
দোয়া মাসুরা বলা হয় নামাজের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়াতু ও দরুদ পাঠের পর সালাম ফেরানোর আগে যে দোয়া পাঠ করা হয়, তাকে। নামাজে দোয়া মাসুরা পাঠ করা সুন্নত। হাদিস শরিফে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেন, ...অতঃপর দরুদ পাঠের পর যে দোয়া ইচ্ছে, সেটা পড়বে। (সহিহ্ মুসলিম: ৪০২)
নবীজি (সা.)-এর কাছে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নামাজে পড়ার জন্য একটি দোয়া শিখিয়ে দেওয়ার আবেদন করলে রাসুল (সা.) এই দোয়া শিখিয়ে দেন। এটিই আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।
আরবি:
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাওঁ ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা; ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা, ওয়ারহামনি ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর রাহিম।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমি নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছি। আর আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। অতএব, আপনি আপনার পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমা দান করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
অনেকেই মনে করেন, শুধু ওপরের দোয়াটিই ‘দোয়া মাসুরা’। আসলে রাসুল (সা.) আরও অনেক দোয়া পাঠ করতেন। আপনি চাইলে এগুলোও নামাজের শেষ বৈঠকে পড়তে পারেন:
১. কবরের আজাব ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তির দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ.
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ.
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামাত। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল মাছামি ওয়াল মাগরাম।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আজাব থেকে, দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ, আমি আশ্রয় চাচ্ছি গুনাহ ও ঋণের বোঝা থেকে।
২. আল্লাহর ইবাদতে সাহায্য চাওয়ার দোয়া:
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَىٰ ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ.
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার জিকির করতে, আপনার শুকরিয়া আদায় করতে এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন।
৩. কৃপণতা ও বার্ধক্য থেকে মুক্তির দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ.
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বুখলি, ওয়া আউজু বিকা মিনাল জুবনি, ওয়া আউজু বিকা মিন আন উরাদ্দা ইলা আরজালিল উমুরি। ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনইয়া ও আজা-বিল কাবরি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, কাপুরুষতা থেকে এবং চরম বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে।
কখন পড়তে হয়? নামাজের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়াতু ও দরুদ পাঠের পর। দোয়া শেষে ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়।
একাধিক দোয়া পড়া যায় কি? হ্যাঁ, নামাজের শেষ বৈঠকে আপনি একের অধিক মাসনুন দোয়া পাঠ করতে পারেন। এতে কোনো সমস্যা নেই।
দোয়া মাসুরা না পড়লে কি নামাজ হবে? দোয়া মাসুরা পড়া সুন্নত। যদি কেউ ভুলবশত না পড়ে সালাম ফিরিয়ে দেয়, তবে তার নামাজ হয়ে যাবে, তবে সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে।

নবী-রাসুলগণ ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁরা সবাই শারীরিক শ্রমের কাজ করেছেন। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে যত নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন, তাঁরা সবাই বকরি চরানোর কাজ করেছেন।’ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও কি বকরি চরিয়েছেন?’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি কয়েক...
১২ ঘণ্টা আগে
আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ছিলেন একজন সৎ ও সফল ব্যবসায়ী। ইসলাম গ্রহণের আগেই মক্কার সম্মানিত বণিকদের একজন ছিলেন এবং কাপড়ের ব্যবসা করতেন। ইসলাম গ্রহণের পরও ব্যবসা চালিয়ে যান এবং নিজের উপার্জন থেকেই জীবিকা নির্বাহ করেন। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরও প্রথম দিকে বাজারে গিয়ে তিনি ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন।
১২ ঘণ্টা আগে
ইসলামি সংস্কৃতিতে একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে সালাম দেওয়া সুন্নত। এটি মহান আল্লাহর কাছে একে অপরের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) সালামের ব্যাপক প্রচলনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে না, ততক্ষণ তোমরা মুমিন হতে পারবে না।
১২ ঘণ্টা আগে
নবী-রাসুল ও সাহাবিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে যুগে যুগে মুসলিম মনীষীরাও শ্রম ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁরা আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়তেন এবং দ্বীনদারির সঙ্গে দুনিয়াবি দায়িত্বের সমন্বয় ঘটাতেন। তাঁদের সততা, আমানতদারি ও ন্যায়পরায়ণতা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
১২ ঘণ্টা আগে