Ajker Patrika

‘হ্যাঁ-না ভোটের প্রার্থী কে?’

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি      
‘হ্যাঁ-না ভোটের প্রার্থী কে?’
শাম্মী আক্তার

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। তবে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ভোটারই গণভোটের বিষয়ে এখনো অন্ধকারে। ফলে এ নিয়ে তাঁরা রয়েছেন চরম বিভ্রান্তিতে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার কথা মুখে মুখে শুনলেও এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণাই নেই এসব ভোটারের। কেউ কেউ তো প্রশ্নই করে বসছেন, ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোটের প্রার্থী কে?’

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে গণভোট নিয়ে এমন বিভ্রান্তির তথ্য জানা গেছে। উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ফতেপুর বাউসা গ্রামের কৃষক জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের মুখে শুনছি হ্যাঁ আর না ভোট আছে। কিন্তু কার জন্য ভোট দিব বা ব্যালটে কেমন করে ভোট দিতে হবে—কিছুই জানি না। হ্যাঁ-না ভোটের প্রার্থী কে, তাও জানি না। আমি পড়ালেখা জানি না, তাই এসব বুঝতেও পারি না। সিল দিতে হবে নাকি টিক দিতে হবে—তাও জানি না। হয়তো ভোটকেন্দ্রে গেলে বুঝতে পারব।’

জাকিরুলের স্ত্রী রাশেদা বেগম বলেন, তিনি গণভোট সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা তাঁদের সহজ করে বোঝানোর চেষ্টা করলে তিনি বলেন, ‘আমি মূর্খ মানুষ, এত কিছু বুঝব কীভাবে?’ একই গ্রামের লুৎফা বেগমকে গণভোট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বুঝি। গণভোট মানে ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লা।’

পাশের এলাকার ভোটার মুক্তা খাতুন বলেন, ‘মানুষের মুখে শুনেছি, ফেসবুকেও একটু-আধটু দেখেছি। কিন্তু আসলে এই ভোটটা কী, ব্যালট পেপার কেমন, প্রতীক কী—এসব কেউ পরিষ্কার করে বুঝায় নাই। একটু বুঝিয়ে বললে ভালো হতো।’

এ বিষয়ে বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের যে কর্মসূচিগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো আমরা যথাযথভাবে পালন করেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, গণভোটের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে মাইকিং করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে দেওয়া পিভিসি, ব্যানার জনবহুল স্থানে প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত