
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র চার দিন। ভোট ঘিরে শেষ সময়ে উপকূলীয় জেলা বরগুনার দুটি আসনেই হাট-বাজার, চায়ের দোকানে জমে উঠেছে ভোটের হিসাব-নিকাশ, বিশ্লেষণ। প্রার্থীরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে। তবে আসন দুটিতে বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ টানা জয় পেলেও এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
এর মধ্যে বরগুনা-১ (আমতলী, তালতলী ও বরগুনা সদর) আসনে চারজন প্রার্থী থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা ও বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে। বরগুনা-২ (বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী) আসনে আটজন প্রার্থীর থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে ধানের শীষের প্রার্থীকে। তাঁদের সঙ্গে আরেক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন হাতপাখার প্রার্থী। ফলে দুটি আসনেই জয় পেতে চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে বিএনপিকে।
বিভিন্ন প্রার্থীর গণসংযোগ, নির্বাচনী জনসভা ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থীরা তাঁদের ভোট বাড়ানোর কৌশল হিসেবে বিভিন্ন সভায় আওয়ামী লীগের সমর্থক ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। ফলে এসব ভোটার যেদিকে ঝুঁকবেন, তিনি নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করছেন অনেকে।
জানা গেছে, বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫১ জন।
আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোতে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলেও এই আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছিল।
এই আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দলটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ (হাতপাখা), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন (মিনার) এবং জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী মো. জামাল হোসাইন (লাঙ্গল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জানা গেছে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অংশ হিসেবে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে সমর্থন দেন। ফলে এই আসনে প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকে অনেকটা পাল্টে গেছে ভোটের হিসাব-নিকাশ।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বরগুনায় চারজন প্রার্থী অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে হাতপাখা ও ধানের শীষের মধ্যে।
বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের সভাপতি হাচানুর রহমান ঝন্টু বলেন, ‘আসনটি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত হওয়ায় জয়-পরাজয় তাঁদের ভোটে নির্ধারিত হতে পারে। আওয়ামী লীগের ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রে না যান, তাহলে নির্বাচিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান হবে খুব সামান্য।’
বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘বরগুনা-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।’
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, ‘ভোটাররা এখন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব চান। আমরা দলীয় ভোটের পাশাপাশি সেই সব ভোটারের সমর্থন চাই।’
অপরদিকে বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী—এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন। এবারের নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এই আসনে। মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলাম মনি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমেদের মধ্যে হবে। তাঁদের মধ্যে নূরুল ইসলাম মনি আসনটির একাধারে তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে এই আসনে ভোটযুদ্ধ হবে হাড্ডাহাড্ডি। অপরদিকে হাতপাখার প্রার্থী মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমীও শক্ত অবস্থানে আছেন।
বিএনপি প্রার্থী নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দেবেন বলে আশা করি।’
জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদ বলেন, ‘ভোটাররা যে পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন, আমি ও আমার দল ঠিক সেই দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।’

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। তবে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ভোটারই গণভোটের বিষয়ে এখনো অন্ধকারে। ফলে এ নিয়ে তাঁরা রয়েছেন চরম বিভ্রান্তিতে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার কথা মুখে মুখে শুনলেও এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণাই নেই এসব ভোটারের।
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ফল পাল্টে দিতে পারেন নারী ভোটাররা। বিভাগের ৩৬টি সংসদীয় আসনে ১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭২২ জন ভোটারের মধ্যে ৭০ লাখ ৪৪ হাজার ১৭৫ জনই নারী। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার ৭ হাজার ৭৬২ জন বেশি।
১ ঘণ্টা আগে
বিএনপির প্রতি ভালোবাসা আর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার প্রবল আকাঙ্ক্ষায় আবারও ‘ধানমানব’ সেজেছেন মো. খাদেমুল ইসলাম। গতকাল শনিবার দুপুরে দিনাজপুরের বিরামপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় খাদেমুল শরীরে ধান বেঁধে হাজির হন। সভায়অনেকেরই নজর কাড়েন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হঠাৎ খুলনায় মুসলিম লীগ সরব হয়ে উঠেছে। প্রাচীন সংগঠনটি খুলনার তিনটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে যায়নি। সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সমর্থন দিচ্ছে মুসলিম লীগ।
২ ঘণ্টা আগে