Ajker Patrika

সরকারের পঞ্চবার্ষিকের নতুন কৌশলপত্র

মূল্যস্ফীতি কমবে পাঁচ বছরে

মাহফুজুল ইসলাম, ঢাকা
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৫৫
মূল্যস্ফীতি কমবে পাঁচ বছরে
গ্রাফিকস: আজকের পত্রিকা

ঊর্ধ্বগতির মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তির কোনো সহজ পথ এখন সরকারের সামনে নেই। বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে নেওয়া হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। লক্ষ্য—তাড়াহুড়ো নয়, বরং ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের আশপাশেই ঘুরছে। এই উচ্চ চাপ শুধু অর্থনীতিকেই নয়, সরাসরি প্রভাব ফেলছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। তাই স্বস্তি ফেরাতে সরকার এখন আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার কৌশল নিয়েছে।

নতুন পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলপত্রে এই লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ প্রণীত খসড়া ইতিমধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের সামনে উপস্থাপন হয়েছে এবং তা এখন চূড়ান্ত হওয়ার পথে।

কৌশল অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা হবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশে। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমিয়ে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক আর্থিক ও মুদ্রানীতির সমন্বয় বৈঠকে ইঙ্গিত মিলেছে, সরকার চাইছে আরও দ্রুত ফল। সেখানে আগামী অর্থবছরেই মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী দুই মাসে বিভিন্ন বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতামত নিয়ে কৌশলপত্রটি চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে দেশে দীর্ঘ সময় ধরেই মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। এই লাগামহীন চাপের মধ্যে ক্রেতা-ভোক্তাদের জীবন কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে তা আরও বেশি, ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সেবা খাত—সব ক্ষেত্রেই ব্যয়ের চাপ বাড়ছে সমানতালে। এই চাপের মধ্যেই নতুন করে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি এসেছে। সামনে বিদ্যুতের দামও আরেক দফা বাড়তে পারে, এমন ইঙ্গিত মিলছে। ফলে ব্যয় আরও বাড়ার শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

এই বাস্তবতায় আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, বর্তমানে এক অঙ্কে থাকা মূল্যস্ফীতি আবারও দ্রুত দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারে। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি বলছে, দীর্ঘদিনের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনই থামছে না; বরং চাপ আরও কিছুটা সময় স্থায়ী হওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের ধারণা, আগামী দুই-তিন মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি ১০-১১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে; যা দেশের বর্তমান ব্যবসার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন না এলে এবং আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল না হলে আগামী চার বছরেও এই মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে না।

কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারির ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আর্থিক ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের মাধ্যমেও চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য আনার চেষ্টা থাকবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজনীয় লক্ষ্য হলেও সেটি অর্জন বেশ চ্যালেঞ্জিং। শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও আমদানিনির্ভর পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা আনার বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নতুন কৌশলপত্রে বাস্তবভিত্তিক ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যাঁরা

আ.লীগ নেতারা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত ছিলেন, মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতেন না: আব্দুল মোমেন

যেসব শর্তে ইতিবাচক সাড়া পেলে ইসলামাবাদে আসতে রাজি ইরান

বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার পরিচালনার লাইসেন্স পেল সাবেক উপদেষ্টার প্রতিষ্ঠান

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত