Ajker Patrika

রূপপুরের ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মার্চে জাতীয় গ্রিডে

  • প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে ২৫ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা।
  • সংশোধনীতে মোট ব্যয় ১,৩৮,৬৮৫ কোটি টাকা।
  • এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে মিলবে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
মাহফুজুল ইসলাম, ঢাকা
রূপপুরের ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মার্চে জাতীয় গ্রিডে
ফাইল ছবি

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করা হবে। এতে বিদ্যুতের সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আখতার আজকের পত্রিকাকে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রকল্প ব্যয় ২৫ হাজার ৭৫৯ কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় জানা গেছে, আগামী মার্চে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৮ সালের জুনে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এটিকে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি বড় সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। সংশোধিত মেয়াদ অনুযায়ী প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পের মূল জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে চারটি কুলিং টাওয়ার বা চুল্লি স্থাপনের কাজ চলছে। এ ছাড়া গ্রিড লাইনগুলো সংযোগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ইউনিটে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ভিভিইআর-১২০০ (ভিভিইআর-১২০০) রি-অ্যাক্টরের দুটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট কার্বনমুক্ত বেসলোড বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডকে একটি দক্ষ অপারেটিং সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কেন্দ্রটি নিরাপদ ও স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনা করা যায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, যাচাই-বাছাই করে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনীতে মোট বরাদ্দ থেকে ১৬৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় কমানো হয়েছে।

সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী, রূপপুর প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২১ হাজার ৮৮৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে পরিকল্পনা কমিশনের নথিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসসি এটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ জনবল দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় যন্ত্রপাতি সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া এটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নতুন বিষয় সামনে আসে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেবা চুক্তিসহ এসব নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে অনুমোদিত ডিপিপিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়।

এ ছাড়া মার্কিন ডলার ও টাকার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে বিদেশি ঋণের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব কারণে প্রকল্প ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধন করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নিজের মৃত্যু নিয়ে ট্রাম্পের ভবিষ্যদ্বাণী, হতবাক ঘনিষ্ঠরা

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করল আইসিসি

‘সাংবাদিকদের প্রত্যাখ্যান করে প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের কেউই নিরাপদ নয় ভারতে’

টাঙ্গাইলে হাসপাতালে নারীদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা, ইন্টার্ন চিকিৎসক আটক

মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় হবে সামরিক শিল্পাঞ্চল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত