
ভারতের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত বিরোধের আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ১৮১৬ সালের ঐতিহাসিক ‘সুগৌলি চুক্তি’র মূল দলিল নেপালের কাছে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারছে না দেশটির সরকার। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ইঙ্গিত দিয়েছেন, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির মূল স্বাক্ষরিত দলিলটি সরকারের হেফাজতে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
নেপালের জাতীয় আর্কাইভে কিছু কাগজপত্র থাকলেও সরকারের বিভিন্ন বিভাগে অনুসন্ধানের পরও চূড়ান্ত ও মূল সনদটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পার্লামেন্টে শিশির খানাল বলেন, ‘আমাদের কাছে চুক্তিপত্রটি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নেপাল সরকারের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। জাতীয় আর্কাইভে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির দলিল রাখার রেকর্ড দেখা গেলেও সেগুলোই যে আসল এবং মূল সনদপত্র, তা নিয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।’
এর আগে ২০১৯ সালে নেপালের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালী দাবি করেছিলেন, চুক্তির অনুলিপি বা কপিগুলো নেপালের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
১৮১৪ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত চলা অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে ১৮১৬ সালে এই সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এটিই নেপালের আধুনিক ভৌগোলিক সীমানার মূল আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্যারিস ব্র্যাডশ ও নেপালের রাজা গিরবাণ যুদ্ধ বিক্রম শাহের পক্ষে রাজগুরু গজরাজ মিশ্র এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
তবে সুগৌলি চুক্তিটি ছিল ভারতের স্বাধীনতার আগের সময়ের একটি দলিল। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পররাষ্ট্র সম্পর্ক মূলত অন্যান্য দলিলের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সুগৌলি চুক্তিটি এখনো মৌলিক ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমানে ভারত-নেপাল সীমান্তব্যবস্থা ১৯৫০ সালের ‘ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি’ এবং যৌথ দ্বিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপের কারিগরি দলিলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বর্তমানে দুই দেশের সীমানাকেন্দ্রিক মূল বিরোধ গ্রেটার হিমালয়ের কালাপানি অঞ্চল নিয়ে, যা ভারতের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থিত। ২০১৯ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলে নেপাল তাতে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়। কাঠমান্ডুর দাবি অনুযায়ী, ওই অঞ্চল তাদের সুদূরপশ্চিম প্রদেশের দারচুলা জেলার অংশ হিসেবে চিহ্নিত।
ভারত ও চীনের মধ্যে লিম্পিয়াধুরা-লিপুলেখ পাস দিয়ে বাণিজ্যপথ পুনরায় চালুর সমঝোতা হওয়ার পর থেকে ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ নতুন করে তীব্র রূপ নেয়। নেপাল দাবি করে আসছে—লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি তাদের ভূখণ্ড। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান হচ্ছে, এই অঞ্চলগুলো তাদের নিজেদের উত্তরাখন্ড রাজ্যের অংশ।
চলতি বছরের জুনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ দাবি করেন, ভারতের বিরুদ্ধে নেপালের ভূখণ্ড দখলের অব্যাহত অভিযোগের মধ্যেই হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই দেশ নিজেরাও বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।
তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানায়, লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ, কালাপানিসহ বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা নিয়ে কাঠমান্ডুর আনুষ্ঠানিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এই অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যাগুলো নিরসন করা হবে বলে জানানো হয়। পরে নেপালের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, তারা সমস্যাটি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত সমাধান চায় এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, ‘নেপাল অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের প্রতিবেশী দুই দেশের সমৃদ্ধিকে স্বাগত জানায়। সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সুবিধা এবং একে অপরের বৈধ স্বার্থ ও উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে নেপাল দুই দেশের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।’

দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষ নিজেদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করে, তা নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার।
১১ মিনিট আগে
সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৩টি দেশ যোগদান করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এর মাধ্যমে জোটটির প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যক্রমগত আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো...
১ ঘণ্টা আগে
১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল আটকে দিয়েছেন ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দেশটির সাংবিধানিক পরিষদ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ হস্তক্ষেপ করতে পারে।
১ ঘণ্টা আগে
বন্ধুরাষ্ট্র ও ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। ইসরায়েলের মূল দাবি ছিল—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের একদম দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। কিন্তু যুদ্ধের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সেখান থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবেন.
২ ঘণ্টা আগে