Ajker Patrika

গ্যাসের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
গ্যাসের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে
সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস না পাওয়ায় জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভ। গতকাল সকাল ৬টায় জামালপুর পৌর শহরের দড়িপাড়া এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য গ্যাসের বরাদ্দ বাড়িয়েছে সরকার। এলএনজি সরবরাহ অনেক কমে যাওয়ায় যানবাহন, শিল্প ও বাসাবাড়ির জন্য গ্যাসের বরাদ্দ এমনিতেই কমে গেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোয় দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য খাতে গ্যাসের অভাব আরও বেড়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন যেমন ব্যাপকভাবে কমে গেছে, তেমনি সিএনজিচালিত বহু যানবাহনও বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাসের জন্য দেশের অনেক স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটির (সামিট গ্রুপের) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে এলএনজিবাহী জাহাজ ভিড়তে পারছে না বলেই এ অবস্থা। আর অর্ধেক সচল থাকায় মার্কিন মালিকানাধীন এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। এদিকে দেশীয় গ্যাসকূপ থেকে ১৬৪২ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদনসহ সার্বিক সরবরাহ দিনে ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি রয়েছে। অথচ চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়নের মতো।

আমদানির এলএনজি ও দেশীয় কূপের উৎপাদন মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুন ধরা এবং পরবর্তী সময়ে সাগর উত্তাল হওয়ার কারণে সামিটের এলএনজি কার্গো বন্দরে ভেড়াতে না পারার কারণে গত ২১ জুলাই থেকে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা-উৎপাদনের হিসাব একেবারে গড়বড় হয়ে গেছে।

তীব্র গ্যাস-সংকট দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং শিল্প ও পরিবহনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করছে। বাসাবাড়ির চুলায় পাইপের সরবরাহ কার্যত বন্ধ। কয়েক দিন আগে পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলেও এলএনজি টার্মিনালের পরিস্থিতির কারণে পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়েছে। সড়কে গ্যাসভিত্তিক যানবাহনও অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে। শিল্পকারখানাগুলোতে বয়লার অচল হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে তুষ অথবা অন্যান্য দেশীয় জ্বালানি দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন সচল রাখা হয়েছে।

পরিবহনের সংকট

গতকাল দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার তাজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের জন্য পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন। সেখানে আবদুল খালেক নামে এক লরিচালক বলেন, ‘রাতে চট্টগ্রামের ইপিজেড থেকে পণ্য নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আমার গাড়িটি গ্যাসে চলে। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ফিলিং স্টেশনে এসেছি। কিন্তু গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।’

গ্যাস-সংকটের কারণে ফেনী ও কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের গণপরিবহনগুলোর একটা বড় অংশ বন্ধ। এতে করে দুই জেলার মানুষ পড়েছেন ভোগান্তিতে।

চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্ট নামে কাভার্ড ভ্যানের মালিক ওবায়েদ পাটোয়ারী বলেন, ‘গ্যাস-সংকটের কারণে আমাদের গাড়ির খরচ বেড়েছে। যে গাড়ি পণ্য নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে গাড়ি এখন তিন দিনেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।’

ফেনী-কুমিল্লা সড়কে যাতায়াতকারী আঞ্চলিক পরিবহন যমুনা মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘গ্যাস-সংকট দেখা দেওয়ার কারণে ট্রান্সপোর্টের অধিকাংশ গাড়ি বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে গাড়ির সংকট দেখা দিয়েছে।’

জামালপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কে অবরোধ

জামালপুরে গ্যাস-সংকট নিরসন ও গ্যাসের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। গতকাল সকাল ৬টায় জামালপুর পৌর শহরের দড়িপাড়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। চালকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন অসংখ্য মানুষ।

অবরোধকারী সিএনজিচালকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তাঁরা প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে তাঁদের উপার্জন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং সিএনজিচালিত যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।

বিক্ষোভকারী চালক জয়নাল আবেদীন সকালে বলেন, ‘গত রাত ১২টা থেকে লাইনে বসে আছি, এখনো গ্যাস পাই নাই। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালাব কীভাবে? তাই বাধ্য হয়ে সবাই মিলে রাস্তা অবরোধ করেছি।’

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস-সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। গতকাল বেলা ১টার দিকে সরাইল সদরের এক সিএনজি স্টেশনের সামনে এই অবরোধ করেন তাঁরা। এতে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

তৈরি পোশাক উৎপাদনে সমস্যা

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান গতকাল জানান, ব্যাপক সমস্যার পর মধ্যে কয়েক দিন গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা ঠিক থাকলেও আবার গ্যাসের চাপ কমে গেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকার আশপাশে কোনো শিল্পকারখানায় বয়লার চলছে না। অনেকে বিকল্প উপায়ে তুষ বা অন্যান্য প্রচলিত জ্বালানি জ্বালিয়ে কারখানা চালু রেখেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত