Ajker Patrika

১০ হাজার টাকায় লোক ভাড়া করে খালাতো ভাইকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

শেরপুর প্রতিনিধি
১০ হাজার টাকায় লোক ভাড়া করে খালাতো ভাইকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
নিহত মো. আলামিন এবং গ্রেপ্তার মো. শুভ ও তাঁর বন্ধু সম্রাট। ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরে প্রেমঘটিত আক্রোশের জেরে ১০ হাজার টাকায় লোক ভাড়া করে খালাতো ভাই মো. আলামিনকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির খালাতো ভাই মো. শুভসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে জামালপুর পিবিআই।

নিহত আলামিন শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের বাগলগড় গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। আর গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হচ্ছেন আলামিনের খালাতো ভাই জামালপুর সদর উপজেলার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকার মো. উজ্জ্বলের ছেলে মো. শুভ (১৯) ও শুভর বন্ধু সম্রাট (২০)।

পিবিআই ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, আলামিনের বাবা ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন। আলামিন তাঁর দাদি, নববিবাহিত স্ত্রী ও ভাইকে নিয়ে শেরপুর সদরের বাগলগড় গ্রামে বাস করেন। ১৩ মে রাতে আলামিন নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১৮ মে নতুন বাগলগড় গ্রামের একটি খেত থেকে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হলে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্তের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত শুরু করেন এসআই ফয়জুর রহমান। তদন্তের একপর্যায়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আলামিনের খালাতো ভাই শুভকে ১৯ মে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর স্বীকারোক্তিতে আরেক আসামি সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

শুভকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে জানা যায়, আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সঙ্গে তাঁর খালাতো ভাই শুভর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্যের পাশাপাশি চাপা ক্ষোভ ছিল। এর ধারাবাহিকতায় আলামিনও শুভর বোনের সঙ্গে প্রেমের প্রস্তাব দেন শুভর কাছে, যাতে শুভ তাঁর বোনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখেন। ঘটনার কিছুদিন আগে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আলামিনের কাছে ১ লাখ টাকা চান। আলামিন এর বিনিময়ে শুভর বোনকে কাছে পেতে প্রস্তাব দিলে শুভ অপমানের বদলা নিতে সহযোগী আসামি সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আলামিনকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। সেই মোতাবেক শুভ ১৩ মে দুপুরে কৌশলে আলামিনকে তাঁর বন্ধু শান্তর মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামিন অমনোযোগী হয়ে মোবাইল চালাতে থাকলে শুভ নাইলনের দড়ি দিয়ে পেছন থেকে আলামিনের গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। এতে আলামিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে সম্রাট আলামিনের মাথা ধরে রাখেন এবং শুভ চাকু দিয়ে আলামিনের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান। শুভকে গ্রেপ্তারের পর আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুরে আসামি শুভ ও সম্রাটকে আদালতে সোপর্দ করলে শুভ স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ বিষয়ে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ‘মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে টিম প্রেরণসহ ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রাখি। এর ধারাবাহিকতায় ইউনিটের সদস্যদের আলাদা আলাদা দায়িত্ব প্রদান করে সার্বক্ষণিকভাবে তাঁদের কার্যক্রম তদারকি করি। পিবিআইয়ের সকলের কঠোর পরিশ্রমের অংশ হিসেবে মামলাটির মূল রহস্য এত দ্রুত সময়ে উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। মামলাটির অধিকতর তদন্তও চলমান রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত