Ajker Patrika

অয়ন ওসমানের গুলিতে মৃত্যু হয় আবুল হাসানের: জবানবন্দি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
অয়ন ওসমানের গুলিতে মৃত্যু হয় আবুল হাসানের: জবানবন্দি

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের গুলিতে আবুল হাসানের মৃত্যু হয় বলে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের বড় ভাই আবুল বাশার। নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জন এই মামলায় আসামি। তাঁরা সবাই পলাতক। গত ১৩ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

জবানবন্দিতে আবুল বাশার অনিক বলেন, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা হওয়ার পর থেকে তিনি এবং তার ভাই আবুল হাসান স্বজন ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে নিয়মিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯ জুলাই জালকুড়ি নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডে তারা আন্দোলনে অংশ নেন। ওই সময় শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, সাংবাদিক রাজু, ডিস বাবু, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, ছাত্রলীগ নেতা সোহানুর রহমান শুভ্রসহ ১৫০–২০০ অস্ত্রধারী লোক ছাত্রজনতার ওপর অতর্কিত হামলা করে ও গুলি চালায়। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই আদিল এবং আবুল হোসেন মিঝি নিহত হয়। মামুনসহ আন্দোলনকারীদের অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।

আবুল বাশার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সে এবং তার ভাই আবুল হাসান স্বজন আন্দোলনে যোগ দিতে নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া মোড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ট্রলারে করে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে মিশন পাড়া মোড়ে গিয়ে অনেক আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতা দেখতে পান। ওই সময় চাষাঢ়া মোড়ে থাকা বিজিবি, পুলিশ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাদেরকে ধাওয়া করে। পরবর্তীতে তারা চাষাঢ়া মোড়ে অবস্থান নেন। তখন ল্যাব এইড হাসপাতালের গলিতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তার ছেলে অয়ন ওসমান, তার ভাতিজা আজমীরী ওসমান, তার শ্যালক তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আব্দুল করিম বাবু (ডিস বাবু), কামরুল হাসান মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ্র, ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী, ফরহাদসহ আরও ১০০–২০০ জন অস্ত্রধারী তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলি তার ভাই স্বজনের বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। সে সময় গুলিতে আরও অনেকে আহত হয়।

আবুল বাশার আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ ভাই আবুল হাসান স্বজনকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। তবে আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার জন্য শামীম ওসমানের নির্দেশ থাকায় ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে তার ভাইকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। পথিমধ্যে কাজলা ফ্লাইওভারে ওঠার সময় যাত্রাবাড়ী থানার আশপাশ থেকে তাদের অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়া হয়। কোনোরকমে ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় অপারেশন করা হয়। তবে ৬ আগস্ট বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন আবুল হাসান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত