Ajker Patrika

হামজা চৌধুরী: আমি সব খাই

রানা আব্বাস, ঢাকা 
হামজা চৌধুরী: আমি সব খাই
হামজা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মাথাভর্তি কোঁকড়ানো চুল আর মুখে স্নিগ্ধ হাসি—দেশের ফুটবলে এখন যাঁর ছবি সবার আগে ভেসে ওঠে, তাঁর নাম হামজা চৌধুরী। তিনি শুধুই একজন ফুটবলার নন, দেশে-বিদেশে অযুত-নিযুত বাংলাদেশি তরুণের আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর আগমনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে দেশের ফুটবলে। যিনি দৌড়াতে পারেন ক্ষিপ্র গতিতে, যাঁর ফুটবলীয় দক্ষতা মোহাচ্ছন্ন করে সবাইকে, সেই হামজার খাদ্যাভ্যাসটা কেমন?

হামজার খাবারদাবারের গল্প শুনেছি কিছুদিন আগে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি ঢাকায় সংক্ষিপ্ত সফরে এসেছিলেন ব্যক্তিগত দূতিয়ালির কাজে। একটি হোটেলে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফুড ও গ্রোসারি ডেলিভারি অ্যাপ ফুডির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে হামজা চৌধুরী বলেছেন খাবারের গল্প।

হামজার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাঁর প্রিয় খাবার কী। লেস্টার তারকা বললেন, ‘আমি সব খাই আসলে।’ সিলেটি ভাষায় যোগ করলেন, ‘আমি বেশি কইরা এশিয়ান খানি (খাবার) খাই। আমার মায়ের রান্না, আমার মামির রান্না বহুত ভালা পাই।’ মায়ের রান্না সব সন্তানের কাছেই প্রিয় হয়—এটাই স্বাভাবিক। তবে ‘মামির রান্না’ ভালো লাগার বিষয়টি শুধু হামজার মুখেই নয়, এর আগে তাঁর মা রাফিয়া চৌধুরীর কাছেও শুনেছিলাম। মামির পরিচয় খোলাসা করলেন হামজার বাবা দেওয়ান গোলাম মোর্শেদ চৌধুরী, ‘মামা ওর ফুটবলের পেছনে সময় দিয়েছেন বেশি, আর তার মামি হচ্ছে আমার ছোট বোন।’

অনেকে জানেন, হামজার ফুটবলের শুরু খুব ছোট বয়সে। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি লেস্টার সিটির ফুটবল একাডেমিতে যোগ দেন। কিন্তু পথটা সহজ ছিল না। ব্রিটিশ-এশিয়ান ফুটবলারদের জন্য ইংলিশ ফুটবলে জায়গা তৈরি করা খুব কঠিন ছিল। কঠিন সিঁড়ি পেরিয়ে ওপরে ওঠার দিনগুলোয় মামা-মামির কাছে অনেক সময় কেটেছে হামজার। সে কারণে মামির রান্না তাঁর অনেক পছন্দ।

মায়ের হাতের রান্নায় ফেরা যাক। মায়ের হাতের কোন রান্না সবচেয়ে বেশি প্রিয়—এই প্রশ্নের উত্তরে মাছের সঙ্গে দূরত্বের কথা তুলে ধরলেন হামজা, ‘চিকেন ভুনা আর ভাত। মাছ ছোট থাকতে খাইতাম, অহন আর খুব বেশি খাই না।’ সময়ের সঙ্গে মাছ খাওয়া কমিয়ে দিলেও বাঙালির প্রিয় ইলিশ কি একেবারেই খাওয়া হয় না? নির্মল হাসিতে হামজা বলেন, ‘আসলে মাছ অহন আর বেশি কইরা খাই না। ছোট থাকতে খাইতাম। অহনকা বড় হইয়া মাছ আসলে বেশি ভালো লাগে না।’ সব ধরনের বাংলাদেশি খাবারই পছন্দ করেন হামজা। বললেন, ‘কোনো ফেবারিট ফুড নাই। চিকেন আর মিট তরকারি খাই। কোনো নির্দিষ্ট খাবার আমার ফেবারিট নাই।’

হামজার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, অদূরে বসে বেশ কৌতূহলী চোখে তাঁর সাক্ষাৎকার উপভোগ করছেন স্ত্রী অলিভিয়া চৌধুরী। স্ত্রীর হাতের প্রিয় রান্না কোনটা, জিজ্ঞেস করতেই অট্টহাসিতে হামজা বললেন, ‘উম...জানি না!’ অলিভিয়ার কাছে অবশ্য বাংলাদেশের বিরিয়ানি খুব পছন্দের।

কদিন পর কোরবানির ঈদ। ত্যাগের মহিমা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা।

এই ঈদের পরিকল্পনা শোনা হলো হামজার কাছে। বাংলাদেশ ফুটবলের এই প্রাণভোমরা বললেন, ‘পরিবারের সঙ্গে সময় কাটবে ইংল্যান্ডে। বাচ্চা, মা-বাবা, ভাই-বোনের সঙ্গে সময় কাটবে। এটা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। পরিবারের সবার সঙ্গে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সব করব। আর চেষ্টা থাকবে ঈদ উপভোগ করার।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত