
স্মৃতিশক্তি প্রখর হওয়া আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। অনেক সময় কঠোর পরিশ্রম করেও আমরা পড়া মনে রাখতে পারি না বা দ্রুত ভুলে যাই। পবিত্র কোরআন ও প্রিয় নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহতে এর চমৎকার সমাধান রয়েছে। নিচে পড়াশোনা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির দোয়া এবং আমলসমূহ বিস্তারিত দেওয়া হলো:
হজরত মুসা (আ.) যখন ফেরাউনের কাছে দাওয়াত নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি এই দোয়া পড়েছিলেন। এটি মনোযোগ বৃদ্ধি ও মুখের জড়তা কাটাতে অত্যন্ত কার্যকর।
আরবি দোয়া:
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
বাংলা উচ্চারণ: রাব্বিশ রাহলি সাদরি ওয়া ইয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানি ইয়াফকাহু কাওলি।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন; যেন লোকেরা আমার কথা বুঝতে পারে। (সুরা তোহা: ২৫-২৮)
আল্লাহ তাআলা স্বয়ং নবীজি (সা.)-কে এই দোয়া শিখিয়েছেন। যখন ওহি আসত, নবীজি (সা.) তা দ্রুত মুখস্থ করার চেষ্টা করতেন, তখন আল্লাহ তাঁকে তাড়াহুড়া করতে নিষেধ করে এই দোয়া পড়তে বলেন।
আরবি দোয়া:
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
বাংলা উচ্চারণ: রাব্বি জিদনি ইলমা।
অর্থ: হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। (সুরা তোহা: ১১৪)
ফেরেশতারা যখন আল্লাহর কাছে তাঁদের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছিলেন, তখন তাঁরা এই পবিত্র বাক্য পাঠ করেছিলেন:
سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا، إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
বাংলা উচ্চারণ: সুবহানাকা লা ইলমা লানা ইল্লা মা আল্লামতানা, ইন্নাকা আনতাল আলিমুল হাকিম।
অর্থ: আপনি পবিত্র, আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন—তা ছাড়া আমরা আর কিছুই জানি না; নিশ্চয় আপনিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাবান। (সুরা বাকারা: ৩২)
আরবি
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي وَزِدْنِي عِلْمًا
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মান ফানি বিমা আল্লামতানি ওয়া আল্লিমনি মা ইয়ানফাউনি ওয়া জিদনি ইলমা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন, তা দিয়ে আমাকে উপকৃত করুন, আমার জন্য যা উপকারী হবে, তা আমাকে শিখিয়ে দিন এবং আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন। (জামে তিরমিজি: ৩৫৯৯)
দোয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে কিছু আমল স্মৃতিশক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়:

নবী-রাসুলগণ ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁরা সবাই শারীরিক শ্রমের কাজ করেছেন। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে যত নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন, তাঁরা সবাই বকরি চরানোর কাজ করেছেন।’ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও কি বকরি চরিয়েছেন?’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি কয়েক...
১৩ ঘণ্টা আগে
আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ছিলেন একজন সৎ ও সফল ব্যবসায়ী। ইসলাম গ্রহণের আগেই মক্কার সম্মানিত বণিকদের একজন ছিলেন এবং কাপড়ের ব্যবসা করতেন। ইসলাম গ্রহণের পরও ব্যবসা চালিয়ে যান এবং নিজের উপার্জন থেকেই জীবিকা নির্বাহ করেন। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরও প্রথম দিকে বাজারে গিয়ে তিনি ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
ইসলামি সংস্কৃতিতে একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে সালাম দেওয়া সুন্নত। এটি মহান আল্লাহর কাছে একে অপরের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) সালামের ব্যাপক প্রচলনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে না, ততক্ষণ তোমরা মুমিন হতে পারবে না।
১৩ ঘণ্টা আগে
নবী-রাসুল ও সাহাবিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে যুগে যুগে মুসলিম মনীষীরাও শ্রম ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁরা আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়তেন এবং দ্বীনদারির সঙ্গে দুনিয়াবি দায়িত্বের সমন্বয় ঘটাতেন। তাঁদের সততা, আমানতদারি ও ন্যায়পরায়ণতা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
১৩ ঘণ্টা আগে