Ajker Patrika

ইসমে আজম কী? কেন এই দোয়ার এত গুরুত্ব?

ইসলাম ডেস্ক 
ইসমে আজম কী? কেন এই দোয়ার এত গুরুত্ব?
মুসলিম। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি পরিভাষায় ইসমে আজম বলতে আল্লাহ তাআলার সেই মহান ও শ্রেষ্ঠ নামসমূহকে বোঝায়, যার মাধ্যমে দোয়া করলে আল্লাহ কখনোই তা ফিরিয়ে দেন না। নবীজি (সা.) একাধিক হাদিসে এই নামের মহিমা বর্ণনা করেছেন।

আরবি ইসম শব্দের অর্থ নাম আর আজম শব্দের অর্থ মহান। আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর মধ্যে যেগুলোতে তাঁর বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়, সেগুলোই ইসমে আজম। এর গুরুত্বের মূল কারণ হলো:

  • এটি দোয়া কবুলের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
  • এর মাধ্যমে চাইলে আল্লাহ নিশ্চিতভাবে দান করেন।
  • বিপদ মুক্তি ও রিজিকে বরকতের জন্য এটি একটি মোক্ষম হাতিয়ার।

হাদিসে ইসমে আজম বলা হয়েছে যেসব দোয়াকে

১. হাদিসে বর্ণিত ইসমে আজমের একাধিক রূপ থাকলেও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দোয়াটি নিচে দেওয়া হলো:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْمَنَّانُ، بَدِيْعُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকা বিআন্না লাকাল হামদ। লা ইলাহা ইল্লা আন্তাল মান্নান। বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম। ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। কারণ, তোমারই জন্য সব প্রশংসা। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই। তুমিই সবচেয়ে বড় দয়ালু, বড় দাতা। তুমিই আসমান-জমিনের স্রষ্টা। হে মর্যাদা ও দান করার মালিক! হে চিরঞ্জীব, হে মহাবিশ্বের ধারক!

এ ছাড়া রাসুল (সা.) আরও যেসব দোয়াকে ইসমে আজম বলে ঘোষণা করেছেন এখানে এমন কিছু দোয়া তুলে ধরা হলো:

২. হজরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন,

اللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِىْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَه كُفُوًا أَحَدٌ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকা বি-আন্নাকা আনতাল্লাহ। লা-ইলাহা-ইল্লা অনাতাল আহাদুস-সামাদ, আল্লাজি লাম ইয়ালিদ, ওয়ালাম ইয়ুলাদ, ওয়ালাম-ইয়াকুন লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং জানি যে তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি এক ও অনন্য। তুমি অমুখাপেক্ষী ও স্বনির্ভর। যিনি কাউকে জন্মও দেননি। কারও থেকে জন্মও নন। যার কোনো সমকক্ষ নেই।

দোয়াটি শোনার পর রাসুল (সা.) বললেন, ‘এ ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে তাঁর ইসমে আজম বা সর্বাধিক বড় ও সম্মানিত নামে ডাকল। এ নামে ডেকে তাঁর কাছে কেউ কিছু প্রার্থনা করলে, তিনি তাকে তা দান করেন এবং কেউ ডাকলে তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৩, জামে তিরমিজি: ৩৪৭৫, সুনানে ইবনে মাজা: ৩৮৫৭)

৩. হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি নবী (সা.)-এর সঙ্গে মসজিদে নববিতে বসে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি নামাজ আদায়ের পর বলছিল,

اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ أَسْأَلُكَ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকা বি-আন্না লাকাল হাম্দ, লা ইলাহা ইল্লা আনতাল হান্নানুল মান্নান, বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়ু, ইয়া কাইয়ুম, আস্আলুকা।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। কারণ, তোমারই জন্য সব প্রশংসা। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই। তুমিই সবচেয়ে বড় দয়ালু, বড়দাতা। তুমিই আসমান-জমিনের স্রষ্টা। হে মর্যাদা ও দান করার মালিক, হে চিরঞ্জীব, হে প্রতিষ্ঠাতা, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি।

এ দোয়া শুনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যে আল্লাহকে ইসমে আজম নিয়ে ডাকে তিনি তাতে সাড়া দেন এবং যখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় তখন তিনি তা দান করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৫, জামে তিরমিজি: ৩৪৭৫, সুনানে নাসায়ি: ১৩০০)

৪. হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহর ইসমে আজম এই দুই আয়াতের মধ্যে রয়েছে,

وَإِلٰهُكُمْ إِلٰهٌ وَّاحِدٌ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيْمُ

উচ্চারণ: ওয়া ইলা-হুকুম ইলা-হুঁও ওয়া-হিদ, লা-ইলা-হা ইল্লা হুওয়ার রাহমা-নুর রাহিম।

অর্থ: আর তোমাদের উপাস্য একমাত্র এক উপাস্য। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি পরম দয়ালু, অতিশয় দয়াময়।

৫. ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতে: আল্লাহ তাআলার একক নাম ‘আল্লাহ’ (اللَّه) হলো ইসমে আজম, যা কোরআনে ২ হাজার ৬৯৭ বার এসেছে।

ইসমে আজম পড়ার নিয়ম ও আমলের শর্তাবলি

ইসমে আজমের পূর্ণাঙ্গ ফায়দা পেতে হলে নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করা জরুরি:

  1. বিশুদ্ধ নিয়ত: একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং তাঁর বড়ত্ব অন্তরে রেখে দোয়া করা।
  2. হালাল উপার্জন: ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো হালাল খাবার ও হালাল রুজি।
  3. একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতা: সিজদায় থাকা অবস্থায় বা নামাজের শেষ বৈঠকে দোয়াটি পড়া অত্যন্ত কার্যকর।
  4. দরুদ শরিফ: দোয়া শুরুর আগে ও শেষে অন্তত তিনবার দরুদে ইবরাহিম পাঠ করা।

ইসমে আজম আমলের বিশেষ সময়

  • ১. তাহাজ্জুদের সময়: রাতের শেষ তৃতীয়াংশে এই আমল সবচেয়ে শক্তিশালী।
  • ২. ফরজ নামাজের পর: সালাম ফিরানোর পরপরই ইসমে আজম পড়ে দোয়া করা।
  • ৩. জুমার দিন: আসর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে।

এ ছাড়া যেহেতু এটি জিকির বা দোয়া, তাই অপবিত্র অবস্থায় মুখে পাঠ করতে কোনো বাধা নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করলে বাংলাদেশকে ডাকতে পারে আইসিসি

আজকের রাশিফল: লুঙ্গির সঙ্গে টাই পরার সৃজনশীলতা দেখাবেন না, সারপ্রাইজ গিফট পাবেন

গোসল ফরজ হয় যেসব কারণে

ইরানের কাছে পৌঁছেছে ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় ‘আর্মাডা’, সমঝোতা চায় ইরান: ট্রাম্প

বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার চেইনশপ আলফামার্টের যাত্রা শুরু, শতাধিক স্টোর চালুর পরিকল্পনা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত