Ajker Patrika

নেছারাবাদে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট, দুর্ভোগে কয়েক হাজার গ্রাহক

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 
আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ১০: ১৪
নেছারাবাদে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট, দুর্ভোগে কয়েক হাজার গ্রাহক
ফাইল ছবি

নেছারাবাদ উপজেলার উচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বৈদ্যুতিক ফিডারে চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক হাজার গ্রাহক।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, দিনে ৪-৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তাঁরা। সামান্য ঝড়বৃষ্টি কিংবা বাতাস হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের চারটি ফিডারের মধ্যে দুটি ফিডারে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও পঞ্চবেকী বাজার হয়ে রাজাবাড়ী, বিন্না, বলদিয়া এলাকার অধিকাংশ অংশ হয়ে দৈহারীর ঠাকুরালা এবং সুটিয়াকাঠি ভয়েস স্কুল থেকে বৈঠাকাঠা বাজারের পূর্বপাড় পর্যন্ত বিস্তৃত দুই ফিডারে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংকট চলছে। বিষয়টি কৌড়িখারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জানে আলমকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। এ জন্য পশ্চিম তীরে চারটি উচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক ফিডার রয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চবেকী বাজার হয়ে রাজাবাড়ী, বিন্না ও বলদিয়া এলাকার বড় অংশ এবং দৈহারী ঠাকুরালয় পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলসহ সুটিয়াকাঠি ভয়েস স্কুল থেকে বৈঠাকাঠা বাজারের পূর্বপাড় পর্যন্ত দুটি ফিডারে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে সামান্য বৃষ্টি বা ঝোড়ো বাতাসেই শুরু হয় বিদ্যুতের লুকোচুরি। বড় ধরনের ঝড় বা বন্যার সময় অনেক ক্ষেত্রে ১০-১৫ দিন পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা মেলে না।

অপর দিকে চাঁদ মিয়া স্কুল থেকে নান্দুহার এবং ইন্দুরহাট বাজার হয়ে নাওয়ারা পর্যন্ত অন্য দুটি ফিডারে তুলনামূলকভাবে নিয়মিত বিদ্যুৎ-সরবরাহ বজায় থাকে। ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের দাবি, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাস ওই এলাকাগুলোতে হওয়ায় সেখানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়।

বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামের কৃষক রতন দাস বলেন, ‘আমরা দিনে ৩-৪ ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না। সেচ ও ধান ভাঙানোসহ কৃষিকাজে চরম সমস্যায় পড়তে হয়।’ বলদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই; তা-ও কয়েক মিনিট পরপর চলে যায়। এতে ভোগান্তির শেষ নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী বলেন, আগে বছরে কয়েকবার লাইনের পাশের গাছপালা পরিষ্কার করা হলেও বর্তমানে তা নিয়মিত হয় না। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা গাছের ডাল লাইনে স্পর্শ করলেই বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক সময় লাইন ছিঁড়ে যায়।

বলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল মিয়া অভিযোগ করেন, আগে এলাকায় এত বিদ্যুৎ সমস্যা ছিল না। ঝড়-বন্যা মৌসুমের আগেই গাছপালা পরিষ্কার করা হতো এবং সরবরাহও ভালো ছিল। বর্তমান ডিজিএম দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৌড়িখারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জানে আলম বলেন, ৩ ও ৫ নম্বর ফিডারের ভৌগোলিক অবস্থান, গাছপালা বেশি থাকা এবং গ্রামীণ এলাকা হওয়ায় বৃষ্টি ও বাতাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, সময়মতো লাইনের পাশের গাছপালা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ‘ধান কাটার মৌসুম চলায় শ্রমিক সংকট থাকায় লাইন পরিষ্কার কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত