এপস্টেইন ফাইল

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের একটি অত্যন্ত গোপন ও বিস্ফোরক অডিও রেকর্ডিং ফাঁস হয়েছে। সেখানে তাঁকে দণ্ডিত শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের কাছে একটি বিতর্কিত এবং বর্ণবাদী জনমিতিক পরিকল্পনার কথা স্বীকার করতে শোনা গেছে। গত শুক্রবার প্রকাশ পাওয়া এই রেকর্ডিংয়ে বারাক দাবি করেন, ইসরায়েলের জনমিতিক কাঠামো আমূল বদলে দিতে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রভাব নস্যাৎ করতে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘আরও ১০ লাখ’ রুশ নাগরিক পাঠানোর জন্য তদবির করেছিলেন।
২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রেকর্ড করা ওই কথোপকথনে এহুদ বারাককে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পুতিনকে সব সময় বলতাম, আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো আরও ১০ লাখ রুশ নাগরিক। এটি ইসরায়েলকে নাটকীয়ভাবে, অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে বদলে দেবে।’
বারাকের মতে, ইসরায়েলে রুশদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তা ১৯৪৮-এর সীমানার ভেতরে থাকা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান হারকে চ্যালেঞ্জ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ৪০ বছর আগে ইসরায়েলে আরবদের সংখ্যা ছিল ১৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই হারকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ মনে করেন তিনি।
বারাক তাঁর পরিকল্পনায় কেবল সংখ্যা বৃদ্ধির কথাই বলেননি, বরং ভবিষ্যতে আসা রুশ বসতিস্থাপনকারীদের ‘গুণগত মান’ নিয়ন্ত্রণের ওপরও জোর দিয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর প্রায় ১০ লাখ মানুষ ইসরায়েলে এসেছিল, যাদের অর্ধেকই অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী ইহুদি হিসেবে গণ্য হননি।
এই সমস্যা সমাধানে বারাক এক সূক্ষ্ম কৌশলের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের উচিত অর্থোডক্স রাব্বিদের একাধিপত্য ভেঙে দেওয়া। বিয়ে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং ইহুদিত্বের সংজ্ঞাকে আরও নমনীয় করে রুশদের জন্য গণ-ধর্মান্তরের পথ খুলে দিতে হবে।’ তিনি বিশ্বাস করেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের ওপর সামাজিক চাপ সৃষ্টি করলে তাঁরা নিজেরাই ইহুদি হিসেবে মেনে নেবে।
রেকর্ডিংয়ের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি হলো আরব ও মুসলিম দেশগুলো থেকে আসা ইহুদিদের (মিজরাহি বা সেফার্দিক ইহুদি) প্রতি বারাকের অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্য। ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত আশকেনাজি ইহুদি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র গঠনের সময় উত্তর আফ্রিকা এবং আরব দেশগুলো থেকে ইহুদিদের নিয়ে আসা ছিল একটি ‘অনিবার্য আবশ্যকতা’।
তিনি বলেন, ‘আগে আমরা বাধ্য হয়েছিলাম তাদের নিতে, কিন্তু এখন আমরা নির্বাচনী বা সিলেক্টিভ হতে পারি। এখন আমাদের মন অনেক বেশি উন্মুক্ত এবং আমরা সহজেই আরও ১০ লাখ রুশ অভিবাসী আত্মীকরণ করতে পারব।’
রেকর্ডিংয়ে ১৯৯০ ও ২০০০ সালের শুরুর দিকের রুশ অভিবাসীদের কথা বলতে গিয়ে বারাক মন্তব্য করেন, সে সময় এমন অনেক ‘অল্পবয়সী মেয়ে এসেছিল যারা কথা বলতে পারত না।’ এ সময় তিনি বেলারুশের লম্বা, হালকা-পাতলা (সুন্দর অর্থে) মেয়েদের কথা উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যের পর রেকর্ডিংয়ের ব্যাকগ্রাউন্ডে জেফরি এপস্টেইনকে উপহাসমূলকভাবে হাসতে শোনা যায়।
জেফরি এপস্টেইনের মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, সে সময় অনেক রুশ তরুণীকে ইংরেজি বলতে না পারার সুযোগ নিয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পাচার করা হয়েছিল। বারাক এবং এপস্টেইনের মধ্যকার এই ঘনিষ্ঠতা কেবল ব্যক্তিগত ছিল না; এফবিআই-এর একটি মেমো অনুযায়ী, এপস্টেইন বারাকের অধীনে গোয়েন্দা হিসেবেও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। বারাক ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এপস্টেইনের নিউইয়র্কের বাসভবনে অন্তত ৩০ বার যাতায়াত করেছিলেন।
বারাক ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অ-ইহুদি নাগরিকদের মধ্যে সমঅধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ‘হায়ারার্কি’ বা স্তরবিন্যাস তৈরি করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথমে দ্রুজদের সমঅধিকার দেওয়া উচিত কারণ তারা আচরণে পুরোপুরি ইসরায়েলি (মিলিটারি সার্ভিসের কারণে)।’ এরপর তিনি খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেন, কারণ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত। তবে মুসলিম ফিলিস্তিনিদের তিনি এই তালিকার বাইরেই রেখেছেন।
এই গোপন রেকর্ডিং ফাঁসের পর বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এটি ইসরায়েলি নেতৃত্বের সেই ‘অ্যাপার্থাইড’ বা বর্ণবাদী মানসিকতারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ, যা জনমিতিক প্রকৌশলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে প্রান্তিক করার ষড়যন্ত্র।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

চীনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে গোপনে একটি পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও রাশিয়াকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত একটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির আলোচনার মধ্যে গতকাল শুক্রবার এই অভিযোগ উঠল।
৩৬ মিনিট আগে
ঘটনার শুরু ১৯৯৬ সালে। আহমেদাবাদে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতির বিরুদ্ধে সে সময় ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ১৯৯৭ সালে চার্জশিট দাখিল হয় এবং ২০০২ সালে শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৪ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড...
২ ঘণ্টা আগে
তদন্তে আরেকটি বিষয় জানা গেছে। চেতন কুমারের তিন স্ত্রী—সুজাতা, হিনা ও টিনা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই তিন স্ত্রীই আপন বোন। নিহত নিশিকা ছিল বড় বোন সুজাতার মেয়ে, আর প্রাচী ও পাখি ছিল মেজো বোন হিনার সন্তান। পুলিশের দাবি, মেয়েদের সঙ্গে তাদের মায়েদের চেয়ে বাবার আত্মিক টান বেশি ছিল।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ও নেপাল সীমান্তসংলগ্ন এলাকাগুলোতে চলাচলকারী ট্রেনের যাত্রীদের (সংরক্ষিত বগি) জন্য পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করেছে ভারতের রেল মন্ত্রণালয়। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির রেলওয়ে বোর্ডের এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সংরক্ষিত বগিতে ভ্রমণের সময় অন্তত একজন যাত্রীকে...
৩ ঘণ্টা আগে