
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ফল পাল্টে দিতে পারেন নারী ভোটাররা। বিভাগের ৩৬টি সংসদীয় আসনে ১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭২২ জন ভোটারের মধ্যে ৭০ লাখ ৪৪ হাজার ১৭৫ জনই নারী। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার ৭ হাজার ৭৬২ জন বেশি। ফলে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ভর করছে এই বিশাল নারী ভোটারদের ওপরই। এ কারণে এবার নারী ভোটারদের কদর বেড়েছে।
নারী ভোটারদের টানতে বিএনপি ৫০ লাখ পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান ও নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া, নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ প্রতি জেলায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও নারীদের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে নারী ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন।
ফলে ভোটের বিষয়ে অধিকাংশ নারী ভোটার প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও প্রতিশ্রুতির দিকে নজর রাখছেন। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যুটি নারীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রতিটি পরিবারে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনাও চলছে। জাতীয় ইস্যু ছাড়াও স্থানীয় সমস্যা, যেমন জলাবদ্ধতা, কলকলকারখানা চালু, বিনা খরচে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে এবার ভোট দেবেন নারী ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র বলেছে, এবার নড়াইলের দুটি আসনে নারী ভোটার ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭১ জন। এ ছাড়া বাগেরহাটের ৪টি আসনে ৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৩, খুলনার ৬টি আসনে ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৫, ঝিনাইদহের ৪টি আসনে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮৬, যশোরের ৬টি আসনে ১২ লাখ ২২ হাজার ১৫৯, মাগুরার দুটি আসনে ৪ লাখ ১৭ হাজার ২৬৯, মেহেরপুরের দুটি আসনে ২ লাখ ৯১ হাজার ৭৬৯, কুষ্টিয়ার ৪টি আসনে ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৩, চুয়াডাঙ্গায় দুটি আসনে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৬৬ এবং সাতক্ষীরার ৪টি আসনে ৯ লাখ ৬ হাজার ৪৪ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
গ্রামাঞ্চলের নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির দেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রতিশ্রুতি বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেক নারী ভোটার এটিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন। খুলনা-১ আসনের বটিয়াঘাটার সবুজপল্লির বিধবা সালেহা বেগম বলেন, ‘আমি বয়স্ক ভাতা পাচ্ছি। ফ্যামিলি কার্ড পেলে বড় উপকার হয়।’ ক্যানসারে আক্রান্ত এই নারী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য আমি ভোট দিতে যাব।’
বটিয়াঘাটার এক নারী ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, তিনি খুলনা-২ আসনের ভোটার। ভোট দিলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবেন কি না, প্রশ্ন রাখেন তিনি।
খুলনা-৩ আসনের ভোটার খলিশপুর জুট মিল এলাকার ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী রিকশাচালক আনসার আলী একসময় খলিশপুর জুট মিলে চাকরি করতেন। মিল বন্ধ হওয়ার পর পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি। এখন মিল চালু করার প্রতিশ্রুতি পাচ্ছি, ফ্যামিলি কার্ডও দেবে। এ কারণেই ভোটকেন্দ্রে যাব।’ এ ছাড়া খুলনা-২, ৪ ও ৫ আসনের অনেক নারী ভোটার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর বিষয়টি মাথায় রাখছেন।
খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রাধান্য দিয়েছেন। শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়; নারীর কর্মসংস্থান, নারীর মর্যাদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি সেক্টরগুলোতেও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণেই নারী ভোটাররা বিএনপির দিকেই ঝুঁকছে। নারী সমাজের বড় অংশই ধানের শীষে ভোট দেবেন বলে তিনি মনে করেন।
খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ইসলামে নারী মর্যাদা অনেক ওপরে। নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগসহ নারী উন্নয়নে যা যা দরকার সবই করব। জামায়াতে ইসলামী দলমত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে একটি সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। ফলে নারীরা আমাকে ভোট দেবেন বলে বিশ্বাস করি।’
জানতে চাইলে খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ‘নারীদের অন্ধকারে রেখে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, যা আজও জনগণ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। কাজেই, ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়—এটি মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের প্রতীক। ফলে নারীদের বড় অংশের ভোটেই আমি নির্বাচিত হব।’

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। তবে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ভোটারই গণভোটের বিষয়ে এখনো অন্ধকারে। ফলে এ নিয়ে তাঁরা রয়েছেন চরম বিভ্রান্তিতে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার কথা মুখে মুখে শুনলেও এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণাই নেই এসব ভোটারের।
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র চার দিন। ভোট ঘিরে শেষ সময়ে উপকূলীয় জেলা বরগুনার দুটি আসনেই হাট-বাজার, চায়ের দোকানে জমে উঠেছে ভোটের হিসাব-নিকাশ, বিশ্লেষণ। প্রার্থীরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
২ ঘণ্টা আগে
বিএনপির প্রতি ভালোবাসা আর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার প্রবল আকাঙ্ক্ষায় আবারও ‘ধানমানব’ সেজেছেন মো. খাদেমুল ইসলাম। গতকাল শনিবার দুপুরে দিনাজপুরের বিরামপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় খাদেমুল শরীরে ধান বেঁধে হাজির হন। সভায়অনেকেরই নজর কাড়েন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হঠাৎ খুলনায় মুসলিম লীগ সরব হয়ে উঠেছে। প্রাচীন সংগঠনটি খুলনার তিনটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে যায়নি। সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সমর্থন দিচ্ছে মুসলিম লীগ।
২ ঘণ্টা আগে