Ajker Patrika

বর্ষায় বেচাকেনায় জমজমাট পাটকেলঘাটার নৌকাপল্লি

আবুল কাসেম, সাতক্ষীরা 
বর্ষায় বেচাকেনায় জমজমাট পাটকেলঘাটার নৌকাপল্লি
কারিগরদের তৈরি নতুন নৌকা দেখছেন ক্রেতারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বর্ষা মৌসুমে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার নৌকাপল্লিতে নৌকা বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। কারিগরদের কাজের ব্যস্ততা, ক্রেতাদের আনাগোনা, দর কষাকষিতে মুখর হয়ে উঠছে এই এলাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের দুই ধারে পাটকেলঘাটা বাজারের মজুমদার পেট্রল পাম্প থেকে বলফিল্ড পর্যন্ত সারি সারি নৌকার কারখানা। সেখানে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগরেরা। কেউ করাত দিয়ে কাঠ কাটছেন, কেউ হাতুড়ি দিয়ে পেরেক বসাচ্ছেন। নৌকাপল্লিতে পাল তোলা, কোশা, ডিঙ্গি, ট্রলার সব ধরনের নৌকা তৈরি হয়। কাঠ ও নৌকা তৈরির মান এবং শৈল্পিক সৌন্দর্যের কারণে পাটকেলঘাটার নৌকার কদর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে।

নৌকা কারখানার মালিকেরা জানান, এখানে ১৪টি নৌকা তৈরির কারখানা রয়েছে। দেড় শতাধিক কারিগর নৌকা তৈরির এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। ১৬ হাত একটা নৌকা তৈরি করতে কাঠ, মিস্ত্রিসহ আনুষঙ্গিক সব মিলিয়ে খরচ হয় ১৮ হাজার টাকা। বিক্রি ২০ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকায়। ১৮ হাত একটি নৌকা তৈরি করতে খরচ হয় ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা। আর তা বিক্রি হয় ২৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায়। ১২ হাত একটা নৌকা বিক্রি হয় ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা। ১২ হাত একটি নৌকা তৈরিতে খরচ হয় হাজার দশেক টাকা। সুতরাং লাভ খুব বেশি হয় না।

সাতক্ষীরা জেলার চারটি উপজেলাসহ পাশের যশোর ও খুলনার অনেক উপজেলা বছরে ৬ মাস জলাবদ্ধ থাকে। এসব এলাকার লোকজনের চলাচলের জন্য নৌকাই ভরসা। সে কারণে পাটকেলঘাটা নৌকাপল্লির নৌকার চাহিদা রয়েছে।

মেসার্স ঐশী নৌকা কারখানার মালিক শেখ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম চলছে। আমাদের কেনা-বেচাও বেশ শুরু হয়েছে। আমরা নৌকা তৈরি করছি খৈ, মেহগনি, চন্দন কাঠ দিয়ে। এগুলো খুবই ভালো মানের কাঠ। যুগ যুগ ধরে ব্যবহার করলেও এসব কাঠ দিয়ে তৈরি নৌকার কিছু হবে না।’

কারিগর ইমন রহমান বলেন, ‘ছোটখাটো একটি নৌকা তৈরি করতে তিনজন কারিগরের দুই দিন সময় লাগে। নৌকাপ্রতি মজুরি পাওয়া যায় ৫ হাজার টাকা। এ দিয়ে কারিগরদের কোনোরকমে দিন গুজরান হয়।’

যশোরের কেশবপুর উপজেলার শ্রীমন্তকাটি গ্রাম থেকে নৌকা কিনতে এসেছেন ইব্রাহিম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকা পানিতে ডুবে থাকে প্রায় ৭ মাস। আমাদের এলাকায় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে ও হাট-বাজার করতে নৌকার বিকল্প নেই। তাই নৌকা কিনতে পাটকেলঘাটায় এসেছি। খই কাঠের একটি নৌকা ২৪ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

কারখানার মালিক আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, ‘নৌকা ব্যবসাতে লাভ যেমন মোটামুটি আছে, সংকটও আছে। প্রথমত সংকট হলো, পাকা কাঠ পাওয়া অনেক সময় দুষ্কর হয়ে যায়। বিশেষ করে পাকা খই ও চম্বল কাঠ পাওয়া বেশ কঠিন। আর দ্বিতীয়ত হলো, আমরা পুঁজি ও প্রশিক্ষণের সংকটে ভুগি। আমরা যদি বিসিক থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ পেতাম এবং স্বল্প সুদে ঋণ পেতাম, তাহলে হয়তো ব্যবসায় টিকে থাকতে পারতাম।’

নৌকাশিল্পের সম্প্রসারণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সাতক্ষীরার বিসিক উপব্যবস্থাপক গৌরব দাস।

তিনি বলেন, ‘বিসিক উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছে। পাটকেলঘাটায় একটি নৌকাপল্লি রয়েছে। আমরা তাদের অনেককেই নিবন্ধিত করেছি। বাকিদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিসিক বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেয়। ভবিষ্যতে আমরা তাঁদের প্রশিক্ষণ দেব। এ ছাড়া তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আমরা সুপারিশ করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত