Ajker Patrika

সংসদ নির্বাচন: সহিংসতায় উত্তাপ বাড়ছে ভোটের মাঠে

  • বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা।
  • রাজধানীতে এনসিপির এক প্রার্থীর গণসংযোগে হামলার অভিযোগ।
  • নিরাপত্তায় থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সংসদ নির্বাচন: সহিংসতায় উত্তাপ বাড়ছে ভোটের মাঠে
ভোলার বোরহানউদ্দিনের বোরহানগঞ্জ বাজারে রোববার রাতে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় লাঠি হাতে বেশ কয়েকজন ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি, কথার লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠে সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা ও সংঘাত বাড়ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার। প্রায় ১৭ বছর পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে। তবে মাঠে প্রার্থীদের সমর্থকদের সংঘর্ষ, সংঘাতে ভোটের দিনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

সরকার ও নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক তথ্য সহিংসতা বাড়াচ্ছে।

বিএনপি বলেছে, নির্বাচন ঘিরে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।

জানতে চাইলে আইজিপি বাহারুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, সব এলাকায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেহেতু সব দলই নির্বাচন চাইছে, তাই খুব বড় কোনো সহিংসতা হবে বলে মনে করেন না তিনি।

প্রচার শুরুর পর থেকে রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে নেতাদের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য, অভিযোগ ও প্রতিশ্রুতিতে মুখর হয়ে ওঠে নির্বাচনী পরিবেশ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে বিএনপির জোটের প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলের (লেবার পার্টিসহ) নির্বাচনী জোটের প্রার্থীরা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাদের কথার লড়াই জমে উঠেছে। পাশাপাশি প্রচার শুরুর চার দিনের মধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় উভয় দলের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পাশাপাশি ভাঙচুর, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর খিলক্ষেতে ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এনসিপির আরিফুল ইসলাম আদীবের গণসংযোগে হামলা হয়েছে। খিলক্ষেতের ডুমনি নূরপাড়ায় একটি এতিমখানা পরিদর্শন ও গণসংযোগকালে এই হামলায় ১১ দলীয় ঐক্যের দুই কর্মী আহত হন।

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের নির্বাচনী ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতে লালপুর উপজেলার বুধিরামপুর ও জোতদৈবকি এলাকায় মকুল হোসেনের দোকানের সামনে এবং আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িসংলগ্ন একটি গাছে টাঙানো দুটি ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

নড়াইল-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আজিজের সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যালয়ে গতকাল ভোররাতে অগ্নিসংযোগ করা হলে চেয়ার, লিফলেট ও অন্যান্য আসবাব পুড়ে গেছে। এটি ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় কার্যালয়। মাওলানা আব্দুল আজিজের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ এর সঙ্গে জড়িত।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন। উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের বোরহানগঞ্জ বাজার এলাকায় জামায়াতের পূর্বঘোষিত মিছিলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়।

লালমনিরহাট-১ আসনের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কসাইটারী এলাকায় গত রোববার বিকেলে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

একই দিনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামেও বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন।

রোববার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা, বিএনপির দলীয় কার্যালয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলায় কয়েকজন আহত হন।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বৃহস্পতিবার রাতে গুলিবিদ্ধ হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লা (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে তাঁকে গুলি করে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। ঢাকা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন ঘিরে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে এবং এতে সরকারের কিছু ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে এবং নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, তাঁদের নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে। এসব বিষয় নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন অভিযোগ করে বলেন, এনসিপির নেতা-কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হচ্ছেন। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁরা ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে প্রচার-প্রচারণার সময় আলাদা নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

পুলিশের সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচনে উত্তাপ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নিজের মৃত্যু নিয়ে ট্রাম্পের ভবিষ্যদ্বাণী, হতবাক ঘনিষ্ঠরা

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করল আইসিসি

‘সাংবাদিকদের প্রত্যাখ্যান করে প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের কেউই নিরাপদ নয় ভারতে’

টাঙ্গাইলে হাসপাতালে নারীদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা, ইন্টার্ন চিকিৎসক আটক

মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় হবে সামরিক শিল্পাঞ্চল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত