পারে। ফলে অধিকাংশ জ্বালানি পরিশোধিত অবস্থায় উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়। দ্বিতীয় রিফাইনারি না থাকায় তুলনামূলক সস্তা অপরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগও কাজে লাগানো যাচ্ছে না।’

অনুষ্ঠানে এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংলাপ ও ঐকমত্য গঠন অত্যন্ত জরুরি।’

ফয়জুর রহমান জানান, কোর্সে অংশ নেওয়া ফেলোদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কৌশলগত বোঝাপড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করেছে।

উল্লেখ্য, ক্যাপস্টোন কোর্সে ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে সংসদ সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, কূটনীতিক এবং করপোরেট খাতের প্রতিনিধিরা ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত চিন্তাভাবনা এবং আন্তখাত সহযোগিতা জোরদার করাই এ কোর্সের মূল লক্ষ্য।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত