Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

টিকা কেনা নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ইউনূসের বিশেষ সহকারী

টিকা কেনা নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ইউনূসের বিশেষ সহকারী

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমাগত বাড়ছে। ইতিমধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৪১ হাজারের বেশি শিশুর হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে গত দেড় বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে সংকট, সেক্টর কর্মসূচি থেকে সরে আসার পর টিকা ক্রয় ব্যবস্থায় জটিলতা এবং বাস্তবায়নে ধীর গতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব বিষয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান আজকের পত্রিকার প্রশ্নের লিখিত উত্তর দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ

আজকের পত্রিকা: বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই কেন অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচি থেকে সরে আসা হয়েছিল? এটি কি নীতিগত ভুল সিদ্ধান্ত ছিল?

ডা. সায়েদুর রহমান: প্রথমেই আমি অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে চাই। ১৯৯৮ সাল থেকে সরকার স্বাস্থ্যের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উন্নয়ন খাতের অর্থ ব্যবহারের কৌশল হিসেবে সেক্টর ওয়াইড প্ল্যান গ্রহণ করে, যা প্রধানত দাতা সংস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সমাপ্ত হওয়ার পর অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে চতুর্থ স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচি অনুমোদনের সময়েই ২০১৭ সালে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে উত্তরণ পরিকল্পনা প্রণয়নের তাগিদ দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো উত্তরণ পরিকল্পনা ছাড়াই চতুর্থ স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচি শেষ করা হয় এবং দুই বছরের জন্য বৃদ্ধি করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি ২০২৪ সাল থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাত পরিচালনার পদ্ধতি হিসেবে আবারও কোনো উত্তরণ পরিকল্পনা ছাড়াই পঞ্চম স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পূর্বের ধারাবাহিকতায় পঞ্চম স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচি পরিকল্পনা কমিশনে উত্থাপন করে। তখন পরিকল্পনা কমিশনের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিভাগ উল্লিখিত শর্ত অর্থাৎ উত্তরণ পরিকল্পনাসহ উপস্থাপনের জন্য ফেরত পাঠায়। সেই অবস্থায় সরকারের মৌলিক দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে দাতা নির্ভরতা থেকে উত্তরণের পথ ও পদ্ধতির বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্যবিদদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শক্রমে মন্ত্রণালয় উত্তরণ পরিকল্পনার জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোকে চতুর্থ স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচি থেকে অত্যাবশ্যকীয় কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকাল বিবেচনা করে দুই বছর মেয়াদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন প্ল্যান নির্ভর ব্যবস্থার ওপর মানসিক নির্ভরতা, অনভ্যাস, অনাগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতির ধারাবাহিকতা না থাকায় প্রস্তাব প্রণয়ন, যাচাই-বাছাই এবং চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও দাতা সংস্থাগুলোর পর্যায়ে প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লেগে যায়। পরবর্তীতে মন্ত্রিসভা ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি থেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের পরও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও আপত্তি উত্তরণেও সময় বেশি লাগে।

সুতরাং বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া অপারেশন প্ল্যান থেকে সরে আসা হয়েছে বলে যে কথাটি বলা হচ্ছে, সেটি সঠিক নয়। উত্তরণমূলক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব, যে নামেই বলি না কেন, এগুলোই ছিল বিকল্প ব্যবস্থা। এটি কোনো ভুল ছিল না, বরং এ ধরনের ধারাবাহিকতা রক্ষার ব্যবস্থার ফলে দাতা সংস্থার অঙ্গীকারকৃত অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে একটি স্বনির্ভর ও স্বাধীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

আজকের পত্রিকা: টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় ঠিক কী ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল?

ডা. সায়েদুর রহমান: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০২৪ সালে যখন প্রথমবারের মতো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে টিকা ক্রয়ের জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়, তখন কমিটি বিধি অনুযায়ী সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে। তবে টিকার জনস্বাস্থ্য গুরুত্ব বিবেচনার অনুরোধ করা হলে কমিটি রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থের ধারা উল্লেখ করে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে টিকা ক্রয়ের অনুমোদন দেয়।

একইভাবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৮৪২ কোটি টাকার টিকা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের অনুমতি চাইলে কমিটি ৫০ শতাংশ অনুমোদন দেয় এবং বাকি অংশের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনা দেয়। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৪১৯ কোটি টাকার টিকা এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে পুনর্বিন্যস্ত ঋণের অর্থ থেকে ৬০৯ কোটি টাকার টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের অনুমোদন পাওয়া যায় এবং প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হয়। অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বমোট নিজস্ব অর্থায়নের ১ হাজার ২৮ কোটি টাকার টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের অনুমোদন দেয়।

যদিও নিশ্চিত নই, তবুও যত দূর জানা যায়, ইউনিসেফের সঙ্গে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অর্থ সমন্বয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করাতে দেরি হয়েছে।

উপরোল্লিখিত ক্রয় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো শুধু চারটি টিকার জন্য প্রযোজ্য। বাকি টিকাগুলো গ্যাভি এবং সরকারের সহ-অর্থায়নের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় এবং সেগুলো স্বাভাবিক নিয়মে গ্যাভির শর্ত অনুযায়ী ইউনিসেফের মাধ্যমেই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

অতএব বলা যায়, মূল বিষয় ছিল রাজস্ব খাতের বাকি ৫০ শতাংশ টাকার টিকা ক্রয়ের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনা। ইউনিসেফের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে এই প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ, তাই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হোক। লক্ষণীয় যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার মেয়াদকালে নিজস্ব অর্থায়নের ১ হাজার ২৮ কোটি টাকার টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অনুমোদন দিয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশের ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইউনিসেফ ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর লিখিতভাবে অনুরোধ করে। ৩০ ডিসেম্বর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির সুবিধা ব্যাখ্যা করে ইমেইল করে এবং সর্বশেষ ১১ ফেব্রুয়ারি সরাসরি ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির সময় পার্থক্য উল্লেখ করে ইমেইল করে। সে সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ পরবর্তী সরকারের বিবেচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়।

আজকের পত্রিকা: টিকা ক্রয়ে কোন বিষয়গুলোতে ইউনিসেফ আপত্তি জানিয়েছিল? টিকা ক্রয়ের পদ্ধতি পরিবর্তনে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন সতর্কতার প্রেক্ষিতে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছিল?

ডা. সায়েদুর রহমান: এ বিষয়ে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে যে বিষয়গুলোতে যোগাযোগ করা হয়েছে, সেগুলোকে আপত্তি না বলে পরামর্শ হিসেবে দেখাই যুক্তিযুক্ত। মূলত রাজস্ব খাতের বাকি ৫০ শতাংশ টিকার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনার বিষয়ে ইউনিসেফ যুক্তি দেখিয়েছিল যে এই প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ, তাই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফের মাধ্যমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হোক।

টিকা ক্রয়ের পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি শুধুমাত্র সরকারের রাজস্ব খাতের বাকি ৫০ শতাংশ টিকার সঙ্গে সম্পর্কিত। সে ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি না হয় সে জন্য আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টিকা ক্রয়ের উদ্যোগ অনুমোদন করা হয়েছিল।

আজকের পত্রিকা: আপনি গণমাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। এখানে ‘স্বচ্ছতা’ বলতে ঠিক কী বোঝাচ্ছেন? অতীতে কী ধরনের অস্বচ্ছতা বা অনিয়মের অভিযোগ ছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোন প্রক্রিয়ায় টিকা ক্রয় করা হয়েছিল?

ডা. সায়েদুর রহমান: ‘স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক’ বলতে আমি বোঝাতে চেয়েছি যে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় সাধারণত এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয় বলে বিবেচনা করা হয়। আমি শুধু সেটুকুই বুঝিয়েছি। আমি অতীতে টিকা ক্রয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ ছিল এমনটি বলিনি, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পর্যবেক্ষণের কথা বলেছি।

যে কোনো নিয়মিত ক্রয় এবং যেখানে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে, সেখানে যারা দায়িত্বে থাকবেন তারা রাষ্ট্রীয় অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাইবেন। সে ক্ষেত্রে তারা রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনের ধারা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োগ করবেন বলে মনে হয় না।

শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে সকল টিকা ক্রয়ের অনুমোদন হয়েছে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে। যত দূর জানা যায়, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের বাকি ৫০ শতাংশ টিকাও একই পদ্ধতিতে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজকের পত্রিকা: ২০২৫ সালে টিকার কাভারেজও কম ছিল বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

ডা. সায়েদুর রহমান: প্রথমেই উল্লেখ করা দরকার যে ২০২৫ সালের টিকাদান সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি আছে। স্বাস্থ্য সহকারীরা সারা দেশে প্রায় তিন মাস (২০২৫ সালে) ধরে টিকাদানের তথ্য নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করেনি। সেই অসম্পূর্ণ তথ্য ড্যাশবোর্ডে ৫৯ শতাংশ হিসেবে দেখা যায়, যা পরবর্তীতে অপসারণ করা হয়। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, হামের প্রথম ডোজের কাভারেজ ছিল ৯২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের কাভারেজ ৯০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তবে এসব বিভ্রান্তি দূর করতে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিশেষজ্ঞরা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

আজকের পত্রিকা: ২০২৫ সালে হামের টিকা ক্যাম্পেইন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি কেন?

ডা. সায়েদুর রহমান: আমি বিনয়ের সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই যে আগের দুটি বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ এবং ২০২০ সালে, অর্থাৎ যার মাঝে ছয় বছরের ব্যবধান ছিল। তবে ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ছয় মাস স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত জটিল ও জরুরি অনেক বিষয় মোকাবিলা করতে হয়েছে—বিশেষ করে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের তথ্য যাচাই এবং আহতদের দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সমন্বয়।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মার্চ মাসের শুরুতে গ্যাভি ফলোআপ ক্যাম্পেইনের জন্য প্রয়োজনীয় এমআর টিকার বরাদ্দ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তপত্র স্বাক্ষর করা হয়। সে সময় কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ হাম কর্মসূচি শুরু করার মতো কোনো সতর্কতা বা সংকেত ছিল না।

স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় টিকার চালান দুই ধাপে যথাক্রমে সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং মার্চ ২০২৬-এ দেশে আসার পরিকল্পনা করা হয়। যেহেতু দ্বিতীয় চালান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের পর আসার কথা ছিল, তাই পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী কর্মসূচি পরিচালনার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। পরবর্তীতে দেখা যায় যে মার্চের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাপ্ত এমআর টিকা দিয়েই বর্তমান হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত