মাথা ব্যথা একটি অতি সাধারণ কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। মাইগ্রেন, দুশ্চিন্তা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা অন্য কোনো শারীরিক কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় মাথা ব্যথার তীব্রতা এত বেশি হয় যে মানুষ স্বাভাবিক কাজকর্ম করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। হাতের কাছে সব সময় ওষুধ থাকে না, আবার সব ব্যথা ওষুধে সারেও না। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা করে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত দোয়া এবং আমলগুলো করলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।

কোরআন-হাদিসের আলোকে মাথা ব্যথা উপশমের কার্যকরী কিছু দোয়া ও আমল সম্পর্কে জেনে নিলে, প্রয়োজনের সময় কাজে লাগতে পারে।
পবিত্র কোরআনের সুরা ওয়াকিয়ার ১৯ নম্বর আয়াতে মাথা ব্যথার উপশমে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। আলেম-ওলামাদের মতে, এই দোয়াটি মাথা ব্যথার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।
দোয়া:
لَّا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ
উচ্চারণ: লা ইউসাদ্দাউনা আনহা ওয়া লা ইয়ুংযিফুন।
অর্থ: তা পান করলে মাথা ঘুরবে না, জ্ঞানও লোপ পাবে না।
পড়ার নিয়ম: যখন কারও মাথা ব্যথা হয়, তখন ডান হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে তিনবার এই দোয়াটি পাঠ করতে হবে।
হজরত উসমান ইবনে আবিল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার শরীরের ব্যথার কথা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালেন। তখন নবীজি (সা.) তাঁকে একটি বিশেষ পদ্ধতি শিখিয়ে দিলেন।
পদ্ধতি:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজিরু।
অর্থ: যে কষ্ট আমি ভোগ করছি এবং যে অনিষ্টের আমি আশঙ্কা করছি, তা থেকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাক্যের মাধ্যমে তাঁর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সহিহ্ মুসলিম)
আলেমগণ এবং ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা কোরআন ও হাদিসের নির্যাস থেকে আরও কিছু আমল উল্লেখ করেছেন, যা মাইগ্রেনসহ যেকোনো মাথা ব্যথায় উপশম দেয়:
দরুদ শরিফ পাঠ: সাতবার নিচের দরুদটি পাঠ করা—‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়িদিনা মুহাম্মাদিন, ওয়ালা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম।’
আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহর আমল: ১৯ বার ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়ার পর ২০ তম বার ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়া।
একবার এই দোয়াটি পড়ুন—
আরবি:
اُسْكُنْ أَيُّهَا الْوَجَعُ بِاللّٰهِ الَّذِي سَكَنَ لَهُ مَا فِي السَّمٰوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: উসকুন আইয়্যুহাল ওয়াজা-উ বিল্লাহিল্লাযী সাকানা লাহু মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদি, ওয়া হুওয়াস-সামীউল আলীম।
অর্থ: হে ব্যথা! তুমি শান্ত হয়ে যাও সেই আল্লাহর আদেশে, যার সামনে আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবই অনুগত ও স্থির। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
যেকোনো রোগ থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর নাম নিয়ে এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে:
আরবি:
بِسْمِ اللَّهِ الشَّافِي، بِسْمِ اللَّهِ الْكَافِي، اللَّهُمَّ اشْفِنِي وَعَافِنِي وَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিশ-শাফী, বিসমিল্লাহিল-কাফী। আল্লাহুম্মাশ্ফিনী ওয়া ‘আফিনী ওয়া ‘ফু ‘আন্নী।
অর্থ: আরোগ্যদাতা আল্লাহর নামে, যথেষ্টকারী আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, আমাকে আরোগ্য দান করুন, সুস্থতা দিন এবং আমাকে ক্ষমা করুন।
মাথা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তীব্রতা বাড়তে থাকলে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, দোয়া ও আমলের পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করাও ইসলামের শিক্ষা। দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মমাফিক ঘুম মাথা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

সামাজিক শান্তির পথে অন্যতম বড় বাধা হলো একে অপরের প্রতি অহেতুক সন্দেহ বা কুধারণা পোষণ করা। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ।’ (সুরা হুজুরাত: ১২)। অহেতুক সন্দেহ ও সংশয় থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখতে আমাদের করণীয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে
ইসলামে জুলুম বা অত্যাচারকে অন্যতম কবিরা গুনাহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। কারও অধিকার হরণ, বিনা অপরাধে নির্যাতন বা মানহানি করা জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। জালিমকে মহান আল্লাহ সাময়িক অবকাশ দিলেও তার শাস্তি নিশ্চিত। বিশেষ করে দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জায়গাতেই জুলুমের কঠিন বিচার হয়ে থাকে।
২ দিন আগে