
বিশেষ কোভিড মহামারির পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে গিয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, সেই সঙ্গে কিছু নেতা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এসবকেই আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
সম্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বাংলা ভাষার টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন আব্দুল মোমেন। তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল সম্পর্কে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ সরকারের ভুলটা হলো, কিছু নেতা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। যে টাকা দেয় তাকে পদপদবি দেন। আর জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে গেল। আমার সরকার সরকারি কর্মচারীর ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হলো। ওরা যা বলে তাই করে। একজন মন্ত্রী হিসাবে কিংবা পরবর্তীতে এমপি হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ আমাদের সীমিত হয়ে গেল। কারণ সরকারি অফিসাররা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেন, একটা না একটা বাহানা দিয়ে তিনারা সহজে (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেন না। । আর আমরা যারা রাজনীতিবিদ, প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে কোনো জায়গায় বড় বক্তৃতা দেন, আমরা দূরে চেয়ারে বসে থাকি, আর উনি সারমন (ধর্মোপদেশের মতো বক্তৃতা) দেন, আমরা এক পাশে থেকে শুনি। তারপরে যখন উনি বক্তৃতা শেষ করেন তখন আমাদের রাজনীতিবিদরা ওনার সঙ্গে কথা বলার জন্য সামনে অগ্রসর হলে সেই এসএসএফ-এর লোক ২৫ ফিট দূরে, দূর দূর করে সরায়ে দেয়। ফলে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে কিছু বলা যে, আমরা কিছু ফিল করি, এই চাঁদাবাজি, এই করাপশন, এগুলো পাবলিক কি মনে করতেছে, সেটা বলার সুযোগ আমাদের কমে গেল।’
আব্দুল মোমেন উল্লেখ করেন, তাঁর মনে হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়েছে দুটি। একটি হচ্ছে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে গেছে। আর আরেকটি হলো, বিভিন্ন শ্রেণির নেতার কাছে চাঁদাবাজিই মুখ্য হয়ে গেলে।
তিনি বলেন, ‘এগুলো আমি সংসদে তুলেছি। সংসদেও প্রস্তাব দিয়েছি যে এগুলো বন্ধ করতে হবে। কারণ মানুষ এগুলো পছন্দ করে না। কিন্তু আনফরচুনেটলি আমার দলের নীতি নির্ধারক...। আমি যেমন সংসদে বলেছি যে আমার সিলেট শহরে যে এয়ারপোর্ট হবে তিন বছরে। তিন বছর পার হয়ে গেছে ১০ শতাংশও কাজ হয় নাই। এর মূল কারণ হচ্ছে দুর্নীতি। এরা দেরি করলে পরে ওটার পয়সা বাড়ে, তখন পয়সা যা অধিকতর দেওয়া হয়, এর ৮০ শতাংশ খেয়ে ফেলে। সুতরাং তাদের চিহ্নিত করে, যে পিডি (প্রকল্প পরিচালক) হবে, সে যদি অনটাইম প্রজেক্ট শেষ না করে, তার ডিমোশন হবে, চাকরি যাবে যদি রিজনেবল গ্রাউন্ড না থাকে। এইগুলো কয়েকটা এক্সাম্পল।’
মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না উল্লেখ করে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সব সময় দেখা করতে পারতাম না। কোভিডের আগে যখন আমরা মন্ত্রী হলাম, তখন প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকদিন ক্যাবিনেট মিটিং-এর পরে সব অফিসারদের বের করে দিতেন, সব ইলেক্টেড রাজনীতিবিদদের রাখতেন। তখন উনি বলতেন যে আপনাদের কোনো সমস্যা আছে কিনা। তখন আমরা নির্দ্বিধায় আমাদের সমস্যাগুলো বলতাম। তখন উনি উত্তর দিতেন, কাউন্টার হতো। আমরাও কাউন্টার করতাম। কিন্তু কোভিডের পরে মিটিং শেষ হওয়ার সঙ্গেই সঙ্গে উনি বের হয়ে যান। আমরা দৌড়ে গিয়ে কিছু কথা যদি বলতে পারি সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করি। এই একটা ডিসটেনস (দূরত্ব) শুরু হলো। এই ডিসটেন্সটা পরবর্তীতে খুব ঘোচানো হয়নি।
এ প্রসঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার ও আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কোটা সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকের ধারণা হলো যে আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে এই কোটা রেশনালাইজ (যৌক্তিক) পরিবর্তন চায়। আমাদের অনেক সহকর্মী এই নাতিফাতি ওগুলোর জন্য কোটা রাখার পক্ষেই না। ছেলে হইছে, আচ্ছা ছেলে-মেয়ের পর্যন্ত রাখছেন ঠিক আছে, এরপরে আর কী? কিন্তু আমরা এটা পরিবর্তন চেয়েছি এবং এইটা নীতিগতভাবেও আওয়ামী লীগ এটা গ্রহণ করেছে। কিন্তু কোথায় লইয়াররা কী একটা কেস ফেস করে, তারপরে আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি। তখন আমাকে বলা হলো যে, আমরা যেহেতু আপিল করেছি, কোর্টে এটা রায় দেওয়ার...। আমি বললাম, কোর্টের রায় দেওয়ার কেস না, এটা তো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমি তখন আমার ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, বলছিলাম আমেরিকাতে ৪০০ বছর কোর্ট এবং জাজেরা স্লেভারিকে (দাসত্ব) প্রটেক্ট (রক্ষা) করেছে কিন্তু। ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে যখন আব্রাহাম লিংকন ঘোষণা দিলেন, রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত দিলেন যে স্লেভারি ইজ অ্যাবোলিশড, এইটা বাতিল হলো। এরপর কিন্তু কোর্টের কোনো জাজ কোনো কোর্ট স্লেভারিকে প্রটেক্ট করে নাই। সুতরাং ইট ওয়াজ পলিটিক্যাল ডিসিশন। উই শুড টেক পলিটিক্যাল ডিসিশন।’
নেতাদের চাঁদাবাজির পাশাপাশি বড় বড় দুর্নীতির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা গিয়েছিল কি না, এ প্রশ্নে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এই কালো কালো টাকা সাদা করা সেই সব নিয়ে আমি বলেছি, করাপশন নিয়ে, সরকারি কর্মচারীর যে ভরাডুবি করাপশন, সেটা নিয়ে বলেছি। এই প্রজেক্ট ডিলে করে যে করাপশন হয় সেটা আমি বলেছি। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে যে একটা নৈরাজ্য...ব্যাংকিংয়ে দু-একটা লোক লাভবান হচ্ছে, যারা এমন লোক, এরা ব্যবসায়ী, আমি চিনিও না ওদের। এদের প্রোটেকশন দেওয়া হয়েছে। আমি এগুলো তুলেছি, আমি তোলার পরে আমাকে বলা হলো, আমরা তো করাপশনে জিরো টলারেন্স দিয়েছি। দুদককে এম্পাওয়ার (শক্তিশালী) করেছি, তারা কাজ করবে, আমি কি প্রত্যেকের কেসের পেছনে পেছনে লেগে থাকব? আমি বলেছি, দু-একটার পেছনে লাগা তো উচিত।’
আব্দুল মোমেন বলেন, ‘অনেকেই আমরা দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করি না, খালি প্রশংসা করেই শেষ। আর দোষটা বলতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেন যে আমার পিয়নেরই ১০০ কোটি টাকা। ওনার এক পিয়ন চাঁদাবাজি করে বহু টাকার মালিক হয়ে যায়। সুতরাং অনেক দিন থাকলে যেটা হয় সেটাই। ওই যে বললাম একটা দূরত্ব বেড়েছিল। এগুলো আমাদের অপকর্ম।’
মন্ত্রিসভায় কাদের বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে হয়েছে—এ প্রশ্নে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কোন রাজনীতিবিদ করাপশন করতে পারে কেবল সরকারি কর্মচারীর সহযোগিতায়, একা পারে না। কারণ প্রজেক্টের টাকার ডিসবার্সমেন্ট অফিসাররা করে। তখন অফিসারের সঙ্গে একটা আঁতাত করতে হবে, অনেক নিচে নামতে হবে, তার সঙ্গে বলতে হবে যে তুমি এটাতে টাকা খাও, এর থেকে অত অংশ আমাকে দাও। সহযোগ ছাড়া আপনি খেতে পারবেন না। একা খাইতে পারবেন না।’

দেশে আর কোনো দিন মব হবে না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এমন ঘোষণা দেওয়ার পরেও একটির পর একটি মবের ঘটনা ঘটে চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত আছেন।
১২ মিনিট আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
৫ ঘণ্টা আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন ‘আপ বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাতসহ ৪৫ জন। তাঁদের মধ্যে অনেককে গতকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
চীন সরকারের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফরে গেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে চায়না এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে...
১৮ ঘণ্টা আগে