Ajker Patrika

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ-রাশিয়া সহযোগিতা আরও জোরদার করার তাগিদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ২২: ৪২
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ-রাশিয়া সহযোগিতা আরও জোরদার করার তাগিদ
রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রাশিয়ার মস্কোতে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার হওয়া এই বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে পরমাণু শক্তি খাতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এ ছাড়া চলতি বছরের মে মাসে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে ফুয়েল বা পারমাণবিক জ্বালানি লোড করার বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে এর সিনক্রোনাইজেশন (সংযোগ স্থাপন) এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার জন্য রাশিয়ার অব্যাহত কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া রসাটম কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৭ সালের (গ্রীষ্ম) মধ্যেই রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রসাটমপ্রধানের সাম্প্রতিক আলোচনার সূত্র ধরে ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা পূরণে ‘স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর’ বা এসএমআরের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দিকগুলোর খোঁজখবর নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে আলেক্সি লিখাচেভ বাংলাদেশে একটি ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সরবরাহের সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করেন।

রূপপুর প্রকল্পের সুষ্ঠু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিঅ্যাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং, অপারেশন এবং রেগুলেটরি গভর্ন্যান্সের মতো প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের পেশাদারদের তৈরি করতে রাশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের এমনভাবে প্রশিক্ষিত করার ওপর জোর দেন, যাতে তাঁরা দেশের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প পরিচালনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশের মাটিতেও অনুরূপ প্রকল্পে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। রসাটমপ্রধান এই অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে রাশিয়ান ফেডারেশনে অবস্থান করছেন ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। মস্কোর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। রূপপুর প্রকল্পের পাশাপাশি জ্বালানি, শিক্ষা, কৃষি ও কারিগরি খাতেও দুই দেশের এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ক্রমাগত বাড়ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত