ইসলামি পরিভাষায় ইসমে আজম বলতে আল্লাহ তাআলার সেই মহান ও শ্রেষ্ঠ নামসমূহকে বোঝায়, যার মাধ্যমে দোয়া করলে আল্লাহ কখনোই তা ফিরিয়ে দেন না। নবীজি (সা.) একাধিক হাদিসে এই নামের মহিমা বর্ণনা করেছেন।
আরবি ইসম শব্দের অর্থ নাম আর আজম শব্দের অর্থ মহান। আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর মধ্যে যেগুলোতে তাঁর বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়, সেগুলোই ইসমে আজম। এর গুরুত্বের মূল কারণ হলো:
১. হাদিসে বর্ণিত ইসমে আজমের একাধিক রূপ থাকলেও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দোয়াটি নিচে দেওয়া হলো:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْمَنَّانُ، بَدِيْعُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকা বিআন্না লাকাল হামদ। লা ইলাহা ইল্লা আন্তাল মান্নান। বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম। ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। কারণ, তোমারই জন্য সব প্রশংসা। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই। তুমিই সবচেয়ে বড় দয়ালু, বড় দাতা। তুমিই আসমান-জমিনের স্রষ্টা। হে মর্যাদা ও দান করার মালিক! হে চিরঞ্জীব, হে মহাবিশ্বের ধারক!
এ ছাড়া রাসুল (সা.) আরও যেসব দোয়াকে ইসমে আজম বলে ঘোষণা করেছেন এখানে এমন কিছু দোয়া তুলে ধরা হলো:
২. হজরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন,
اللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِىْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَه كُفُوًا أَحَدٌ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকা বি-আন্নাকা আনতাল্লাহ। লা-ইলাহা-ইল্লা অনাতাল আহাদুস-সামাদ, আল্লাজি লাম ইয়ালিদ, ওয়ালাম ইয়ুলাদ, ওয়ালাম-ইয়াকুন লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং জানি যে তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি এক ও অনন্য। তুমি অমুখাপেক্ষী ও স্বনির্ভর। যিনি কাউকে জন্মও দেননি। কারও থেকে জন্মও নন। যার কোনো সমকক্ষ নেই।
দোয়াটি শোনার পর রাসুল (সা.) বললেন, ‘এ ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে তাঁর ইসমে আজম বা সর্বাধিক বড় ও সম্মানিত নামে ডাকল। এ নামে ডেকে তাঁর কাছে কেউ কিছু প্রার্থনা করলে, তিনি তাকে তা দান করেন এবং কেউ ডাকলে তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৩, জামে তিরমিজি: ৩৪৭৫, সুনানে ইবনে মাজা: ৩৮৫৭)
৩. হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি নবী (সা.)-এর সঙ্গে মসজিদে নববিতে বসে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি নামাজ আদায়ের পর বলছিল,
اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ أَسْأَلُكَ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকা বি-আন্না লাকাল হাম্দ, লা ইলাহা ইল্লা আনতাল হান্নানুল মান্নান, বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়ু, ইয়া কাইয়ুম, আস্আলুকা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। কারণ, তোমারই জন্য সব প্রশংসা। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই। তুমিই সবচেয়ে বড় দয়ালু, বড়দাতা। তুমিই আসমান-জমিনের স্রষ্টা। হে মর্যাদা ও দান করার মালিক, হে চিরঞ্জীব, হে প্রতিষ্ঠাতা, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি।
এ দোয়া শুনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যে আল্লাহকে ইসমে আজম নিয়ে ডাকে তিনি তাতে সাড়া দেন এবং যখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় তখন তিনি তা দান করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৫, জামে তিরমিজি: ৩৪৭৫, সুনানে নাসায়ি: ১৩০০)
৪. হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহর ইসমে আজম এই দুই আয়াতের মধ্যে রয়েছে,
وَإِلٰهُكُمْ إِلٰهٌ وَّاحِدٌ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ: ওয়া ইলা-হুকুম ইলা-হুঁও ওয়া-হিদ, লা-ইলা-হা ইল্লা হুওয়ার রাহমা-নুর রাহিম।
অর্থ: আর তোমাদের উপাস্য একমাত্র এক উপাস্য। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি পরম দয়ালু, অতিশয় দয়াময়।
৫. ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতে: আল্লাহ তাআলার একক নাম ‘আল্লাহ’ (اللَّه) হলো ইসমে আজম, যা কোরআনে ২ হাজার ৬৯৭ বার এসেছে।
ইসমে আজমের পূর্ণাঙ্গ ফায়দা পেতে হলে নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করা জরুরি:
এ ছাড়া যেহেতু এটি জিকির বা দোয়া, তাই অপবিত্র অবস্থায় মুখে পাঠ করতে কোনো বাধা নেই।

নামাজের শেষ বৈঠকে পড়ার জন্য দোয়া মাসুরা আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ জানুন। বুখারি ও মুসলিম হাদিসে বর্ণিত দাজ্জালের ফিতনা ও ক্ষমা প্রার্থনার মাসনুন দোয়াগুলোর তালিকা।
৭ মিনিট আগে
পড়াশোনায় মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কোরআনের দোয়া ‘রাব্বি জিদনি ইলমা’ এবং ১০টি বিশেষ আমল জানুন। আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ বিস্তারিত।
৩ ঘণ্টা আগে
ইসলামে ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা। পবিত্রতা ছাড়া নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং নির্দিষ্ট কিছু ইবাদত মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: ২২২)
৮ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৫ ঘণ্টা আগে