Ajker Patrika

আশুলিয়ায় ফয়সাল হত্যার নেপথ্যে মাদক ও ছিনতাই: পিবিআই

উত্তরা-বিমানবন্দর (ঢাকা) প্রতিনিধি 
আশুলিয়ায় ফয়সাল হত্যার নেপথ্যে মাদক ও ছিনতাই: পিবিআই
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাদক ও ছিনতাই নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে সাভারের আশুলিয়ায় ফয়সাল মোল্লাকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেন তাঁর দূরসম্পর্কের মামাতো ভাইয়েরা। আর হত্যায় ব্যবহৃত রামদাটি আত্মরক্ষার্থে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন ফয়সাল নিজেই। এই ঘটনায় মামাতো ভাই বিপ্লব হাসান বিপুকে (২৮) গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রামদাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

উত্তরার ঢাকা জেলার পিবিআই কার্যালয়ে আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ।

গ্রেপ্তার বিপ্লব হাসান বিপু মিয়া সাভারের আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া গ্রামের মো. আরজুল হকের ছেলে।

এম এন মোর্শেদ বলেন, আশুলিয়ায় প্রকাশ্যে ফয়সাল মোল্লাকে হত্যার ঘটনায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা থেকে বিপ্লব হাসান বিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রামদাটি উদ্ধার করা হয়। পরে গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আসামিকে গ্রেপ্তারের পর রামদাটি উদ্ধার করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
আসামিকে গ্রেপ্তারের পর রামদাটি উদ্ধার করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

১৫ এপ্রিল দুপুরে আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়ায় ফয়সাল মোল্লাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর দূরসম্পর্কের মামাতো ভাই বিপ্লব হাসান বিপু ও তাঁর বড় ভাই মো. মাসুদ এই হত্যাকাণ্ড ঘটনান। এই ঘটনার পরদিন নিহত ব্যক্তির বাবা মো. হুমায়ন কবির বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন।

এম এন মোর্শেদ বলেন, বিপুর আশুলিয়ায় একটি গরুর খামার আছে। ওই খামারে রহিম ও মুজিব নামের দুই কর্মচারী রয়েছেন। তাঁরা গরুর ঘাস কাটা ছাড়াও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের দিন ভুক্তভোগী ফয়সাল খামারের ওই দুই কর্মচারীর মোবাইল ফোন ও টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যান। বিপু বাসায় গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে বিপু ফয়সালের বাবাকে ফোন দিয়ে জানালে তিনি (ফয়সালের বাবা) বলেন, ‘তোর যা মনে চায়, তা-ই কর।’ তখন বিপু বলেন, ‘যদি কর্মচারীর মোবাইল ফেরত না দেয়, তাহলে জানে মেরে ফেলব।’ এদিকে কর্মচারী রহিমের মোবাইল থেকে ফোন দিয়ে ফয়সাল বিপুকে জানান, নার্সারির বাগানে এসে যেন মোবাইল নিয়ে যায়।

এম এন মোর্শেদ বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর ফয়সালের সঙ্গে বিপু ও তাঁর দুই কর্মচারীর তর্কবিতর্ক হয়। ওই সময় ফয়সালের হাতে একটি রামদা ছিল। একপর্যায়ে মোবাইল দুটি বিপুকে ফেরত দিয়ে দেন। ওই সময় বিপুর বড় ভাই মাসুদ একটি অটোরিকশা নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। মাসুদ অটো থেকে নেমেই ফয়সালকে একটি রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এদিকে বিপু কৌশলে ফয়সালের হাত থেকে রামদাটি নিয়ে কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই ফয়সালের মৃত্যু হলে তাঁরা পালিয়ে যান।

আশুলিয়া থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ছায়াতদন্ত শুরু করে। ১৯ এপ্রিল পিবিআই হত্যা মামলাটি নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যান এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর থেকে বিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে এসপি মোর্শেদ বলেন, আগে থেকেই মাদক ও ছিনতাইয়ের বিষয় নিয়ে হত্যাকারী বিপু ও মাসুদের সঙ্গে ফয়সালের বিরোধ ছিল। যার জন্য তাঁরা দুই ভাই মিলে ফয়সালকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।

এম এন মোর্শেদ বলেন, বিপুকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে রামদাটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিপুকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত