Ajker Patrika

বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না: গাড়িতে হামলার পর নাহিদ ইসলাম

সিলেট প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ২০: ৩৪
বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না: গাড়িতে হামলার পর নাহিদ ইসলাম
সিলেটে সারজিস আলমের গাড়ি হামলা হলে পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটুক বর্তমান সরকার চায় না। তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই স্মরণে ‘অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, ঠিক সেভাবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এনসিপির ওপর হামলা করেছে।’

এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে এনসিপির নেতা-কর্মীরা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষ করে হেতিমগঞ্জ বাজারে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য রওনা দিলে সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালান।

দলের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আজকে সারজিসের গাড়িতে হামলা হয়েছে, ছাত্রদল হামলা করেছে এবং সেখানে গাড়িগুলো ভাঙচুর করেছে। এর আগে তো আমার ওপর হামলা করা হয়। তারা একটা জাস্টিফিকেশন দিয়েছে যে, আমি কথা বলি, সে জন্য আমার ওপর হামলা হয়। আমি আজকে থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। পুরো বাংলাদেশে দেখি ওনারা কতটুকু বাড়তে পারে। কতটুকু যেতে পারে, আমরা সেই মাত্রাটা দেখব।’

পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সিলেটে ৫ প্লাটুন বিজিবি নামানো হয়েছে। বিজিবি নামানোর পরও তাহলে হামলাটা কেন হলো এখন? আপনারা জানেন যে, ছাত্র শক্তির কুড়িগ্রামের আহ্বায়কের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে রক্তাক্ত। পুরো বাংলাদেশে একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসের রাজত্ব বাংলাদেশে দেখতে চাই না।’

পরে গোলাপগঞ্জ থেকে সিলেট সার্কিট হাউসে এসে সাংবাদিকদের সারজিস আলম বলেন, ‘তারেক রহমান আসলে কী চাইতেছে—ওপরে ওপরে ঢং ধরে অভিনয় করে, ভিতরে ভিতরে ছাত্রদলকে সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে, এইরকম হামলা করতে চায়। একটা কী মারছে, হয় ইট মারছে অথবা রড দিয়ে মেরে এইটা ভাঙছে। ভাঙার পরে এখানে তো পুরো গাড়ি এখন ওপেন। দ্বিতীয় আরেকটা ইট যদি মারত, এখানে আমরা ছয়জন ছিলাম। সংসদ সদস্য ছিল, আমি নিজেও ছিলাম। ছয়জনের যে কাউকে যদি আরেকটা ইট এসে লাগত লোকটা তো সঙ্গে সঙ্গে স্পট ডেড হইত।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘পুলিশ তো এখানে দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে নাটক দেখছে, আর কিছুই না। সামনে পুলিশের এক দুই গাড়ি থাকে, পিছনে এক দুই গাড়ি থাকে। আবার ৫০ জন পুলিশ দাঁড়ায়ে থাকে, সবাই নাটক দেখে। এই যে এরা ইট ছুড়তেছে, এরা যে রড দিয়ে হামলা করতেছে, চাপাতি দিয়ে হামলা করতেছে, একজনকে তো বাধা দিতে হবে! কোনো বাধা দেওয়ার কোনো নাম নাই।’

হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবেদ আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রোগ্রাম শেষ করে আসছিলাম। এ সময় সারজিস আলমের গাড়িতে পিছন থেকে ঢিল মারে। এতে গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। এতে কোনো হতাহত নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত