
লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই আসন থেকে তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালেও এমপি হন। এবার বিএনপির সরকারে পেয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। মন্ত্রণালয় এবং নিজের কাজের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফয়সাল আতিক।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম খাল খনন। আরও কয়েকটি প্রতিশ্রুতির মতো এ ক্ষেত্রে কাজ শুরু করেছে নতুন সরকার। সেই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এরই মধ্যে ঢাকার আশপাশে দখল, দূষণে মৃতপ্রায় কয়েকটি খাল পরিদর্শন করেছেন তিনি। গেছেন ঢাকার বাইরেও। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে খাল খননকে।
এ্যানি জানান, প্রচলিত সরকারি কাজের মতো নয়; নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের পুরোনো পরিকল্পনার আলোকে প্রথম ১৮০ দিনে এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠে নামছেন তিনি। এরই অংশ হিসাবে গতকাল শুক্রবার সিলেট সফরে বের হয়েছেন। এর পাশাপাশি আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের জন্য ডিপিপি প্রস্তুতির কাজও চলবে।
মন্ত্রী জানান, কেবল খাল খনন নয়; আগামী পাঁচ বছরে যে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে, সেই কর্মসূচির একটি অংশও খাল খননের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। অর্থাৎ খনন করা খালের পাড়ে যতটা সম্ভব গাছ লাগানো হবে।
বিএনপির উন্নয়ন কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে খাল খনন কেন এত গুরুত্ব পেল? এমন প্রশ্নে এ্যানির জবাব, খাল খনন কর্মসূচি বিএনপির একটি আন্দোলন, এটা একটা বিপ্লব। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তিনি খুব সফলভাবে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন। সাধারণ মানুষের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি। আমরা এই নির্বাচনের আগে আমাদের নির্বাচনী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের ঘোষণা দিয়েছেন। যেহেতু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে, তাই ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে আমরা এটা রেখেছি।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কীভাবে কাজ করছেন, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। আমরা প্রথম ঢাকার কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খাল পরিদর্শন করেছি। সেখানে ইতিমধ্যেই দখলমুক্তকরণ ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়ে গেছে। তারপর কেরানীগঞ্জের আটিবাজার খাল দেখেছি, সেখানেও কাজ চলছে। শুক্রবার (গতকাল) যাচ্ছি সিলেটের পরিস্থিতি দেখতে। সেখানে ৫-৬টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে হাওর অঞ্চলে ডুবন্ত বাঁধ পরিদর্শন করতে যাব। বর্ষা ও বন্যার সময় এই বাঁধ বিশেষ প্রয়োজন। সে অনুযায়ী সেগুলো আমরা সরেজমিনে দেখতে যাব।
খালগুলো দখল করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ ক্ষেত্রে খাল উদ্ধার ও পুনঃখনন কতটা চ্যালেঞ্জিং?
এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, খালগুলা খনন করতে গেলে বাধা আছে। অনেক জায়গায় দখল হয়ে গেছে, বাড়িঘর উঠে গেছে। যেখানে যে পদক্ষেপ নিতে হয়, আমরা সেখানে সে পদক্ষেপগুলো নিয়েই সবকিছুকে এমনভাবে সমন্বয় করব, যেন আমরা সম্পূর্ণরূপে সুবিধাটা পাই এবং সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারি। খালগুলো দখলমুক্ত করা কঠিন চ্যালেঞ্জ, এই চ্যালেঞ্জ আমাদের মোকাবিলা করে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য জনস্বার্থে যা করা দরকার, সেটা আমরা করব।
খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৈঠক ও বিস্তারিত আলাপ হয়েছে বলে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই কর্মসূচি নিয়ে আলাপ হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের বৃক্ষরোপণ একটা অভিযান আছে। আমরা পাঁচ বছরে টার্গেট করছি ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করব। তাহলে প্রথম বছর, দ্বিতীয় বছর, তৃতীয় বছর, চতুর্থ বছর কীভাবে আমরা সমন্বয় করব, সে অনুযায়ী কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি। এটা একটা মন্ত্রণালয় দিয়ে হবে না। যে মন্ত্রণালয় যেটার নেতৃত্ব দেবে, তার সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করে কাজগুলো শুরু করেছি। খাল খনন কর্মসূচিতে জলাবদ্ধতা নিরসন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষির জন্য সেচব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে শুরু করে পুরো জীবনচক্রে একটা প্রভাব পড়বে। ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে একটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আমরা দেখতে পাব।

দেশে সাইবার স্পেসে নাগরিকের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে দিনে দিনে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায়ই ডেটা ব্রিচ, ডার্ক ওয়েবে নাগরিকদের তথ্য বিক্রির অভিযোগ উঠছে হ্যাকার গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। অতি সম্প্রতি ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির জীবনবৃত্তান্তসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছে হ্যাকাররা। এসব বিষয়সহ তথ্য সুর
২৪ আগস্ট ২০২৬
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে টেনে তোলে প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার এবং এখন বিএনপি সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকারের উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা...
০৫ আগস্ট ২০২৬
গ্যাসসহ জ্বালানির সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে নাকাল দেশ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ভুগছে শিল্প খাতও। সংকট সমাধানে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এসব নিয়ে কথা বলেছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আজকের পত্রিকার ফয়সাল আতিক।
০৪ আগস্ট ২০২৬
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের ব্যাংকিং, গুণগত ঋণের প্রয়োজনীয়তা এবং সোনালী ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থান নিয়ে আজকের পত্রিকার মুখোমুখি হয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা...
২৩ জুলাই ২০২৬